<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/" xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"><channel><title>Chernobyl  : এক কালো অধ্যায় ও এক কালো ছত্রাক</title><atom:link href="https://bengali.abplive.com/blog/feed" rel="self" type="application/rss+xml"/><link>https://bengali.abplive.com/</link><description/><lastBuildDate>Tue, 7 Apr 2026 09:01:40 +0530</lastBuildDate><language>en-US</language><sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod><sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency><generator>https://bengali.abplive.com</generator><item><title><![CDATA[Rahul Arunoday Banerjee : যে হাসিটা চির অমলিন...]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/suman-de-blog-reminiscence-bengali-actor-rahul-arunoday-banerjee-1171348</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/suman-de-blog-reminiscence-bengali-actor-rahul-arunoday-banerjee-1171348#respond</comments><pubDate>Sun, 29 Mar 2026 22:50:15 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ সুমন দে ]]></dc:creator><category><![CDATA[ জেলার ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/suman-de-blog-reminiscence-bengali-actor-rahul-arunoday-banerjee-1171348</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;সুমন দে&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কী বলব জানিনা !&amp;nbsp;&lt;br /&gt;বহু বছরের অভ্যেস, কোনও লেখা খুব ভালো লাগলে, সপ্তাহশেষে আবার পড়ার জন্য রেখে দিই... গতকালই আমার স্ত্রী আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে ছাপা একটা পুরনো লেখা পড়ে বলল , &quot;কী করে এই লেখাটা মিস করে গেলে ?অসাধারণ...পড়ে দেখো!&quot;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;লেখকের নাম রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;রাহুলের সঙ্গে পরিচয় তো আজকের নয় । ওর প্রথম ফিল্ম সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সুপারহিট হওয়ার পর, আমার &amp;lsquo;হ্যালো ভিআইপি&amp;lsquo;-শোতে অতিথি , রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা। সদ্য রাজ চক্রবর্তীর ফিল্ম &quot;চিরদিনই তুমি যে আমার...&quot; তার আগের বাংলা ছবির সমস্ত বক্স অফিস রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে ! মোহরকুঞ্জে সাক্ষাৎকারটা শেষ হওয়ার পর মনে হল, আহা সময়টা বোধহয় সত্যিই বদলালো...এইরকম সহজ-সরল চনমনে দুটো ছেলেমেয়ে বক্স অফিস কাঁপানো নায়ক নায়িকা হয়েছে আর মানুষ তাদের নিয়েছে -- এটাই তো বাংলা ছবির সাবালকত্বের আসল পরিচয়।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;তারপর বছর গড়ালো..রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা বিয়ে করল। সেই বিয়ে কেন এবিপি আনন্দ কিঞ্চিৎ &amp;lsquo;বেশি&amp;rsquo; দেখিয়েছে -- সেই নিয়ে কিছু ছিদ্রান্বেষী মানুষ বিতর্ক করেছিল যথারীতি! যথারীতি আমি পাত্তাই দিইনি। তার কয়েক বছর পর সাউথ সিটি মলে হঠাৎ দেখা ! রাহুলই সম্ভবত বাংলা ছবির একমাত্র নায়ক যে সম্পূর্ণ ম্যাড়ম্যাড়ে সাদামাটা পোশাকে চামড়ার চপ্পল পায়ে সাউথ সিটি মলে অনায়াসে ঘুরে বেড়াতে পারে! দুহাত ধরে বলল, &quot;আমাদের ছেলে হয়েছে সুমনদা, নাম রেখেছি-সহজ।&quot; এত ভালো লেগেছিল সেদিন...&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;সেই রাহুলই যখন পডকাস্ট শুরু করল, কী চমৎকার নামটা দিল - &amp;lsquo;সহজ কথা&amp;lsquo;! বহুবার সেই সহজ কথায় আমায় ডেকেছে এবং পেশাগত বাধ্যবাধকতার কারণে যেতে পারিনি...ওকে &amp;lsquo;না&amp;lsquo; বলতেও খারাপ লেগেছে । আমার &amp;lsquo;মহাযুদ্ধ&amp;lsquo; থেকে &amp;lsquo;যুক্তি-তক্কো&amp;lsquo; অনুষ্ঠানের রাহুল নিয়মিত অতিথি। অসাধারণ বলত আর অনুষ্ঠান শেষ হলেই কাঁচুমাচু মুখে বলত,&quot;সুমনদা আজ খুব ঝুলিয়েছি না?&quot;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ভন্ডামো আর সেফ খেলার এই বাজারেও, রাহুল কোনওদিন বামপন্থায় তার বিশ্বাস গোপন করেনি -- না লেখায়, না বক্তৃতায় । সামনের মাসে &amp;lsquo;যুক্তি-তক্কো&amp;lsquo;-র অন্যতম বক্তা ছিল রাহুল। শো-টা হবে, কিন্তু নিতান্ত গোবেচারা মুখে জ্বলন্ত দৃষ্টি আর ভীষণ রকম তীক্ষ্ণ কটাক্ষগুলো আর থাকবে না সেই অনুষ্ঠানে। কী বলব &amp;nbsp;এটাকে রাহুল ? এইটা হল সত্যিকারের &amp;lsquo;ঝুলিয়ে দেওয়া&amp;lsquo; ... আমাদের মত গুণমুগ্ধ সবাইকে...&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ওর অভিনয়ের গুণমুগ্ধ তো সবাই , আমি অবশ্য বেশি ভক্ত রাহুলের লেখার । সালটা সম্ভবত ২০১৮। আজকের মত এমনই রবিবারের এক সকাল। &amp;lsquo;সংবাদ প্রতিদিন&amp;lsquo;-এর &amp;lsquo;রোববার&amp;lsquo; পত্রিকায় একটা লেখা একেবারে নজর কেড়ে নিল। প্রচ্ছদকাহিনী - কলোনি । লেখার নাম -&amp;lsquo; শুধু যাওয়া আসা&amp;lsquo;। লেখকের নাম - অরুণোদয়। শুধু অরুণোদয়। সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ-এ জিজ্ঞেস করলাম। উত্তর এলো-&quot;Din bhalo hoye gelo Suman da. Tumi porechho amar khub anondo holo. Rahul&quot; সেই শুরু । তারপর যেখানেই লেখা প্রকাশিত হয় রাহুল পাঠাতে ভোলে না।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/03/29/a36072652097f479aec137237064f5cc177480464920464_original.jpeg&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কী অদ্ভুত অপার্থিব সমাপতন ! আজ ঠিক যে মুহূর্তে এই ভয়ংকর অবিশ্বাস্য খবরটা এলো, আমার হাতে ধরা আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে ওরই লেখা। কালো অক্ষরগুলোতে বলিষ্ঠ শিরোনাম - &quot;যে ভোর চির অমলিন&quot;...&lt;br /&gt;লেখা ছাপিয়ে এগিয়ে আসছে সেই মুখটা ... যে হাসিটা চির অমলিন...&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/03/29/deb395823810bf8be2f2a289a1f26cfb177480472275964_original.jpeg&quot; width=&quot;1020&quot; height=&quot;932&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;১৭ বছর আগে আমার প্রথম নেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল বলেছিল , ওই বিজয়গড় এলাকা থেকে ও আর কোথাও কখনও যেতে পারবে না... আসলে রাহুল আমাদের ছেড়ে কোনওদিন কোথাও যেতে পারবে না। কোনও তালসারির জলস্রোতের সাধ্য নেই রাহুলকে কেড়ে নেয়।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;বাঙালির শব্দে, বাঙালির ছবিতে - রাহুল ছিল, আছে, থাকবে । যে হাসিটা চির অমলিন...&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/03/29/ef1d81e2882eb777789f702e52346bbf177480456906664_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[জামায়েতের এই উত্থান ভারতের পক্ষে চিন্তার কারণ হতে পারে]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/bangladesh-election-2026-the-rise-of-jamaat-may-be-a-cause-for-concern-for-india-arnab-saha-column-1167301</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/bangladesh-election-2026-the-rise-of-jamaat-may-be-a-cause-for-concern-for-india-arnab-saha-column-1167301#respond</comments><pubDate>Fri, 13 Feb 2026 19:43:18 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ অর্ণব সাহা ]]></dc:creator><category><![CDATA[ খবর ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/bangladesh-election-2026-the-rise-of-jamaat-may-be-a-cause-for-concern-for-india-arnab-saha-column-1167301</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;অর্ণব সাহা&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;টানটান উত্তেজনা, বিক্ষিপ্ত গণ্ডগোল, উত্তেজনা ও ৬০ শতাংশেরও কম ভোট পড়ার পর অবশেষে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হতে চলেছে। এখনও অব্দি পাওয়া খবর অনুযায়ী ৩০০ আসনবিশিষ্ট সংসদের যে ২৯৯ টিতে ভোট হয়েছিল, তার নিরিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) ২১২ টি এবং বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী দল ৬৭ টি আসন পেয়েছে। ২০২৪-এর শেখ হাসিনা-বিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখ কাণ্ডারী ছাত্র-আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা এনসিপি পেয়েছে মাত্রই ৫ টি আসন এবং অন্যান্য দলগুলি ১১ টি আসন। দুপুর সাড়ে এগারোটা নাগাদ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ২০০৮-এর নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ বিপুল ভোটে জিতে সরকার গঠনের পর এই প্রথম আরও একটি তুলনামূলক &amp;lsquo;স্বচ্ছ&amp;rsquo; নির্বাচন দেখল বাংলাদেশ। কারণ, আওয়ামী জমানায় ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এর ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। কার্যত, নির্ধারিত দিনে নয়, তার আগের রাতেই ভোট সমাধা হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। নির্বাসিত তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার বিএনপি শেষ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। জামায়াতও সেই ভোটগুলোতে অংশগ্রহণে বিরত থেকেছে। হাসিনা সরকারের লাগামছাড়া দুর্নীতি, সরকার-ঘনিষ্ঠ ক্ষুদ্র মুষ্টিমেয় একটি অলিগার্কির হাতে সম্পদ এবং ক্ষমতার বিপুল অংশের কুক্ষিগত হওয়ার পাশাপাশি সমস্ত বিরোধী শক্তিকে নির্মমভাবে দমন করে হাসিনা যেভাবে কার্যত স্বৈরতন্ত্রকেই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তার বিরুদ্ধেই ছিল &amp;lsquo;জুলাই অভ্যুত্থান&amp;rsquo;। সেই সমবেত ক্ষোভের আঁচেই আওয়ামী লিগ এইবার ভোটে নিষিদ্ধ। জনগণ ব্যাপক সমর্থন দিয়ে ফিরিয়ে এনেছেন বিএনপিকে। এমনকি সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি &amp;lsquo;জুলাই সনদ&amp;rsquo; অর্থাৎ সংবিধানের গণতন্ত্রীকরণের দাবিতে যে গণভোট হল এবার, তাতেও দেখা যাচ্ছে প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষ &amp;lsquo;জুলাই সনদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ, মানুষ সংবিধানের সদর্থক পরিবর্তন চাইছেন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/02/13/1d0c0435a68be2b717a3df6ab949a829177099187182964_original.jpg&quot; width=&quot;1140&quot; height=&quot;687&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;বিএনপির এই জয় প্রত্যাশিত হলেও ভারতের পক্ষে সবচেয়ে চিন্তার হয়ে উঠতে পারে, এই নির্বাচনে জামায়াতের মতো একটি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, রাজাকার-আলবদর-আল শাম্&amp;zwnj;স-এর মতো গণহত্যাকারী পাকিস্তানপন্থী দলের এতোগুলো আসন পাওয়া এবং প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠা। জামায়াত হিন্দুসহ সবরকম সংখ্যালঘু-বিদ্বেষী একটি দল। তারা লাগাতার হিন্দু, বৌদ্ধ, লিবারাল মুসলিম, চাকমা-সহ অন্যান্য উপজাতির মানুষজনের বিরুদ্ধে শারীরিক নৃশংস আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। তারা ভেঙেছে লালনপন্থী সহ একাধিক উদার ইসলামি ঘরানার প্রার্থনাস্থল, মাজার। একইসঙ্গে জামায়াত প্রবলভাবে নারীবিদ্বেষী। তাদের এবারের গোটা প্রার্থীতালিকায় একজনও নারী প্রার্থী ছিল না। ১৯৯১ থেকে পরপর যে চারটি নির্বাচনে তারা ভোটে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রাপ্ত আসনের সংখ্যা যথাক্রমে ১৭, ৩, ১৫ এবং ২। সেদিক থেকে দেখলে তারা আর বাংলাদেশের রাজনীতির প্রান্তিক শক্তি নয়, বরং প্রবল নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠেছে আজ। আর কে না বোঝে, জামায়াতের এই উত্থান পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে তাদের কাউন্টারপার্ট হিন্দুত্ববাদীদেরই হাত আরও শক্ত করবে! বিশেষত, পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে চাইছে বিজেপি, সেখানেও বাংলাদেশের কট্টর শরিয়তি জামায়াতের এই শক্তিবৃদ্ধি বিজেপির ইকোসিস্টেমকেই পুষ্ট করবে আরও। ফলত, আপাতত, বিএনপির এই জয় বাংলাদেশ তথা গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুক্তবুদ্ধি, লিবারাল চেতনার কাছে স্বস্তির কারণ হলেও এটা পরিষ্কার হয়ে গেল, ধর্মীয় আত্মপরিচিতির দক্ষিণপন্থী রাজনীতিই এখন দ্রুত গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে সর্বত্র, কী বাংলাদেশে, কী পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারত তথা গোটা সাউথ-ইস্ট এশিয়াতে। জামায়াত কিন্তু আজ অব্দি একাত্তরে তাদের গণবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়নি। ফলত, আস্তিনে লুকোনো বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক তাস তারা যে আবারও বড়ো চেহারায় বের করবে না এবং বিএনপি সরকারকে ড্যামেজের চেষ্টা চালাবে না, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/02/13/2094fa68cfbcc69b0293cc1306a89e3f177099198076464_original.jpg&quot; width=&quot;911&quot; height=&quot;507&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;সর্বোপরি দুর্ভাবনার এটাই যে, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব যে ছাত্র-যুব জনতার হাতে ছিল, তার নেপথ্যে আসলে জামায়াতের মতো প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির মেটিকুলাস ডিজাইনই ছিল মুখ্য&amp;mdash;এটা আজ দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। তাই ছাত্র-যুবদের হাতে গড়ে ওঠা এনসিপির বৃহদংশ এবার সরাসরি জোট &amp;nbsp;করেছিল জামায়াতের সঙ্গেই। আর তাদের বামপন্থী-মধ্যপন্থী অংশটি শেষ অব্দি এনসিপি থেকে বেরিয়ে &amp;nbsp;গিয়ে সাবেক বাংলাদেশি বামেদের &amp;lsquo;গণ-সংহতি আন্দোলন&amp;rsquo;-এর জোটে যুক্ত করেছেন নিজেদের। এই জোট শেষ খবর পাওয়া অব্দি মাত্র একটি আসনেই জয়লাভ করেছে। উল্টোদিকে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের আহ্বান&amp;mdash;&amp;ldquo;মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী সকলের সমানাধিকারের বাংলাদেশ গড়তে চাই&amp;rdquo; ছিল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি সদ্য শেষ-হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনগুলোতে জামায়েতপন্থী &amp;lsquo;ছাত্রশিবিরের&amp;rsquo; একের পর এক জয়, বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জয়লাভ করা থেকে এটাই বোঝা যায়, &amp;lsquo;ছাত্রশিবির&amp;rsquo; অত্যন্ত সংগোপনে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধি করেছে যুবসমাজের তথাকথিত প্রগতিশীল মহলের অন্দরেও। আবার তারেক রহমানের &amp;lsquo;ফ্যামিলি কার্ড&amp;rsquo; প্রকল্প, যা পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জির &amp;lsquo;লক্ষ্মীর ভাণ্ডার&amp;rsquo;-এর অবিকল প্রতিরূপ, যাতে প্রত্যেক পরিবারের মহিলাদের ২৫০০-৩০০০ টাকা দেবার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা ব্যাপকভাবে কার্যকরী হয়েছে। মহিলারা ঢেলে ভোট দিয়েছেন বিএনপিকে। একইসঙ্গে গোটা দেশ জুড়ে বামপন্থী-লিবারালদের শোচনীয় খারাপ ফলাফল এটাই প্রমাণ করে &amp;lsquo;পরিচিতিসত্তা&amp;rsquo;র রাজনীতির এই একুশ শতকীয় বিশ্বজোড়া উত্থানের সামনে তারা অসহায়। বামপন্থাকে নতুনভাবে আবিষ্কারের কষ্টকর ও শ্রমসাধ্য কাজটি না চালিয়ে গেলে তারা অবলুপ্ত হয়ে যাবেন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;বিএনপির এই জয় আপাতত স্বস্তির। কিন্তু ইসলামি কট্টরপন্থী জামায়াতের এই প্রবল উত্থান ভারতের পক্ষে নিশ্চিত শিরঃপীড়ার কারণ হতে চলেছে আগামীদিনে। বিশেষত, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে থাকব আমরা।&lt;/p&gt;
&lt;div id=&quot;article-hstick-inner&quot; class=&quot;abp-story-detail abp-story-detail-blog&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;artpay paywall&quot;&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;*&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;লেখক কলকাতার শেঠ আনন্দরাম জয়পুরিয়া কলেজের শিক্ষক।&lt;strong&gt; মতামত লেখকের নিজস্ব।&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/02/13/f19379cb50015d6868d02c197538b19f177099173010964_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[AQI ভ্রম : তথ্য উধাওয়ের জেরে বানচাল হচ্ছে দেশের দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই !]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/air-quality-index-illusion-why-indias-pollution-fight-is-collapsing-under-missing-data-opinion-1163928</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/air-quality-index-illusion-why-indias-pollution-fight-is-collapsing-under-missing-data-opinion-1163928#respond</comments><pubDate>Mon, 5 Jan 2026 22:11:37 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ জাস্টিন এম ভারুচা ]]></dc:creator><category><![CDATA[ স্বাস্থ্য ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/air-quality-index-illusion-why-indias-pollution-fight-is-collapsing-under-missing-data-opinion-1163928</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ সংক্রান্ত স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলাটির শুনানি করছে বোম্বে হাইকোর্ট। এবং সাম্প্রতিক শুনানিগুলি বায়ুদূষণের এই যে অবস্থা (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স), এই যে সংকট, তার সঙ্গে যুক্ত মৌলিক সমস্যাগুলিকে তুলে ধরেছে &amp;ndash; দূষণের উৎসগুলি সঠিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব রয়েছে আমাদের, এবং দূষণ কমাতে গৃহীত পদক্ষেপগুলিও আমরা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করি না।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;সম্প্রতি সংসদে কেন্দ্র জানায়, উচ্চ বায়ুদূষণ সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স এবং ফুসফুসের সমস্যার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনও তথ্য নেই। আর এই তথ্যে নড়েচড়ে বসেছেন অনেকে। তবে, এই বিষয়টি কেউ উল্লেখ করেননি, যে, এই এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স সংক্রান্ত কোনও তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের জন্য কোনও উদ্যোগ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। সম্পর্কযুক্ত হোক বা কার্যকারণমূলক - কোনও একটি সংযোগ যে বিদ্যমান, তা স্পষ্ট। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের একই জবাবে &quot;...বায়ুদূষণ সম্পর্কিত অসুস্থতাগুলিকে কেন্দ্র করে উপকরণ তৈরির...&quot; (&lt;/span&gt;&lt;em&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;&amp;ldquo;&amp;hellip;development of material targeting Air Pollution related illnesses&amp;hellip;&amp;rdquo;&lt;/span&gt;&lt;/em&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;) কথা বলা হয়েছে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আমাদের দেশে বায়ুদূষণ যখন অন্যতম প্রধান সমস্যা, তখন, এই উপযুক্ত ডেটার অভাব একটি সাধারণ সমস্যা। সপ্তাহের শুরুতে শুনানির সময় বোম্বে হাইকোর্ট অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এও উল্লেখ করেছে যে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে বসানো বেশ কয়েকটি দূষণ সেন্সর কাজই করছে না।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;এটা উল্লেখ্য যে, নির্মাণস্থলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা কার্যকর না হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সেই নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য BMC-র আপাত প্রচেষ্টার মধ্যেকার ফারাকটি নিয়ে হাইকোর্টকে প্রশ্ন তুলতে হয়েছে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;বিএমসি-র আপাতত নথিগত প্রমাণ, বা যাকে তথ্য বলা যেতে পারে, তা থেকে মনে হয় যে তারা যথাযথভাবে কাজ করেছে। কিন্তু, শহরের পরিস্থিতি অবশ্য অন্য কথাই বলে, এবং আমাদের এই মেগাসিটিতে (এবং সম্ভবত আমাদের সমস্ত শহুরে জনবসতিতে) স্থানিক তারতম্য ও জনসংখ্যার ঘনত্বকে আমলে না নেওয়া একটি দূষণ সেন্সর নেটওয়ার্ক আমাদের এবং আদালতকে এক শূন্যতার মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;সমস্যা অনেক বড়,&amp;nbsp; মনোযোগ অতি সামান্য&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আশ্চর্যজনক যে, মহামারীর পর আমরা যে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছি, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম মনোযোগ পাচ্ছে। আমি যেমনটা সবসময় বলে এসেছি, আমরা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত &amp;ndash; আমরা একই বাতাসে শ্বাস নিই, এবং এখন প্রতিটি শ্বাসের সাথে বিপুল পরিমাণ দূষিত জিনিসপত্র শরীরে প্রবেশ করে যা স্বাস্থ্যের জন্য স্পষ্টতই ক্ষতিকর। মুম্বই বা দিল্লিতে একদিনের শ্বাস-প্রশ্বাসকে (অত্যন্ত বিপুল সংখ্যক) ধূমপানের সমতুল বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়, তা আমরা পড়ি এবং তারপর নির্বিকারভাবে নিজেদের কাজ চালিয়েও যাই !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;অন্ততপক্ষে, আমরা যে বর্তমান ও আসন্ন অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি, তা উপেক্ষা করে যাচ্ছি ; সহজভাবে বলতে গেলে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রের খরচ অনেক বেশি, এবং আমাদের বায়ুদূষণ ও সংকটের স্বাস্থ্যগত পরিণতি সম্পর্কে আমরা যা জানি, তা এই সীমিত পরিসরেও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/01/05/54f63ab6d0ea7e488b3bd31b299cdcd9176763363721964_original.jpg&quot; width=&quot;782&quot; height=&quot;526&quot; /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;অনেকগুলি কারণ আমাদের এহেন পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করিয়েছে। খণ্ডিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা&amp;nbsp; (fragmented regulation) বাস্তব জগতে সীমিত বা অস্তিত্বহীন প্রয়োগ ও ফলাফল সহ উচ্চাকাঙ্খামূলক নীতি, এবং আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী নির্মল বাতাসের লক্ষ্য ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক বাস্তব প্রয়োজনীয়তা - সবই এর অন্তর্ভুক্ত।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আমার মতে, এই সবকিছু দুটি প্রধান ত্রুটি থেকেই উদ্ভূত : তথ্যের অভাব এবং প্রত্যক্ষ আর্থিক ইনসেনটিভ ও ডিসইনসেনটিভের অভাব। অন্যান্য সমস্ত কারণ, এবং এই প্রবন্ধে তার মধ্যে কয়েকটি মাত্র উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই প্রধান ত্রুটিগুলো সমাধান না করে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;ডেটা কেন গুরুত্বপূর্ণ&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;তথ্য (data) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এলাকার দূষণ এবং এর উৎস সম্পর্কে জানতে হবে আমাদের । উদাহরণস্বরূপ, মুম্বাইয়ের বাতাসের মান সূচক সেন্সর নেটওয়ার্কটি বছরের পর বছর ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, কিন্তু এটি প্রতিটি ওয়ার্ডকে কভার করে না, অথচ প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকাকে এটির কভার করা উচিত। আমাদের যথাযথভাবে ক্রমাঙ্কিত, স্বল্প খরচের এবং এলাকাভিত্তিক ঘন সেন্সর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেন্সরের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে এগিয়ে যেতে হবে, যা বর্তমান তথ্য প্রবাহে যুক্ত হবে। দূষণ পর্যবেক্ষণ এবং এর উৎস চিহ্নিত করার জন্য আমাদের একটি কার্যকর ডেটা নেটওয়ার্কের জরুরি প্রয়োজন।&lt;/span&gt;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;উৎস শনাক্তকরণের বিষয়টি আরেকটি ডেটা ঘাটতিকে সামনে আনে : আমরা নিজেদেরকে যতই ম্যাক্সিমাম সিটি এবং &lt;em&gt;Urbs Prima&lt;/em&gt; হিসেবে গণ্য করি না কেন, আমরা MMR-এর বায়ু অঞ্চলের অংশ এবং সেই প্রেক্ষাপটেই বায়ু দূষণকে বোঝা প্রয়োজন, বিশেষ করে দৈনিক স্থল ও সামুদ্রিক বাতাসের কথা বিবেচনা করলে, যা যুক্তিসঙ্গতভাবেই &lt;em&gt;MMR&lt;/em&gt; জুড়ে বায়ু দূষণ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে বলে আমরা ধরে নিতে পারি। বৃহত্তর MMR-এর দূষণ কি সত্যিই শহরটিকে প্রভাবিত করে ? বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের যুক্তি থেকে মনে হয় যে এটি করে, কিন্তু, আমরা শুধু এটুকুই জানি যে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানি না।&lt;/span&gt;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বুঝতে চাইলে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতেই হবে। স্বচ্ছভাবে তথ্য ভাগ করে নেওয়াও সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এবং আমাদের বাতাসের মানের সংকটের যে স্বাস্থ্যগত বা অর্থনৈতিক, যদি সেটি বেশি প্রাসঙ্গিক হয় - পরিণতি কমাতে সাহায্য করবে। আমাকে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে, ২০২৩ সালে MPCB, CSIR&amp;ndash;NEERI এবং আইআইটি বোম্বে কর্তৃক মুম্বইয়ের জন্য পরিচালিত বায়ু গুণমান পর্যবেক্ষণ, নির্গমণ তালিকা এবং উৎস বিভাজন গবেষণায় এই বিষয়গুলো এবং আরও অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছিল, কিন্তু স্পষ্টতই, এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য খুব কমই কাজ করা হয়েছে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;একইসঙ্গে, আমাদের প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করতে হবে। কর এবং বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে কার্যকর করা ইনসেনটিভ এবং ডিসইনসেনটিভের একটি কাঠামো আমাদের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আপাত উদাসীনতা পরিবর্তন করতে পারে। এই প্রক্রিয়াগুলি নিয়ে ভারতের সাম্প্রতিক ও সফল অভিজ্ঞতা রয়েছে, এবং আমাদের শ্বাসকষ্টের সংকট মোকাবিলায় এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো উচিত।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;অবশ্যই, এই সবকিছুর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য নীতিগত উদ্যোগ এবং শক্তিশালী আইন প্রণয়নমূলক সদিচ্ছা প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের এই দিকে এগিয়ে যাওয়া শুরু করতে হবে। ততদিন পর্যন্ত, আমরা আমাদের শ্বাস নেওয়া যে বাতাস তাকে দেখতেই থাকব এবং আশ্চর্যজনকভাবে আমরা কী দেখছি তা বুঝতেই পারব না।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক &lt;em&gt;Bharucha &amp;amp; Partners-এর ম্যানেজিং পার্টনার। মতামত লেখকের নিজস্ব।&amp;nbsp;&lt;/em&gt;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lt;em&gt;Disclaimer: The opinions, beliefs, and views expressed by the various authors and forum participants on this website are personal and do not reflect the opinions, beliefs, and views of ABP Network Pvt. Ltd.&lt;/em&gt;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/01/05/4c6b9d1c91c42a8bd5a953d738231c6c176763076839064_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[Suman De's Blog : একাকার এপার-ওপার]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/suman-de-blog-to-the-brothers-and-sisters-of-bangladesh-on-bhai-phonta-1156745</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/suman-de-blog-to-the-brothers-and-sisters-of-bangladesh-on-bhai-phonta-1156745#respond</comments><pubDate>Thu, 23 Oct 2025 01:24:07 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ সুমন দে ]]></dc:creator><category><![CDATA[ কলকাতা ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/suman-de-blog-to-the-brothers-and-sisters-of-bangladesh-on-bhai-phonta-1156745</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;সুমন দে : ১৯৩৩ সালের মাঝামাঝি প্রফুল্ল কুমার সরকারের মাথায় এল যে আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে আলাদা একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যদি প্রকাশ করা যায় । কিন্তু নামকরণ কে করবেন ? অনেক ভেবেচিন্তে &amp;lsquo;পরশুরাম&amp;lsquo; অর্থাৎ রাজশেখর বসুকে এই কাজের জন্য নির্বাচন করা হয়। প্রফুল্লবাবুর অনুরোধে রাজশেখর বসু এই নতুন পত্রিকার নামকরণ করলেন - &quot;দেশ&quot;। ১৯৩৩ সালের ২৪শে নভেম্বর জন্ম নিল বাংলা সাহিত্যের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা - &amp;lsquo;দেশ&amp;lsquo;। আমাদের প্রজন্মের বেড়ে ওঠার সঙ্গেও এই পত্রিকা ভীষণভাবে জড়িয়ে আছে । সেই &amp;lsquo;দেশ&amp;lsquo; পত্রিকায় বাংলাদেশ নিয়ে আমার একটি লেখা অন্যতম প্রচ্ছদকাহিনী হিসেবে গতবছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল। টেলিভিশনে বিস্তারিত আলোচনার খুব একটা সুযোগ থাকে না বলে বহু কথাই অডিও-ভিসুয়াল মাধ্যমে বলা সম্ভব হয়ে ওঠে না। &amp;lsquo;দেশ&amp;lsquo; আমাকে সেই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তারপর গঙ্গা এবং পদ্মা দিয়ে বহু গ্যালন জল গড়িয়ে গেছে , কিন্তু কিছু বিশ্লেষণ বোধহয় এখনও প্রাসঙ্গিক লাগতে পারে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;&amp;ldquo;দ্বেষ, দেশ ও রাজ্য &amp;ldquo;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;lsquo;হরপ্রসাদদাদা, গ্রাম ছাড়ার সময়ে তুমি যে বলেছিলে আমরা নতুন বাড়িতে যাচ্ছি, এটাই কি সেই নতুন বাড়ি ?&amp;rsquo;&amp;ndash;ছোট্ট সীতা অবাক চোখে জিজ্ঞেস করছে পাবনা থেকে সদ্য কলকাতার &amp;lsquo;নবজীবন কলোনি&amp;rsquo;-তে কোনওরকমে মাথা গুঁজতে পারা ছিন্নমূল দাদার বন্ধুকে। ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণরেখা-র ছোট্ট সীতার সেই সরল প্রশ্নটাই যেন যুগ যুগ ধরে কানাগলিতে ঘুরে, প্রেক্ষিত পাল্টে পাল্টে চিরস্থায়ী ভৃগুচিহ্ন এঁকে দিয়েছে ইতিহাসলাঞ্ছিত এক জাতির বুকে। সময়ের ঘাত-প্রতিঘাতে উত্তাল জলরাশির ওপর ডিঙিনৌকার মতোই, কখনও ভেসে-কখনও ডুবে, এই মুহূর্তে আবার এক-সমুদ্র অনিশ্চয়তার মধ্যে এনে ফেলেছে বহুধাবিভক্ত বাঙালিকে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;আবার ভিটে হারানোর আশঙ্কা আর ছোট্ট সীতাদের নতুন বাড়ি খোঁজার অনিশ্চয়তার নামই আজকের বাংলাদেশ। আর এই মুহূর্তে সেই অনিশ্চয়তা, অগ্নিগর্ভ লাভার মতোই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের রাজ্যের ২২১৭ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত ধরে। কখনও কোচবিহার, কখনও জলপাইগুড়ির বেরুবাড়ি সীমান্তে জ়িরো পয়েন্টে ভারতে আসার সুযোগের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। বিএসএফ-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছেন, সীমান্তের এ পারে আসতে মরিয়া বাংলাদেশি জনস্রোতের চাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে ! অর্থাৎ, ওপারের পরিস্থিতি এমনই যে, হেমন্তর শিশিরমাখা ভোরে, কুবোপাখির অক্লান্ত ডাক আর হিজল, সুপারি, বাঁশ ঘেরা &amp;lsquo;ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়&amp;rsquo;-টিকে এক কথায় ছেড়ে প্রাণভয়ে কিছু শিকড়-উৎপাটিত ধুলোমাখা মানুষ, চরম অসহায়তায় ছেঁড়া কাঁথা, শতচ্ছিন্ন ন্যাকড়া-বাঁধা বোচকা-বুঁচকি ঘাড়ে-মাথায় নিয়ে পড়শি দেশের একই ভাষায় কথা বলা পড়শি রাজ্যটির দরজায় করাঘাত করছে। ঠিক যেমন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ থেকে ৭৭ বছর বয়সি বাবা, স্ত্রী, দুই ভাই আর পাঁচটা শিশুসন্তান নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে চলে আসা শঙ্কর সরকার গ্রেফতার হওয়ার পর থানায় বসে চিৎকার করে বলছিলেন, &amp;ldquo;মরতে হলে ভারতের মাটিতে মরব।&amp;rdquo; এই প্রজন্মটা বাপ-দাদার কাছে শুনছে, আজ থেকে ৫৪ বছর আগে এই দেশ তাদেরই মতো ৯৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩০৫ জনকে আশ্রয় দিয়েছিল। ৭টা রাজ্যে ৮২৫টা ক্যাম্প তৈরি হয়েছিল তাদের জন্য। ইন্দিরা গান্ধী নামে একজন ছুটে এসেছিলেন বনগাঁর ক্যাম্পে। প্রতিদিন তাদের পূর্বপুরুষদের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ৩০০ গ্রাম চাল, ১০০ গ্রাম আটা, ১০০ গ্রাম ডাল, ২৫ গ্রাম ভোজ্য তেল, ২৫ গ্রাম চিনি, মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট, কলেরা ভ্যাকসিন আর অনেকটা আত্মবিশ্বাস। সেই বিশ্বাস যে, ও দেশের অসহায় হাতটা ধরার জন্য অনেকগুলো হাত এ দেশে বাড়ানো আছে। সেই বিশ্বাসের বোধটা যেন বরাবর বলেছিল, &lt;em&gt;&amp;lsquo;দু&amp;rsquo;জনে বাঙালি ছিলাম, দেখরে কী কাণ্ডখান/ তুমি এখন বাংলাদেশী, আমারে কও ইন্ডিয়ান !&amp;rsquo;&lt;/em&gt; এই উথাল-পাথাল আবেগ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম আর সর্বোপরি, ইন্দিরা গান্ধীর হাত ধরে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ভৌগোলিক মানচিত্রের বদলে যাওয়া চুয়ান্ন বছর আগেও ভারতীয় রাজনীতিতে ও রাজ্যে রাজ্যে দীর্ঘ ছায়া ফেলেছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে তো বটেই, দলের মধ্যেও কামরাজ, নিজলিঙ্গাপ্পা, মোরারজি দেশাই, সঞ্জীব রেড্ডিদের &amp;lsquo;সিন্ডিকেট কংগ্রেস&amp;rsquo;-কে কার্যত দুরমুশ করে ১৯৭১-এর সাধারণ নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী ও তাঁর অনুগামীরা বিপুল জয় পেয়েছিলেন। আজ, চুয়ান্ন বছর পর, পড়শি রাষ্ট্রের যাবতীয় অনিশ্চয়তা কি এই দেশ আর এই রাজ্যকে আর-একটা রাজনৈতিক যুগসন্ধিক্ষণে এসে দাঁড় করিয়েছে? প্রতিবেশীর &amp;lsquo;হাত ধরার ভরসা&amp;rsquo; কি কালের নিয়মে ২০২৪-এ এসে এখন দ্রুত &amp;lsquo;ভোট টানার ভরসা&amp;rsquo;-র অঙ্কে পাল্টে যাচ্ছে? এই ঘটমান বর্তমানে রাজ্য-রাজনীতির চৌষট্টি খোপে, এই মুহূর্তে তো দেড়েকষে সেই হিসেবনিকেশই চলছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;রাজ্যের হিসেবে আসার আগে একবার দিল্লির হিসেবে ঢোকা যাক। এই হিসেবের একইসঙ্গে একটা সহজ এবং একটা জটিল দিক রয়েছে। সহজ সমীকরণটি বলছে, সীমান্তের ও পারে মুসলিম মৌলবাদী শক্তি যত তার দাঁত-নখ বের করবে, যত আজকের বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তানি কিংবা তালিবানি ছাপ সৃষ্ট হবে, তত সমানুপাতিক ভাবে হিন্দু-রাষ্ট্রবাদী ভাবধারা শক্তিসঞ্চয় করবে এবং তাতে রাজনৈতিক ভাবে সরাসরি বিজেপির লাভ হবে। জটিলতর হিসেবটি কিন্তু গৈরিক বলয়ের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের নিরিখে। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসুতে দৃশ্যত মোদী সরকারের সক্রিয়তা এবং প্রত্যাশিত আগ্রাসী কূটনীতির অভাবে হতাশ আরএসএস এবং অন্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। নজিরবিহীন ভাবে হিন্দুত্ববাদী নেতারা ১৯৭১-এর ইন্দিরা গান্ধীর তুলনা টেনে, মোদী সরকারের আপাত-নিষ্ক্রিয়তাকে কটাক্ষ করে বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোরতম পদক্ষেপের দাবি তুলছেন নিয়মিত! কট্টর হিন্দুত্ববাদী একাধিক নেতা তো ইতিমধ্যেই গত এক দশকে মোদী সরকারের আমলের কূটনৈতিক ব্যর্থতাকেও তুলে ধরছেন এই সুযোগে। প্রকাশ্যে বলছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে চিন আর পাকিস্তান তো &amp;lsquo;চিরশত্রু&amp;rsquo; ছিলই, কিন্তু নেপাল, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা আর এখন &amp;lsquo;বন্ধু&amp;rsquo; বাংলাদেশের সঙ্গে বৈরিতা, ভারতকে স্পষ্টত একঘরে করে দিয়েছে। লক্ষণীয়, অন্দরমহল থেকেই এই সমালোচনার ধার বাংলাদেশ-পরবর্তী সময়ে প্রায় বিরোধীদের ছুঁয়ে ফেলেছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এবার আসি রাজ্যের হিসেবে। অনেকের শুনতে খারাপ লাগলেও, বঙ্গ রাজনীতির বেশির ভাগটা এখন ধর্মীয় মেরুকরণসর্বস্ব। আর জি কর-উত্তর উপনির্বাচনে জয়ের &amp;lsquo;ছক্কা&amp;rsquo; হাঁকিয়ে শাসক তৃণমূল আত্মবিশ্বাসী। বাইরের বিরোধীদের থেকে কিঞ্চিৎ বেশি মনোযোগী ভিতরের উচ্চাভিলাষ দমনে। কিন্তু বাংলাদেশ ইস্যু রাজ্যের শাসকের পক্ষে ক্রমশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। যে ভাবে প্রধান বিরোধী দল সাধুসন্তদের সামনে রেখে রোজই রাজপথে নামছে, তার আঁচ শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বিস্তর পড়ছে, বিশেষত এই রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয়। অথচ এ রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটের প্রায় পুরোটাই ভরসা রাখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। কাজেই ওয়াকফ ইস্যু নিয়ে ঝাঁপাতে স্বচ্ছন্দ তৃণমূলের পক্ষে খুল্লমখুল্লা শুধুমাত্র হিন্দুদের পক্ষে আন্দোলনে নামা কঠিন। তাই এক ধরনের ভারসাম্যের রাজনীতি করাই তৃণমূলের বাধ্যবাধকতা, তাতে যতই মুসলিম-তোষণের অভিযোগ উঠুক না কেন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;আর ঠিক এইখানেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে প্রধান বিরোধী দল। শহরকেন্দ্রিক আর জি কর আন্দোলনে দাঁত ফোটাতে না-পারলেও বাংলাদেশে হিন্দু-নিগ্রহে সংখ্যাগরিষ্ঠদের আবেগ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে এ রাজ্যের গ্রামগঞ্জে। মূলত তিনটে কারণে এ রাজ্যে বিজেপির এই আকালেও ভবিষ্যতে আশার আলো দেখছেন দিল্লির নেতারা। প্রথম কারণ, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে যে নিঃশব্দ ধর্মীয় মেরুকরণ হয়েছিল, তা প্রমাণ করে দিয়েছে, বাংলাতেও মেরুকরণ সম্ভব। উগ্র হিন্দুত্বের জিগির তুলে নন্দীগ্রাম আসনে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর জয়, বঙ্গে মেরুকরণের বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে বিজেপির আশাবাদের দ্বিতীয় কারণটা হল সদ্যসমাপ্ত মহারাষ্ট্র ভোট। উন্নয়ন বা &amp;lsquo;সবকা বিকাশ&amp;rsquo;-এর পুরনো স্লোগান আলমারিতে তুলে রেখে সরাসরি হিন্দুত্বের তাস খেলে বিধানসভা ভোটে দুরন্ত কামব্যাক করেছে বিজেপি। বিরোধী শিবির যখন মরাঠা ভোট, ওবিসি ভোটে ভাগ বসাতে চাইছে, তখন স্রেফ হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করতে মহারাষ্ট্রে&amp;ndash;&amp;lsquo;বাটেঙ্গে তো কাটেঙ্গে&amp;rsquo; কিংবা &amp;lsquo;এক হ্যায় তো সেফ হ্যায়&amp;rsquo;-এর স্লোগান সটান দেবেন্দ্র ফডনবীশকে রাজ্যের তখত-এ বসিয়েছে। এবার আসি তৃতীয় কারণে। বিজেপির দিল্লির থিঙ্ক-ট্যাঙ্কদের কাছে এ রাজ্য নিয়ে আশার বাতিটা জ্বেলেছে পশ্চিমবঙ্গের মতোই আর-এক বাংলাদেশ-ঘেঁষা রাজ্য অসম। ১৯৫১ সালে যে-অসমে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ১২ শতাংশ, এখন তা পশ্চিমবঙ্গের ৩০ শতাংশের থেকেও বেড়ে ৩৪.২ শতাংশ। আর সেটাই হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের মেরুকরণের রাজনীতিকে পরপর দু&amp;rsquo;বার ডিভিডেন্ড দিয়ে রাজ্যের শাসনক্ষমতায় বসিয়েছে। কাজেই কেন্দ্রের শাসকদের যুক্তিমতো অসমে অনায়াসে গেরুয়া-শাসন সম্ভব হলে, পশ্চিমবঙ্গে নয় কেন? তবে বাংলা নিয়ে প্রবল আশাবাদী এই অংশকেও মানতে হবে, এ রাজ্যে ভোট হয় সংগঠনের জোরে। আর বুথস্তর-সংগঠনে এখনও রাজ্য বিজেপির কপালে পাসমার্কও জোটা কষ্টকর। তা ছাড়া শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির একটা অংশ আজও বিজেপি দলটাকে হৃদকমলে ঠাঁই দিতে পারেনি, খুব সম্প্রতি আর জি কর-কাণ্ড আর-একবার তা প্রমাণ করেছে। বাংলাদেশের হিন্দু-নিগ্রহ ইসু নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের আবেগ কি শেষ পর্যন্ত পারবে এ রাজ্যে বহিরাগত &amp;lsquo;তকমা&amp;rsquo; ঘুচিয়ে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে? প্রশ্নটা সেখানেই।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;তবে যা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই, তা হল, বঙ্গ রাজনীতির এই দ্বিমেরুকরণে আপাত ভাবে আরও দুই রাজনৈতিক শক্তির আরও কিছুটা প্রান্তিক হয়ে পড়া। প্রথমে আসি বামেদের প্রসঙ্গে। প্রবল বামবিরোধীদেরও মানতে হবে, বাংলাদেশ ইসুতে রাস্তায় নামতে বামেদের বিভিন্ন গণসংগঠন অন্তত দেরি করেনি। তবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু-নিগ্রহের প্রতিবাদের সঙ্গে, ভারতের সংখ্যালঘু (উত্তর প্রদেশের মহম্মদ আখলাখ, রাজস্থানের পেহলু খান), এমনকি প্যালেস্টাইন, গাজ়া-ভূখণ্ড জুড়ে গোটা বিষয়টাকে একটা আগমার্কা বামপন্থী আন্তর্জাতিকতাবাদের মোড়ক দেওয়া হচ্ছে রাজপথের বেশির ভাগ মিছিলে। ছিন্নমূল মানুষের কলোনি এলাকার ভোট যে কত দ্রুত হিন্দুত্ববাদীদের কব্জায় যেতে পারে, ১৯৯৮ আর ১৯৯৯-এর লোকসভা ভোটে তৎকালীন বামদুর্গ দমদম কেন্দ্রের তপন সিকদারের জয় চোখে আঙুল দিয়ে রাজ্যবাসীকে দেখিয়ে দিয়েছিল। বামেরা সম্ভবত আজও সেই শিক্ষা ভোলেনি বলেই, উপনির্বাচনে জামানত জব্দ হওয়া সত্ত্বেও পড়শি রাষ্ট্রের ঘটনা নিয়ে রাস্তায় নামতে আর দেরি করেনি। অতি-সীমিত শক্তি নিয়েও অবশ্য রাজপথে নামতে দেরি করেনি প্রদেশ কংগ্রেসও। কিন্তু এই চূড়ান্ত মেরুকরণের বাজারে তার প্রভাব বোঝাতে একটা উদাহরণই যথেষ্ট। প্রায় সকলের আগে প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন সভাপতি শুভঙ্কর সরকার পৌঁছে গেছিলেন বাংলাদেশে ধর্মীয় কারণে আক্রান্ত বেলঘরিয়ার যুবক বন্ধু সায়ন ঘোষের বাড়ি। আর পরের দিনই সায়নকে দেখা গেল রানি রাসমণি রোডের সাধুসন্তদের সভায় গেরুয়া উত্তরীয় কাঁধে অগ্নিবর্ষী ভাষণ দিতে। গোটা দর্শকমণ্ডলীকে হতবাক করে দিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সটান মঞ্চের ওপর তাঁর অর্ধেক বয়সি সায়নকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন। এই মুহূর্তে অতি-উচ্চগ্রামে বাঁধা মেরুকরণের রাজনীতির সঙ্গে যেন যোগ্য প্রতীকী সঙ্গত করল এ ছবি! বঙ্গরাজনীতির অচেনা বাঁক সন্দেহ নেই।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ইতিহাস সাক্ষী, চেনা প্রতিবেশীর দিক থেকে অচেনা আঘাত নেমে এসেছে বারবার। যখনই বাংলাদেশ অশান্ত হয়েছে, তার আঁচ এসে পড়েছে আমাদের রাজ্যে। ২০০১ সাল থেকেই বিভিন্ন ভারত-বিরোধী শক্তির আখড়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ভারত সরকারের গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময়ে ঢাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। এমনকি, উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের বেস সরিয়ে নিয়ে যায় ঢাকায়। খাদিমকর্তা অপহরণের অন্যতম মূল চক্রী মহম্মদ জালালুদ্দিন ওরফে বাবুভাই জেরায় কবুল করে, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে আসা টাকা ও প্রায় ১০০ কেজি বিস্ফোরক সে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তার জেরাতেই উঠে আসে, গত শতকের নয়ের দশক থেকে লস্কর-এ-তৈবা ও হুজি পশ্চিমবঙ্গে স্লিপার সেল গড়ে তুলেছে। সে স্পষ্ট কবুল করেছিল, সমস্ত স্লিপার সেলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় পশ্চিমবঙ্গেরগুলোই, যাদের মূল কাজ বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে আসা টাকা, বিস্ফোরক, এমনকি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গিদের ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছোতে সাহায্য করা। ২০১৪-র ২ অক্টোবর বর্ধমানে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এনআইএ তদন্তেও পরিষ্কার উঠে এসেছিল যে, বাংলাদেশের জঙ্গিগোষ্ঠী জামাত-উল-মুজাহিদিন বা জেএমবি এই রাজ্যে কতটা সক্রিয়। কাজেই এখন বাংলাদেশের কারা অধিদফতরের প্রধান এবং কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন যখন নৈর্ব্যক্তিক মুখে এবং ততোধিক উদাসীন কণ্ঠে তথ্য দিচ্ছিলেন যে, তাঁদেরই পরিভাষায় ১১ জন &amp;lsquo;শীর্ষ-সন্ত্রাসী&amp;rsquo;-কে তাঁরা এই ক&amp;rsquo;দিনে মুক্তি দিয়েছেন এবং অন্তত ৭০ জন জঙ্গি জেল-ভেঙে এখনও পলাতক, তখন প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং রাজ্য হিসেবে উদ্বেগ হয় বইকি। সবচেয়ে বড় কথা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পড়শি রাষ্ট্রের গত কয়েক মাসের এই উদাসীনতা নিঃসন্দেহে অচেনা। অচেনা আজ অনেক কিছুই। রাতারাতি অচেনা।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;পদ্মাপারে রবীন্দ্রনাথের &amp;lsquo;কুঠিবাড়ি&amp;rsquo; ছিল কুষ্টিয়া জেলাশহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে। জমিদারি পরিচালনার পাশাপাশি এই কুঠিবাড়ি আর পদ্মবোটে বসেই কবিগুরু লিখেছিলেন সোনার তরী, চিরকুমার সভা, চিত্রাঙ্গদা কিংবা &amp;lsquo;নষ্টনীড়&amp;rsquo;-এর মতো চিরকালীন সাহিত্যসম্ভার। কুষ্টিয়ার এই বাড়িতে বসেই গীতাঞ্জলি-র একটি বড় অংশও লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। আজ সেই কুষ্টিয়া আবার শিরোনামে। কুষ্টিয়া জেল ভেঙে ১৫জন কারারক্ষীকে গুরুতর জখম করে ৪০জন কয়েদি পলাতক! এদের বেশির ভাগই জঙ্গি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এই কুষ্টিয়াতেই আজও মাটির নীচে শুয়ে আছেন তিনি। লালন ফকির। রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম মিলে মানুষকে মানুষের কাছ থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে যখন, তখন আর-একবার এই কুষ্টিয়ার আখড়ায় বসে লেখা তাঁর অমোঘ শব্দগুলো ধাক্কা দিক আমাদের&amp;ndash;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;em&gt;আসবার কালে কী জাত ছিলে&lt;/em&gt;&lt;br /&gt;&lt;em&gt;তুমি কী জাত নিলে&amp;nbsp;&lt;/em&gt;&lt;br /&gt;&lt;em&gt;কী জাত হবা যাবার কালে&lt;/em&gt;&lt;br /&gt;&lt;em&gt;সেই কথা ভেবে বলো না।&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;--------&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;lsquo;দেশ&amp;lsquo; পত্রিকার লেখাটি এখানেই শেষ হচ্ছে। কিন্তু আবার বলছি, তারপর গঙ্গা এবং পদ্মা দিয়ে বহু গ্যালন জল গড়িয়ে গেছে&amp;hellip; একদিকে বাংলাদেশে হিন্দু-নিগ্রহের ঘটনা নিঃসন্দেহে কমেছে এবং ইদানিং আর সেসব উদ্বেগজনক শিরোনাম দেখা যায় না-মানতেই হবে। আবার অন্যদিকে, পুরনো সৌভ্রাতৃত্বে সেইসব ছবি, যেমন দুর্গাপুজোর বিসর্জনের দিন টাকিতে, ইছামতির মোহনায় সারি দিয়ে দু'পারের নৌকোর একসঙ্গে ভাসানের যে চমৎকার ছবি দশকের পর দশক আমরা কভার করেছি, এ বছর সেই ছবি যেন কোন জাদু মন্ত্রে উধাও হয়ে গেছে! পরিস্থিতি যে আগের মতো নেই তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে বিসর্জনের এই রাতারাতি পাল্টে যাওয়া ছবিটা!&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;আজ ভাইফোঁটার দিনে এই লেখার সঙ্গে ভিডিওটা দিলাম আসলে একটা স্পষ্ট স্বপ্ন দেখতে চেয়ে। নিকটতম প্রতিবেশীর সঙ্গে সৌভ্রাতৃত্বের, বন্ধুত্বের, নির্ভরতার যে স্বপ্নটা কিছুদিন আগেও এতটা দূরের ছিল না। বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয়ই বুঝছেন যে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর পেছনে আছে একেবারে স্পষ্ট সংকীর্ণ রাজনীতি। সে দেশের কিছু রাজনীতিবিদের নিখুঁত পরিকল্পনা। আসলে উগ্র ভারত-বিরোধিতার আগুন না জ্বালালে যে রাজনীতির রুটি সেঁকা যায় না! তাঁরা ভুলে যান যে শাড়ি পোড়ানো যায়, ইতিহাস নয়। যে আগুন তাঁরা জ্বালাতে চেয়েছিলেন, সেই আগুন কিন্তু কোনও রং, কোনও ধর্ম, কোনও সম্প্রদায় দেখে না। হিংসার আগুন সর্বগ্রাসী। ইতিহাস সাক্ষী, দেশ-কাল ভেদে, ধর্মান্ধতার আগুনে পোড়ে শুধু মানবতা&amp;hellip;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;তবে গভীরভাবে বিশ্বাস করি, একদিন নিশ্চয়ই শুভবুদ্ধির উদয় হবে আর সেই প্রক্রিয়া কেন জানিনা মনে হচ্ছে, ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তাই ভাইফোঁটার দিনে বাংলাদেশের সমস্ত ভাই-বোনেদের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। আর হ্যাঁ, কবীর রিজভী সাহেবের জন্য তো বটেই।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;[yt]https://www.youtube.com/watch?v=-QqVDN-2jQU[/yt]&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;a title=&quot;আরও পড়ুন - Suman De's Blog : ফিরে আসছি বিরতির পর ...&quot; href=&quot;https://bengali.abplive.com/blog/abp-ananda-suman-de-column-do-the-guests-continue-their-arguments-during-the-news-breaks-in-the-news-studio-or-do-they-reconcile-1155552&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;আরও পড়ুন - Suman De's Blog : ফিরে আসছি বিরতির পর ...&lt;/a&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;মতামত লেখকের নিজস্ব।&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2025/10/23/ed9a265d16ba9fd5563366177743fa3e176116264633864_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[Suman De's Blog : ভূত চতুর্দশীতে ভূতের গল্প  ]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/bhoot-chaturdashi-suman-de-ghost-story-reading-audio-podcast-bahurupi-saradindu-bandyopadhayay-bhuter-galpo-watch-video-1156307</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/bhoot-chaturdashi-suman-de-ghost-story-reading-audio-podcast-bahurupi-saradindu-bandyopadhayay-bhuter-galpo-watch-video-1156307#respond</comments><pubDate>Sun, 19 Oct 2025 01:59:03 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ সুমন দে ]]></dc:creator><category><![CDATA[  ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/bhoot-chaturdashi-suman-de-ghost-story-reading-audio-podcast-bahurupi-saradindu-bandyopadhayay-bhuter-galpo-watch-video-1156307</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;প্রথমেই একটা স্বীকারোক্তি থাকুক। আমি বাচিক শিল্পী নই। বাচিক শিল্পে আমার কোন প্রথাগত শিক্ষা বা স্বতঃস্ফূর্ত দক্ষতা নেই। এক মেঠো রিপোর্টার কীভাবে টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে পৌঁছল - সে এক নাটকীয় গল্প ! আনন্দবাজার পত্রিকায় বেশ কয়েক বছর আগে রবিবাসরীয়র পাতায় সেই কাহিনী বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে - পরে কখনও এখানে আবার বলা যাবে। কিন্তু, এই শুরুর স্বীকারোক্তির কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে ভূতের গল্পটি বাংলা সাহিত্যের অতি-সমৃদ্ধ স্বর্ণখনি থেকে আমি পড়েছিলাম পাক্কা পাঁচ বছর আগে এবং জীবনে প্রথমবার আপনাদের সামনে আজ রাখলাম, তার প্রত্যেকটা শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে ভয়ংকর একটা সময় ! যে সময়ে মোমবাতির আলোয় ভূত-বিলাসের কোনও পরিস্থিতি ছিল না, বরঞ্চ জীবন এবং মৃত্যু এত কাছাকাছি চলে এসেছিল যে প্রতি মুহূর্তে আক্ষরিক অর্থেই হাড়-হিম করা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল গোটা মানবসভ্যতাকে !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;কোভিড-কাল। করোনা মহামারী তখন তুঙ্গ মুহূর্তে ! পেশাগত কারণে প্রতিমুহূর্তে শুধু দুঃসংবাদের মধ্যে দিয়ে কাটছিল সময়টা। কখনও ব্যক্তিগত স্বজন-বিয়োগের, কখনও বা বৃহত্তর বিপদের। প্রতিদিন নানা গুজব পল্লবিত হয়ে একদিকে মানুষের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নানাদিক থেকে এগিয়ে থাকা পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের মুশকিল-আসানদেরও সমান বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে। হাসপাতালে বেড নেই , আরোগ্যের আশাও কখনও-কখনও সঠিক ভ্যাকসিন পাওয়ার মতোই ক্ষীণ মনে হচ্ছে ! আর প্রতি সন্ধ্যেবেলা শুধু আরেকটু ভালো থাকার চেষ্টায় প্রতিদিন আঁতিপাঁতি খুঁজছি আপনাদের দেওয়ার মত কিছু ভালো খবর, অথচ বেশিরভাগ সময়েই ব্যর্থ হচ্ছি এবং শেষপর্যন্ত খারাপ খবরগুলোকেই আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হচ্ছে পেশাগত দায়বদ্ধতার কারণে !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;বহুবার দেখেছি, এইরকম অন্ধকার সময়গুলোতে আশ্রয় দিতে পারে একমাত্র বই। মনে হচ্ছিল প্রতিদিনকার এই দুঃস্বপ্ন-যাপনের মাঝখানে আরও আঁকড়ে ধরি ছাপার অক্ষরগুলোকে। আর সেই বইয়ের দীর্ঘ তালিকায় অবশ্যই স্বমহিমায় ছিলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় , আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখকদের অন্যতম। আমাদের ছোটবেলার লালশালুতে বাঁধানো বারো খণ্ডের শরদিন্দু রচনাবলী (যার শেষ দুটো খণ্ডে ব্যোমকেশের কাহিনীগুলি ছিল) তা কিছুটা পাল্টেছে তাও বেশ কয়েক বছর হল। আনন্দ পাবলিশার্স থেকে ২০১৭ সালে &amp;lsquo;অলৌকিক গল্পসমগ্র&amp;lsquo; আলাদা করে প্রকাশিত হয়েছে। সেই বইটাই পড়তে-পড়তে হঠাৎ কী খেয়াল হল ফোনটা হাতে নিয়ে ভয়েস রেকর্ডারটা অন করে দিলাম আর শরদিন্দুর অনুকরণীয় ভাষায় আমার অন্যতম প্রিয় একটা গল্প বেশ জোরেই পড়তে শুরু করলাম। ছোটবেলায় মা বহু বকাবকি করেও জোরে-জোরে পড়া মুখস্থ করাতে পারেনি। কিন্তু সেদিন ঘোর কোভিডকালে হঠাৎ কী খেয়াল চেপেছিল কে জানে ! তবে এটুকু বলে আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে তারপরে আর কোনওদিন এমন ইচ্ছে আমার হয়নি !&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;সেই সময়ে দুঃসংবাদ এবং দুর্ঘটনার দৈনন্দিন ঘনঘটা এতটাই প্রগাঢ় ছিল যে তার অভিঘাতে সেই অডিও-ফাইলটার কথা পরের দিন সকালে আর মনেই ছিল না ! ভাগ্যিস রেকর্ডিংটা শেষ করেই আমার ভ্রাতৃপ্রতিম সহকর্মী সুমন্তকে শুনতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম ফাইলটা। আর কপিরাইট সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন নিয়ে সেদিন রাতেই ফোন করেছিলাম আমার সবসময়ের শুভাকাঙ্ক্ষী সুবীরদাকে (আনন্দ পাবলিশার্সের স্তম্ভ সুবীর মিত্র)। সুবীরদা আশ্বস্ত করার পর ভেবেছিলাম আপনাদের সঙ্গে তখনই ভাগ করে নেব, কিন্তু দুঃসময়ের প্রাবল্যে তা আর হয়ে ওঠেনি !&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আজ হঠাৎ মোবাইলের &amp;lsquo;স্বয়ংক্রিয় স্মৃতি&amp;lsquo;র কল্যাণে ফিরে এল প্রায় পাঁচ বছর আগে রেকর্ড করা সেই গল্পের পাঠটা ! তাও আবার ভূত চতুর্দশীর দিনে !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;কে বলে শুধু সমুদ্রদেবই নাকি যা নেন, সবকিছু আবার ফিরিয়ে দেন ? এই ঘোর কলিকালে এআই-এর ডানায় ভর করে মুঠোফোনও তাই দেয় দেখছি !&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;ভূত চতুর্দশীর এই আধিভৌতিক উপহার কেমন লাগলো বলবেন ...&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;[yt]https://www.youtube.com/watch?v=wo3JKM7joBU[/yt]&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আরও পড়ুন : &lt;a title=&quot;&amp;quot;&amp;lt;p&quot; href=&quot;https://bengali.abplive.com/blog/abp-ananda-suman-de-column-do-the-guests-continue-their-arguments-during-the-news-breaks-in-the-news-studio-or-do-they-reconcile-1155552&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;Suman De's Blog : ফিরে আসছি বিরতির পর ...&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2025/10/19/86afa6e740ef2872f7abc679c0913f39176081883924264_original.jpeg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[Suman De's Blog : ফিরে আসছি বিরতির পর ...]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/abp-ananda-suman-de-column-do-the-guests-continue-their-arguments-during-the-news-breaks-in-the-news-studio-or-do-they-reconcile-1155552</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/abp-ananda-suman-de-column-do-the-guests-continue-their-arguments-during-the-news-breaks-in-the-news-studio-or-do-they-reconcile-1155552#respond</comments><pubDate>Sun, 12 Oct 2025 12:15:42 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ সুমন দে ]]></dc:creator><category><![CDATA[ অফবিট ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/abp-ananda-suman-de-column-do-the-guests-continue-their-arguments-during-the-news-breaks-in-the-news-studio-or-do-they-reconcile-1155552</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;strong&gt;সুমন দে :&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;যাকে বলে একেবারে আগুনখেকো নেতা ! মাঠে ময়দানে যেমন চাঁচাছোলা বক্তব্য, স্টুডিওতেও তেমনি সপ্রতিভ। ময়দানের মস্ত বিতর্কসভার অর্ধেক গড়াতে না গড়াতেই আড়চোখে দেখছিলাম রীতিমতো উসখুশ করছেন। নির্ধারিত সময়ে তাঁর বক্তব্যেও বারবার সেদিন যেন ছন্দপতন ঘটল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার মিনিট পনেরো আগে রহস্যভেদ হল। সিনিয়র সেই রাজনীতিবিদ সটান আমার চেয়ার অব্দি উঠে এসে আমার হাতে একটা চিরকুট গুঁজে দিলেন--&quot;অনুষ্ঠানের মধ্যে যে একবারও বিজ্ঞাপনের বিরতি নেবে না, কী করে জানব? আমার ডায়াবেটিস আছে তো! একবার বিরতি দাও বাবা... ঘুরে আসি!&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;তবে লাইভ অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের বিরতির সময় যে কত স্মৃতি, মনে রাখার মত গল্প, এমনকি ইতিহাসেরও জন্ম দিয়েছে , তার একমাত্র সাক্ষী মহাকাল। আমার ধারণা, যে কোনও পেশাদার সঞ্চালককে সারা বছর ধরে সবথেকে বেশিবার দর্শকদের যে প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হতে হয়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে --&quot;আচ্ছা ওই যে ওনারা স্টুডিওতে অত ঝগড়া করেন , বিরতিতেও কি ঝগড়াটা চালিয়ে যান নাকি ভাব হয়ে যায়?&quot; এই প্রশ্নের উত্তরে আসার আগে, চূড়ান্ত ভাব-ভালবাসা আর তিক্ততম তরজার দু-একটা উদাহরণ আপনাদের সামনে রাখা যাক।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;&quot;উফ, ওই একটা বিজ্ঞাপন-বিরতির স্মৃতি - &lt;/span&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;মন থেকে মুছে গেলেই ভাল হয়&quot; প্রায় আঁতকে উঠে বলেছিল ব্রাত্য। তখনও শিক্ষামন্ত্রী নয়, তরুণ তুর্কী নাট্যকার সে সময়ে আমার সন্ধের অনুষ্ঠানের নিয়মিত অতিথি। আর্কাইভ বলছে, তারিখটা ১২ মে ২০১০, পুরভোটের প্রচার তখন তুঙ্গে। সে বিরতিটা নিতে হয়েছিল নিছক বাধ্য হয়েই, কারণ কংগ্রেসের নির্বেদ রায়-অরুণাভ ঘোষের সঙ্গে শিল্পী শুভাপ্রসন্নর তীব্র বাদানুবাদ, যা নেমে এসেছিল ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে। বিরতির আগেই 'লাইভ' অনুষ্ঠানের সুবাদে দর্শকরা শুনে ফেলেছিলেন 'জালি', 'অসভ্য', 'দালাল', 'অশিক্ষিত', 'মাল'-জাতীয় 'অসংসদীয়' শব্দের বহুল-বিষাক্ত ব্যবহার। ভেবেছিলাম, বিরতি নিলে অন্তত পরিস্থিতি একটু ঠান্ডা হবে, কিন্তু কোথায় কী! গরম চাটু থেকে জলন্ত উনুনে পড়ার প্রবাদটার মতোই বিরতির ঘোষণা হতেই এক বিদ্বজ্জন অন্য পক্ষকে 'সারমেয়' বলে ফেললেন! ব্যস, তক্ষুণি হাতাহাতি বাধে আর কী! বিরতির পর ফিরে এসে অবশ্য অনুষ্ঠানের রাশ ধরেছিলাম শক্ত হাতে। তবে এই বিরতিটিতে বিশিষ্টজনের অশিষ্ট তরজা না দেখতে পেয়ে দর্শকরা অবশ্য নিশ্চয়ই কিছু 'মিস' করেননি।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;তবে, অনেকের মতে যে সিঙ্গুর প্রকল্পের জন্য বহুলাংশে বামেদের চৌত্রিশ বছরের রাজ্যপাট 'মিস' হয়ে গেল, কী করে ভুলি, ঘটনাচক্রে তার সূত্রপাতটা ছিল ইতিবাচক। সূত্রপাতটা হয়েছিল এমনই এক সাক্ষাৎকারের বিরতির সময় থেকেই। ১১ মে, ২০০৬। ২৩৫টি আসন বগলদাবা করে বামফ্রন্টের ঐতিহাসিক জয়ের ফল ঘোষণার দিন। যাঁর নেতৃত্বে জয় সেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। বিরতিতে একটা চিঠি মারফত খবর এল। রতন টাটার। বুদ্ধবাবুর মুখে চওড়া হাসি - &quot;ওদের লোক পরশু সকালে আসছেন, দু-তিনটে জায়গা তাঁরা আগে এসে দেখে গেছেন। আপনাদের আগে বলিনি।&quot; ব্যস, এক্সক্লুসিভের ওপর এক্সক্লুসিভ! বিরতি শেষেই প্রশ্ন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সহাস্য উত্তরও - &quot;ভাল উপহার। পশ্চিমবঙ্গে শেষ পর্যন্ত একটা অটোমোবাইল ফ্যাক্টরি করার ডিসিশন নিয়েছেন। ...ওই যে স্মলেস্ট কার।&quot; বাকিটা ইতিহাস।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;ইতিহাস হয়তো মনে রাখে না, কিন্তু কত যে স্বজনহারার বুকফাটা কান্না আর চোখের জলের বাঁধ দেওয়ার কঠিন কাজটাও বিরতিতেই করতে হয় পেশাদার সাংবাদিককে! রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যুর পর স্টুডিওতে আনতে হয়েছিল রিজের মা সদ্যপ্রয়াত কিসওয়ার জাহানকে, সাংবাদিকতারই স্বার্থে। ক্রন্দনরত বৃদ্ধাকে বিরতিতে কিছুটা শান্ত করলেও সেদিন বিরতির পর ফিরে তিনি শুধু তিনটে শব্দই উচ্চারণ করতে পেরেছিলেন গোটা অনুষ্ঠানে, আর সেটুকুই নাড়িয়ে দিয়েছিল ক্ষমতার ভিত - &quot;হামে ইনসাফ চাহিয়ে।&quot; ক্ষমতা বদলের পর আমিনুল ইসলাম বা আনিস খানের বাবাদের ওই বিজ্ঞাপনের বিরতিতেই শান্ত করতে করতে মনে হচ্ছিল কত দ্রুত ঘটে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি -- অন্তত এ রাজ্যে।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;তবে এ রাজ্যের রাজনীতিবিদরা সবাই জিনগতভাবে রামগরুড় আর বিরতিতে তাঁরা সবাই শুধু গোমড়ামুখে পরস্পরকে মাপেন -- এটা ভাবলে কিন্তু ভুল হবে। রাজ্যের মন্ত্রীর কাছে বিরোধী দলের নেতা সদ্য পাশ করা ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছেন বা কয়েক মিনিট আগে তুলোধনা করা প্রতিদ্বন্দ্বীকে মেয়ের বিয়ের কার্ড ধরিয়ে উষ্ণ নেমতন্ন করছেন -- অনুষ্ঠানের 'ছোট্ট' বিরতির সামান্য ফাঁকটুকুতে, এমন টুকটাক সৌহার্দ্য এবং &amp;lsquo;বড়&amp;lsquo; সুবিধেবাদের ঘটনাও আকছার ঘটে আমাদের চোখের সামনেই। &quot;আমার কাছে স্টুডিও-র বিতর্ক অনেকটা নাটকের মঞ্চের মতোই&quot;, খোলা মনে একদিন মনের কথাটা বলেছিল ব্রাত্য, &quot;মঞ্চে উঠে যে-যার রাজনীতির 'পার্ট' বলা, তারপর বিজ্ঞাপনের বিরতিতে উত্তেজনার রেশটুকুও না-রেখে একসঙ্গে চা-সিগারেট খাওয়া।&quot; সেদিন শিক্ষামন্ত্রীর স্বীকারোক্তি ছিল, &quot;এবিপি আনন্দর বিজ্ঞাপনের বিরতিগুলোই আমাকে সহিষ্ণুতা শিখিয়েছে।&quot;&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;অনুষ্ঠান চলাকালীন অসীম ধৈর্য নিয়ে বিরতির জন্য অপেক্ষা করার শিক্ষণীয় নজির অবশ্য দেখেছি বছর দশেক আগে, লন্ডনে। ভিক্টোরিয়া এমব্যাঙ্কমেন্ট-এ ব্রিজ স্ট্রিটের দিকে পিঠ রেখে জমিয়ে বসে একটি মাল্টিক্যাম সাক্ষাৎকার নিচ্ছি ওখানকার পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা কিংবদন্তী নাট্যব্যক্তিত্ব মনোজ মিত্র-র। প্রতি ফ্রেমে ব্যাকগ্রাউন্ডে হয় বিগ বেন, নয় তো হাউসেস অফ পার্লামেন্ট। আবহ-র উত্তেজনায় খেয়ালই নেই লন্ডন পুলিশ বা কোনও প্রশাসনিক সংস্থার কাছ থেকে শুটিং-এর ন্যূনতম অনুমতিও নেওয়া হয়নি! পাক্কা এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকার যখন শেষ হল, হতবাক হয়ে দেখলাম লন্ডন পুলিশের উচ্চপদস্থ দুই আধিকারিক পিছনেই দাঁড়িয়ে আছেন ক্যামেরার লেন্সের নাগাল বাঁচিয়ে। অনুমতিপত্র নেই শুনে তাঁরা যে শুধু হাতে-গরম একটি অনুমতিপত্র ওখানেই সই করে দিলেন তাই নয়, সবিনয়ে জানালেন, গত পঞ্চাশ মিনিট ধরে তাঁরা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন শুধু একটা বিজ্ঞাপন বিরতির জন্য, কারণ অনুমতির খোঁজখবর নিতে গিয়ে তাঁরা টিভি সাক্ষাৎকারটির মাঝে ছন্দপতন ঘটাতে চাননি!&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;দলাদলিক্লিষ্ট এ রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক-অনুষ্ঠানে ছন্দপতনের ঘটনা লিখতে বসলে অবশ্য আর একটা মহাভারত হয়ে যাবে। ২০০৮-এর ২৪ ডিসেম্বর, নন্দীগ্রাম থেকে 'লাইভ' অনুষ্ঠান। হঠাৎই বেঁকে বসলেন তৎকালীন বিরোধী দলের মহারথীরা -- কিছুতেই শাসক দলের নেতাদের সঙ্গে একমঞ্চে বসবেন না। অতএব লম্বা একটা বিরতি নিয়ে ডেকরেটরকে দিয়ে দুটি মঞ্চ কার্যত কেটে 'আলাদা' করে অনুষ্ঠান করতে হল! কিংবা ওই বছরই রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন লালগড় থেকে প্রথম টিভি শো। মঞ্চের ওপরে পরবর্তীকালে মাওবাদীদের গুলিতে নিহত ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি মোর্চার নেতা বাবু বসু, পুলিশী সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতো এবং সিপিএম জোনাল কমিটির দোর্দণ্ডপ্রতাপ সম্পাদক অনুজ পান্ডে -- প্রথম এবং শেষবারের জন্য পাশাপাশি! অনুষ্ঠানে এক যুবক তাঁর স্ত্রীর ওপর পুলিশী অত্যাচারের মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিল। পরের বিরতিতেই দেখলাম যুবকটিকে ঘিরে ধরে তৎকালীন শাসকদলের পেশীশক্তির ধারকরা রীতিমতো গণধোলাই দিচ্ছে ওই লালগড় রামকৃষ্ণ বিদ্যালয়- প্রাঙ্গণেই! বিজ্ঞাপন বিরতি দীর্ঘায়িত করে সেদিন উন্মত্ত গুন্ডাবাহিনীর হাত থেকে যুবককে বাঁচাতে এই সঞ্চালক ও টেকনিকাল টিমকে নামতে হয়েছিল মঞ্চ থেকে। অথবা ধরুন, রাজীব দাসের স্মৃতিতে&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;বারাসাতের কাছারী ময়দান থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া সেই অনুষ্ঠান, সেখানে বিরতিতে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে পাক্কা দশ মিনিট ধরে পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়েছিল (১৭.২.১১)। তবে এসব কিছুকেই ছাড়িয়ে যেতে পারে ২০০৯-এর লোকসভা ভোটের আগে বারাসাতের রবীন্দ্রভবন থেকে সরাসরি 'বলুন সাংসদ' অনুষ্ঠান -- বিজ্ঞাপনের বিরতির রাজনৈতিক তাৎপর্যে! ১৮ মার্চ সন্ধেবেলা প্রধান দলগুলির প্রার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠান বেশ জমে উঠেছে - খোশমেজাজে সবে দ্বিতীয় বিরতির ঘোষণা করছি, এমন সময়ে মঞ্চে দু'দলের কিছু সমর্থক উঠে এল। নিজের নিজের সমর্থকদের সঙ্গে নেতারা মঞ্চ ছেড়ে পিছনের মেকআপ রুমে আশ্রয় নিলেন শান্তিপূর্ণভাবেই। পনেরো মিনিটের মধ্যেই ম্যাজিকের মতো উত্তাল হয়ে উঠল বারাসাতের পরিস্থিতি। গোটা জেলায় খবর ছড়িয়ে পড়ল, দু'পক্ষের নেতারাই 'আক্রান্ত'। বিরতিতে এমন কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় আর কোনও সঞ্চালককে পড়তে হয়েছে কিনা জানা নেই। চোখের সামনে দেখছি দুই নেতাই সুস্থ শরীরে ফূর্তিতে আছেন, অথচ তাঁদের সমর্থকরা তাঁদের ওপর 'নির্দয় আক্রমণ'-এর প্রতিবাদে গোটা জেলার রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে! স্বভাবতই সেদিন বিরতি থেকে আর অনুষ্ঠানে ফেরা যায়নি, তবে আসল চমক অপেক্ষা করছিল পরদিন সকালে। সংবাদমাধ্যমে দেখলাম, দু'পক্ষের দু'নেতাই অনুষ্ঠান চলাকালীন 'প্রচণ্ড আঘাতে গুরুতর আহত' হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আর এক দলীয় মুখপত্র লিখল, অনুষ্ঠানের সঞ্চালকই নাকি পরিকল্পনা করে বিজ্ঞাপন-বিরতিতে নেতাকে আক্রমণের পরোক্ষ মদত জুগিয়েছেন! রাজনীতির বিরতিহীন রাজ্যে বিরতি নিয়েও এমন রাজনীতি হয়!&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;নির্বাচনী রাজনীতির উত্তাপে গোটা রাজ্য ফুটছিল তখন। তারিখটা ৭ মে, ২০০৯ -রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটপর্ব চলছে। স্টুডিওতে চলছে, 'কার দখলে দিল্লি' অনুষ্ঠানের তুমুল তরজা। কয়েক মিনিট আগে কাঁথিতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সেই ভোটপর্বে প্রথম মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছেছে। লাইভ অনুষ্ঠানে রাজনীতির হেভিওয়েটদের সরাসরি প্রশ্ন করছেন উপস্থিত দর্শকরা, সঙ্গে তাল ঠুকছেন বিশিষ্টরাও। চাপানউতোর-ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাঝে প্রশ্ন করতে মাইক হাতে উঠে দাঁড়াল এক সুদর্শন যুবক। প্রথমেই নিজের পরিচয় দিল বাম ছাত্র-সংগঠনের সদস্য হিসেবে, প্রশ্নের লক্ষ্য, উপস্থিত হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা। মুহূর্তে বিস্ফোরণ ! শুরু কর্কশতম বাকবিতণ্ডা! দু'পক্ষই বয়সের তফাৎ ভুলে প্রায় হাতাহাতির ভঙ্গিতে পরস্পরের দিকে তেড়ে গেল! আমাকেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটা বিরতি নিয়ে যুযুধানদের থামিয়ে শান্তি-রক্ষার্থে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়েছিল সেদিন! এই ঘটনা লেখার পর দু'পক্ষের পরিচয় না দেওয়াটা ঘোরতর অন্যায় হবে। তৃণমূলের পক্ষে ছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা বর্তমানে জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তাঁকে সমর্থন করছিলেন কংগ্রেস নেতা নির্বেদ রায়। আর বাম ছাত্রনেতাটি তখনও খুব পরিচিত না হলেও আজ রাজ্য-রাজনীতির অতীব চেনা মুখ। শতরূপ ঘোষ।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;হাতাহাতির গল্প থেকে এবার আসি হাত ধরাধরির গল্পে। বিতর্কিত অনুষ্ঠানটির নাম ছিল 'বিবেক বনাম দল'। দিনটা ১১ জানুয়ারি, ২০১০। সেই প্রথম প্রকাশ্যে লাইভ স্টুডিওতে বসে দলের বিরুদ্ধে কার্যত 'বিদ্রোহ' ঘোষণা করেছিলেন কবীর সুমন। প্রত্যক্ষ উপলক্ষ্য, তাঁর 'ছত্রধরের গান'টি নিয়ে দলে তীব্র আপত্তি। মতবিরোধ মেটাতে আসা ব্রাত্য বসু প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় 'দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙা'-র জন্য নরমে-গরমে বেশ দু'কথা শুনিয়ে দিয়েছেন কবীর সুমনকে, কিন্তু 'গানওলা' সেদিন যুক্তিতে-তর্কে-রসবোধে অপ্রতিরোধ্য মেজাজে। প্রায় পৌনে দু'ঘণ্টা জমাটি বাকযুদ্ধের পর অনুষ্ঠানের শেষ বিরতি। পার্থবাবুকে কবীর সুমনের সটান প্রশ্ন, &quot;যা নিয়ে এত কথা বলছেন, সেই ছত্রধরের গানটা কি আপনি শুনেছেন?&quot; পার্থ চট্টোপাধ্যায় 'না' বলাতে হাসতে হাসতে কবীরের বাউন্সার - &quot;আপনাদের একটা অসুবিধে কী বলুন তো, তৃণমূলের অধিকাংশ লোকই গান শোনে না।&quot; পার্থ - &quot;আপনি বাঁকা কথা বলছেন কেন?&quot; কবীর - &quot;এটা কি দলবিরোধী কথা?&quot; পার্থ - &quot;না, দলবিরোধী নয়, তবে বাঁকা। তৃণমূলের অনেক বুদ্ধিজীবী আছে যাঁরা গান শোনে।&quot; মজার কথা, এই তপ্ত কথোপকথনটা যখন চলছে কবীর সুমন সপাটে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে ফেলেছেন আর মুখেচোখে প্রবল অস্বস্তি সত্ত্বেও পার্থবাবু তা ছাড়াতে পারছেন না। বিরতি নিয়ে ফেরার পর দর্শকরা দেখলেন, চূড়ান্ত বিনয়ী কবীর সুমন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে বলছেন - &quot;হঠাৎ এত অফিসিয়াল হয়ে যাচ্ছেন কেন? আপনি তো বন্ধু।&quot; ক্যামেরায় তখন কবীরের হাতের মুঠোয় ধরা পার্থর হাতের ক্লোজ শট। মাস্টারস্ট্রোক আর কাকে বলে!&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;তবে এখন দিনকাল দ্রুত পাল্টাচ্ছে। মাস্টারস্ট্রোকের কথা বাদ দিন , এখন বহু ক্ষেত্রেই স্টুডিওর মহারথীদের মাস্টারমাইন্ডটি আসলে অন্য কোথাও বসে প্রতিমুহূর্তে প্রত্যেক সেকেন্ডের প্রত্যেকটা শব্দ, বিরোধীদের তথ্য, সঞ্চালকের যুক্তি মনিটর করছে। ভোট-কুশলী সংস্থার হাইটেক দপ্তর বা আইটি সেল থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং তৎক্ষণাৎ বক্তাদের মোবাইল ফোনে জরুরি তথ্য বা নির্দেশ ভেসে আসছে। বিজ্ঞাপনের বিরতির অনাবিল হাসিঠাট্টাও তাই ক্রমশ বিলুপ্তির পথে। বঙ্গের ভোট যত এগোচ্ছে, ততই শব্দের ডেসিবেলে এবং ঝগড়াঝাঁটির আবহে তাতছে স্টুডিওর হাওয়া। আর প্রতিদিন আরও কঠিন হচ্ছে সঞ্চালকের কাজ। দায়িত্ব কি কম? ব্যক্তিগত আক্রমণ যাতে এড়ানো যায়, তর্ক থেকে যেন তিক্ততা না ছড়ায়, আর সবচেয়ে বড় কথা, মতান্তর যেন মনান্তরে পৌঁছে না যায়। কাজটা যে কত কঠিন তা একমাত্র পেশাদার সঞ্চালকরাই বুঝবেন। আর দর্শকদের সেই চ্যালেঞ্জটা বোঝানোর জন্য এই লেখার সঙ্গে একটা ছোট্ট ভিডিও যোগ করছি গত সপ্তাহের একটি অনুষ্ঠানের। ইচ্ছাকৃতভাবেই উত্তেজনার পারদ কমাতে সঞ্চালককে বারবার চেষ্টা করে যেতে হয় বিতন্ডার বিষয়টি কিঞ্চিৎ লঘু করে দিতে -- শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটা তো চালাতে হবে ! তবে পরে জেনেছি , বেচারা সঞ্চালকের এই সব যাবতীয় চেষ্টায় জল ঢেলে এই ঝগড়া স্টুডিওর বাইরেও সেদিন নাগাড়ে চলেছে দু&amp;rsquo;পক্ষের গাড়িতে ওঠা পর্যন্ত!&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;iframe title=&quot;YouTube video player&quot; src=&quot;https://www.youtube.com/embed/2XO9rKF4-_E?si=J2IFe_j78cRDz-x9&quot; width=&quot;560&quot; height=&quot;315&quot; frameborder=&quot;0&quot; allowfullscreen=&quot;allowfullscreen&quot;&gt;&lt;/iframe&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;তবে এত সবে শুরু। উত্তেজনার অভিজ্ঞতার ঝুলি আরও ভরল বলে। বঙ্গে ভোট আসছে যে ! অতএব সঞ্চালকদেরও তৈরি থাকতে হবে বৈকি। তার জন্য বিশ্রামও প্রয়োজন। অনেক লিখলাম, এবার একটা বিরতি নেব কিন্তু প্লিজ।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;ফিরে আসছি বিরতির পর&amp;hellip;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2025/10/12/6b48c753c9ed6034095bee439e0b6071176025142726564_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[Chernobyl  : এক কালো অধ্যায় ও এক কালো ছত্রাক]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/chernobyl-black-fungus-radiation-absorbing-fungus-chernobyl-nuclear-power-plant-strains-of-black-fungus-1153012</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/chernobyl-black-fungus-radiation-absorbing-fungus-chernobyl-nuclear-power-plant-strains-of-black-fungus-1153012#respond</comments><pubDate>Wed, 17 Sep 2025 19:24:26 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ ডঃ উৎপল অধিকারী ]]></dc:creator><category><![CDATA[ বিজ্ঞান ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/chernobyl-black-fungus-radiation-absorbing-fungus-chernobyl-nuclear-power-plant-strains-of-black-fungus-1153012</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;১৯৮৬ সালের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপর্যয় মানব ইতিহাসের এক অন্যতম ভয়াবহ পরমাণু দুর্ঘটনা। এই ঘটনার ফলে একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উচ্চ মাত্রার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং রাশিয়ার এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠেছিল এক নিষিদ্ধ অঞ্চলে। কিন্তু প্রকৃতির অদ্ভুত এক পুনরুদ্ধার ক্ষমতা আছে। পরিবেশ জীবনের একটি অপ্রত্যাশিত রূপ বিকশিত হয় এখানে। এই প্রতিকূল, মানববিহীন নিষিদ্ধ অঞ্চলে আপন খেয়ালে গজিয়ে ওঠে একপ্রকার কালো মেলানিন উৎপাদনকারী প্যাথোজেনিক ছত্রাক নাম ক্রিপটোকক্কাস নিওফর্মান্স। ছত্রাকটি অদ্ভুতভাবে তীব্র আয়নিক ও তেজস্ক্রিয় রশ্মির বিকিরণকে প্রতিহত করে সেই বিষ থেকেই সংগ্রহ করে নিজের জীবনের বেঁচে থাকার অমৃত।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;ছত্রাকটি হল একপ্রকার এককোষী ইস্টের মত। যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের মৃত্তিকা ও পাখির বিষ্ঠায়, বিশেষ করে পায়রার মলে পাওয়া যায়। এটি এক প্রকার ক্ষতিকর ছত্রাক যা সাধারণত শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকারী মানুষদের শরীরে বসবাস করতে পারে না, কিন্তু যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে অথবা এডস এবং কেমোথেরাপির রোগীদের দেহে ভয়ংকর সংক্রমণ ঘটিয়ে ক্ষতি প্রতিসাধন করতে পারে। এছাড়াও সাধারণ কম অনাক্রমতা যুক্ত মানুষদের মস্তিষ্কে মেনিনজাইটিস রোগ সৃষ্টি করতে পারে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আমরা জানি, চেরনোবিল একটি তেজস্ক্রিয় দূষিত অঞ্চল যার রিঅ্যাক্টর-৪ এর চারপাশে একটি ভয়ংকর ক্ষতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এখান থেকে আজও গামা রশ্মি ও বিটা রশ্মি জীবদের কোষের ডি এন এ ও অন্যান্য কোষীয় উপাদানকে নষ্ট করে দেয়। ফলে বেশিরভাগ জীবেদের জন্য এটি অতি মারাত্মক। এই পরিবেশগুলিতে একমাত্র ঘন মেলানিন যুক্ত ছত্রাকটি সাবলীলভাবে বসবাস করে তাদের বংশবিস্তার করতে পারে। এ বিজ্ঞানীদের কাছে এক চরম বিস্ময় ও আনন্দের ব্যাপার। অর্থাৎ ভয়ংকর তেজস্ক্রিয় অবিকিরণের বিরুদ্ধেও বুক চিতিয়ে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে এই ছত্রাকটির।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;ক্রিপ্টোকক্কাস ছাড়াও এবং&amp;nbsp; ক্লাডোস্পোরিয়াম নামের আরেক কালো ছত্রাক ওখানে বাস করতে পারে। এবং অনায়াস বংশবিস্তার করতে পারে। এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল মেলানিন উৎপাদন করার ক্ষমতা। এই বিশেষ রঞ্জক পদার্থটি মানুষের ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে থাকে। মেলানিন অত্যন্ত দক্ষভাবে তেজস্ক্রিয় পদার্থকে শোষণ করতে পারে আবার তাকে বিকিরণ করে দেহের কোষকে অতিবেগুনি রশ্মি বা তেজস্ক্রিয় রশ্মির হাত থেকে রক্ষাও করতে পারে। ফলে কোষের ভিতরে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিক পদার্থ যা বংশগতির ধারক এবং বাহক জিনকে ধারণ করে রাখে, সেই ডিএনএ-কে রক্ষা করে। এদের আরেক বিশেষ ক্ষমতা হল রেডিওট্রপি, অর্থাৎ তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে এরা সরাসরি খাদ্য উৎপাদন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনার নাম দিয়েছেন ফাংগাল রেডিওসিনথেসিস অর্থাৎ তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে খাদ্য উৎপাদন করার পদ্ধতি। এখানে তেজস্ক্রিয় রশ্মির শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে এই বিশেষ ধরনের ছত্রাকগুলি।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;তেজস্ক্রিয় রশ্মি জলে আঘাত করে সেখান থেকে রিয়াক্টিভ অক্সিজেন স্পিসিস বা আর ও এস তৈরি করতে পারে। যা কোষের মধ্যে এক অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে যা কোষের ক্ষতি সাধন করে। মেলানিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা বর্তমান যা ফলে এই ক্ষতিকর রস বা আরওএসগুলিকে নষ্ট করতে পারে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;চেরনোবিল রিয়াক্টরের অভ্যন্তর থেকে সংগৃহীত এই ছত্রাকগুলি নিয়ে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাতে কন্ট্রোল হিসাবে সাদা মেলানিনবিহীন ছত্রাক রাখা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে দেখা গিয়েছিল কালো মেলানিনযুক্ত ছত্রাক এই কালো ছত্রাকগুলির তেজস্ক্রিয় রশ্মির সহ্য করার ক্ষমতা, সাদাগুলির থেকে অনেক বেশি। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস-এ ক্রিপ্টোকক্কাস নিওফরম্যান্স রাখা হয়েছিল। সেখানে, তারা মহাকাশের তেজস্ক্রিয়তার মধ্যে তাদেরকে রেখে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছিল। ফলাফলে দেখা গেছে যে ওই মেলানিনযুক্ত ছত্রাক কেবলমাত্র বেঁচে ছিল তাই নয় মেলানিন বিহীন ছত্রাকের থেকে তাদের তেজস্ক্রিয়তার সহ্য করার ক্ষমতা বংশবিস্তার করার ক্ষমতা অনেক বেশি পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়।।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;em&gt;&lt;strong&gt;জৈবপ্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের প্রয়োগসমূহ&lt;/strong&gt;&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;এই ক্রিপ্টোকক্কাসের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে। পৃথিবীতে তেজস্ক্রিয়তা এবং তা থেকে ছড়িয়ে পড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই ছত্রাক গুলি নীলকণ্ঠের মতো ভূমিকা পালন করতে পারে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;১. &lt;strong&gt;বায়োরেডিয়েশন&lt;/strong&gt;-এই ছত্রাকগুলি রেডিও একটিভ দূষিত অঞ্চলগুলিকে পরিচ্ছন্ন করতে এবং দূষণমুক্ত করতে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের দারুণ সহযোগিতা করতে পারে। &lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;২. &lt;strong&gt;তেজস্ক্রিয়তার সুরক্ষা কবজ&lt;/strong&gt;-মেলানিন বা মেলানিন সম্বলিত পদার্থের সংশ্লেষিত অ্যানালগ যদি তৈরি করা যায়, তাহলে সেগুলি মহাকাশচারীদের পোশাক ও যারা তেজস্ক্রিয় রশ্মি নিয়ে কাজ করছেন অথবা পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত মানুষদের পোশাকের সাথে এই পদার্থটি মিশিয়ে দিলে তেজস্ক্রিয়তার হাত থেকে তারা রক্ষা পেতে পারেন। &lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;৩. &lt;strong&gt;বায়োএনার্জি&lt;/strong&gt;-ছত্রাক কীভাবে রেডিওসিন্থেসিস করে থাকে সেই পদ্ধতি যদি আমরা জানতে পারি, তাহলে আমরা জানতে পারব, তেজস্ক্রিয় শক্তি কীভাবে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং তা কীভাবে মানব সভ্যতার উপকার করতে পারে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;চেরনোবিলের চরম পরিবেশ ক্রিপ্টোকক্কাসের মতো জীবেরা অবলীলায় বেড়ে উঠছে এবং নিজে থেকেই তাদের সুরক্ষা কবজ তৈরি করছে তা বিজ্ঞানীদের কাছে এক চরম বিস্ময়ের বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিস্ময় কেটে আসল সত্য মানুষের কাছে প্রকাশিত হবে এই আশা করা যেতেই পারে। এরাই মানুষকে চরম পরিবেশে বাঁচার শিক্ষা দেবে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;em&gt;&lt;strong&gt;মতামত লেখকের নিজস্ব। লেখক পূর্ব বর্ধমানের আঝাপুর হাইস্কুলের সহ শিক্ষক&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2025/09/17/12f447236ba2a8aca816020ed5315278175811692819064_original.jpg" width="220"/></item></channel></rss>