<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/" xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"><channel><title>Rahul Arunoday Banerjee : যে হাসিটা চির অমলিন...</title><atom:link href="https://bengali.abplive.com/blog/feed" rel="self" type="application/rss+xml"/><link>https://bengali.abplive.com/</link><description/><lastBuildDate>Mon, 28 Sep 2026 07:09:05 +0530</lastBuildDate><language>en-US</language><sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod><sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency><generator>https://bengali.abplive.com</generator><item><title><![CDATA[আবার ৮০-তে সে এসেছে ফিরিয়া]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/the-80s-ai-trend-he-has-returned-again-at-1980-a-suman-de-blog-1192796</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/the-80s-ai-trend-he-has-returned-again-at-1980-a-suman-de-blog-1192796#respond</comments><pubDate>Mon, 14 Sep 2026 16:38:56 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ সুমন দে ]]></dc:creator><category><![CDATA[ লাইফস্টাইল-এর ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/the-80s-ai-trend-he-has-returned-again-at-1980-a-suman-de-blog-1192796</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;সুমন দে&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;মুগ্ধতার কোনো বয়স হয় না, বিস্ময়ের তো নয়ই।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আমি মুগ্ধ আর বিস্মিত কেন এবার বলি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর এমনিতেই আমার ভরসা কম, তারপর ট্রেন্ডে গা-ভাসিয়ে নিজের এখনকার চেহারা আশির দশকে টেনে নিয়ে গিয়ে তাতে রং আর রংবেরঙের পোশাক চাপানোয় আমার ব্যক্তিগত আপত্তি ছিল এবং আছে। তাই নেহাতই খেয়ালের বশে নিজের সেই সময়ের একটা ছবির সঙ্গে ওই আশির দশকের কিছু স্মৃতি নিয়ে কিছু এলোমেলো কথা লিখে পোস্ট করে দিয়েছিলাম। কয়েক ঘন্টার মধ্যে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম আপনাদের প্রতিক্রিয়ায় ! সাধারণভাবে বঙ্গ সমাজের যে অংশ রাজনীতির চর্চায় ইদানিং ক্লান্তিহীন এবং বেশ কিছুটা কর্কশ, তাঁরা যেন মুহূর্তে কোথায় হারিয়ে গেলেন... কয়েক ঘন্টার মধ্যে হাজারেরও বেশি মানুষ একসঙ্গে ডুব দিলেন স্মৃতিচারণায়, নিখাদ ও নিষ্পাপ নস্টালজিয়ায়। সাধারণভাবে সমাজমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া যে খুব একটা পড়ি - এ দাবি করলে মিথ্যে কথা বলা হবে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম কত মানুষের কাছে সে স্মৃতি সতত সুখের শুধু নয়, বোধহয় বর্তমানের থেকে ঢের বেশি স্বস্তিকর। হয়তো আমার কাছেও ।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;পেশার কারণে বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনার যে অভিঘাতের মধ্যে সকাল থেকে রাত প্রতিমুহূর্তে আমাদের থাকতে হয়, ক্যামেরার সামনেও যে ধরনের তিক্ততা প্রায়ই ধাক্কা দিয়ে যায়, তারপর মাঝেমাঝেই মনে হয়, এত ঘৃণা কেন ? এত অসহিষ্ণুতা কি সত্যিই আমাদের জীবনে খুব জরুরি ? মনে হয়, এই ঘটনাপ্রবাহ, রাজনীতি আর যাবতীয় বিতর্কের বাইরে যদি আমাদের টুকরো-টুকরো ভালোলাগাগুলো নিয়ে একটা জগত গড়ে উঠত, একটা স্মৃতিমেদুর নিজস্ব ঠাঁই থাকত, তাহলে হয়তো বাস্তবতার ক্ষতে সহিষ্ণুতার মলম কিছুটা হলেও লাগতে পারত। অতীতচারিতাই হয়তো অনেকক্ষণের আরাম দিতে পারত। একেবারে ঝড়ের বেগে লেখা আমার ওই পোস্টটার নিচের মন্তব্যগুলোর বেশ কয়েকটা দেখে আমার মনে হতে শুরু করেছে যে আপনাদের অনেকেরও বোধহয় এমনটাই মনে হয়। এ নিয়ে বেশ কয়েকটা সুনির্দিষ্ট ভাবনাও কাজ করছে মনের মধ্যে। কিন্তু সে তো পরের কথা। আপাতত পুরোনো একটা লেখা আবার ঘষেমেজে ভাগ করে নিতে ইচ্ছে করছে আপনাদের সঙ্গে। পুজো আসছে, আর এ লেখাটা পূজাবার্ষিকী নিয়ে। আর হ্যাঁ,এটাও নিখাদ আশির দশকের পূজাবার্ষিকী নিয়েই।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আজই জানলাম এই আশির দশকের ছবি তৈরির চক্করে নাকি দুনিয়াজুড়ে ডিপফেকচক্র চূড়ান্ত সক্রিয় হয়ে গেছে, আর গত ২৪ ঘন্টায় নাকি ৫০৩.৪ বিলিয়ন গ্যালন জল নষ্ট হয়েছে শুধু এই আশির দশকের এআই ছবি বানানোর হুজুকে !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;অতএব এআই ছাড়ুন, নস্টালজিয়ায় ডুব দিন...&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;পুজোয় চাই পূজাবার্ষিকী&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;শুধু পাওয়া না, পুজো মানে আমার কাছে একরাশ না-পাওয়াও। অতৃপ্ত সেই বাসনা-তালিকার একেবারে মাথায় থাকত পুজোর আগেভাগে বের হওয়া সবকটা পূজাবার্ষিকী একসঙ্গে হাতে পাওয়া। কল্পনাতেও তখন আসেনি, নেহাতই পেশার সৌজন্যে সে মনোবাসনা যখন পূর্ণ হবে, তখন ঝিমধরা দুপুরে নিশ্চিন্ত মৌতাতে নতুন পাতায় পুজোর গন্ধ মাখা মোটকা শারদীয়া পড়ার অবকাশটুকুই হারিয়ে যাবে জীবন থেকে !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;শরৎ-হীন শারদীয়া (থুড়ি, পুজোসংখ্যা)&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;বেশ কয়েক বছর হৈ হৈ করে এগিয়ে এসেছে পুজো। বড় বারোয়ারি পুজোয় চতুর্থীর দিনে মণ্ডপে প্রতিমা ঢুকলে মায়ের মুখ ঢেকে রাখা হত ষষ্ঠী পর্যন্ত। আর এখন তো মহালয়া থেকেই দর্শনার্থীরা রাস্তায় প্রবল উৎসাহে। ষষ্ঠী, মেরেকেটে সপ্তমী রাত পর্যন্ত মণ্ডপ পরিক্রমায় রুচি থাকে শহুরে জনতার, তারপরই ছুটি-বিলাসীদের বিরতিহীন আড্ডা আর ডায়েটহীন মেনুবাজি। এই এগিয়ে আসা পুজোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাক্কা এক মাসেরও বেশি এগিয়ে এসেছে পুজোসংখ্যার জন্মমুহূর্তও। ছোটবেলায় অবধারিত আকাঙ্ক্ষা ছিল যে আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকী &amp;mdash; এখন তার প্রকাশ পাওয়ার ব্রাহ্মমুহূর্ত ঘনিয়ে এসেছে প্রায় বর্ষাকালে, শরৎকাল যখন দূরবীনেও ধরা পড়ে না !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;হারানো সুখ&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;কলেজ স্ট্রিটের পুরোনো বইয়ের দোকানে আমাদের শৈশবেও দিব্যি পাওয়া যেত &amp;lsquo;শিশুসাথী&amp;rsquo;, &amp;lsquo;আলোর ফুলকি&amp;rsquo; &amp;mdash; বহুবর্ণ ছবি আর দেশীয় কমিক স্ট্রিপে চিরনতুন। বসিরহাটে দেশের বাড়ির প্রাচীন কালো তোরঙ্গ ঘাঁটতে-ঘাঁটতে একবার খুঁজে পেয়েছিলাম বাবার ছেলেবেলার শুকতারা &amp;mdash; চাঁদমামার সাইজের, লালচে ভঙ্গুর পাতায় মাখামাখি অচেনা ভালোলাগা। বাঁটুল দি গ্রেট তখনও জন্মায়নি, হাঁদা-ভোঁদা-র চেহারাও বেশ অন্য রকম, প্রচ্ছদে রামায়ণের তারকা রাক্ষসীর চমকপ্রদ ছবি &amp;mdash; সব মিলিয়ে সে এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। আজকের স্ক্রিন-বন্দি শৈশব তাতে কতটা পুলকিত হত জানি না, কিন্তু সারল্য আর সুকুমারবৃত্তির আশ্চর্য সে মিশেল শৈশবে ঘোর লাগিয়েছিল &amp;mdash; দিব্যি মনে আছে। তখনও শিশুমনে বিস্ময়বোধ ছিল।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;শঙ্কু-সন্তু-শৈলেন ঘোষ&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;সত্যজিৎ-এর অলঙ্করণে প্রফেসর শঙ্কুর একটা টানটান উপন্যাসের অমোঘ আকর্ষণ দিয়ে শুরু হত আমাদের আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকীর সফর। প্রচ্ছদের ছবির কমিক চরিত্ররা ভেতরে নেই কেন, এই আপশোস করতে করতেই শঙ্কুর পর এসে যেতেন কাকাবাবু আর সন্তু। তবে সে টান প্রথম আলগা হল একবার যখন কোনও এক সন্তু-কাহিনিতে জুতোর দোকানে সন্তু দূর থেকে দেখল ডিম্পল কাপাডিয়াকে (সুনীলদার কাছে বহু বছর পরে অনুযোগও করেছিলাম এ নিয়ে) ! সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় হয়তো পাঠকের বয়ঃসন্ধির স্বাভাবিক নায়িকা-কৌতূহলকে উস্কে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বয়ঃসন্ধির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এক নবীন পাঠকের কাছে তা অ্যাডভেঞ্চারে যথেষ্ট রসভঙ্গ ঘটিয়েছিল। সমরেশ বসুর মৃত্যুর পর হারিয়ে গেল গোগোল আর বিমল কর-এর মৃত্যুতে ভ্যানিস হল কিকিরা। তবে মতিদা (নন্দী) তখনও স্বমহিমায়। আর শৈলেন ঘোষ নিঃশব্দে সুর তুলছেন কিশোর-হৃদয়ের সূক্ষ্মতম তন্ত্রীতে। মনে আছে, শৈলেন ঘোষের উপন্যাস শেষ করে অদ্ভুত এক অনুভূতিতে জারিত হত মন, বেশ কয়েক ঘণ্টা আবেগের উতরোলে নতুন আর কোনও লেখা পড়তেই পারতাম না। রূপকথা স্বপ্নের কল্পলোক ছাড়িয়ে নেমে আসত আমাদের চেনা রোজকার পৃথিবীতে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কলমের মেজাজ আর স্বাদ আমাদের নিয়মিত ফিরিয়ে দিতেন শৈলেন ঘোষ, ওই পূজাবার্ষিকীতে পাতাতেই।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;অর্জুন আর ভূতেরা&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;&amp;lsquo;খুনখারাপি&amp;rsquo; পড়া হয়নি, আমার প্রথম অর্জুন-অভিজ্ঞতা &amp;lsquo;সীতাহরণ রহস্য&amp;rsquo; থেকেই, ওই পূজাবার্ষিকীতে। পরে অর্জুন-চলচ্চিত্রায়ণ দেখতে গিয়ে মনে পড়ল, &amp;lsquo;পাঙ্ক&amp;rsquo; শব্দটার সঙ্গে সেই প্রথম পরিচয়, পরিচয় হাকিমপাড়ার অমল সোম আর বুড়িদির মেচেতার দাগগুলোর সঙ্গেও। পুজোসংখ্যাতেই তো প্রতিবছর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে পরিচয় হরেক কিসিমের ভূতের সঙ্গে (প্রায় গুপি গায়েন বাঘা বায়েনের ভূতের নাচের দৃশ্যটার মতোই), যাদের ভয় পাওয়াই সবচেয়ে কঠিন! একটার পর একটা, বিজ্ঞাপনের ভাষায় &amp;lsquo;আনপুটডাউনেবল&amp;rsquo; উপন্যাস, পুজোসংখ্যায় প্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যে বই হয়ে বেরত &amp;mdash; অপেক্ষা তার জন্যও। শীর্ষেন্দুর সেই স্বর্ণালি সাহিত্যের অমরত্ব বুঝতে পারি যখন এখনও &amp;lsquo;পাগলা সাহেবের কবর&amp;rsquo;, &amp;lsquo;হারানো কাকাতুয়া&amp;rsquo; বা &amp;lsquo;মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি&amp;rsquo; চতুর্দিকের কর্পোরেট-লাঞ্ছিত জীবনচর্যার মধ্যেও কী অনায়াসে মুহূর্তে ফিরিয়ে দেয় বইমুখো এক সদ্যকিশোরের কবে ফেলে আসা ধুকপুকিটাকে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;পুজোয় দলবদল&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;আনন্দমেলা-র বাইরে শারদীয়া সংখ্যার আকর্ষণও কম ছিল না। বিশেষ করে পুজোসংখ্যায় প্রকাশিত কমিকস-এর। নারায়ণ দেবনাথের বাঁটুল, হাঁদা-ভোঁদা শুকতারার জন্য, কিশোর ভারতীর জন্য দীর্ঘ দু-রঙা নন্টে-ফন্টে। এছাড়াও থাকতেন বিমল দাস, ময়ূখ চৌধুরীরা তাঁদের অনবদ্য রেখা-সম্মোহন নিয়ে। নারায়ণ দেবনাথ-এর &amp;lsquo;গোয়েন্দা কৌশিক&amp;rsquo; আর &amp;lsquo;ব্ল্যাক ডায়মন্ড&amp;rsquo; নিয়ে কাড়াকাড়িটা অনায়াসে আমাদের টিনটিন-উন্মাদনার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারত। স্কুলের ও পাড়ার বন্ধুদের মধ্যে পূজাবার্ষিকীর &amp;lsquo;বিনিময় প্রথা&amp;rsquo;-র কল্যাণে কত যে নতুন বন্ধুত্ব আর বন্ধুবিচ্ছেদের সাব-প্লট তৈরি হত প্রতিবছর, তা লিখতে বসলে অন্তত আরেকটা পুজোসংখ্যার আকার নেবে !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;কমিকস ছাড়া শারদীয়া শুকতারা-র মূল আকর্ষণ ছিল দুটো &amp;mdash; ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়ের পাণ্ডব গোয়েন্দা আর নয়ের দশকের শুরু থেকে অনিল ভৌমিকের ফ্রান্সিস। ভাইকিং বীর ফ্রান্সিসের প্রথম কাহিনি &amp;lsquo;সোনার ঘণ্টা&amp;rsquo; শুকতারা-য় প্রকাশ হতে না হতেই জনপ্রিয়, প্রায় প্রতিবছর শারদীয়া শুকতারার বিশেষ আকর্ষণ। আর বাবলু, বিলু, ভোম্বল, বাচ্চু, বিচ্ছু, পঞ্চু-র অ্যাডভেঞ্চার ছিল শারদীয়া শুকতারা কর্তৃপক্ষের মূল ট্রাম্পকার্ড। যে বছর থেকে পাণ্ডব গোয়েন্দারা আনন্দমেলায় ঠাঁই নিল, সে বছর থেকেই আমাদের মতো হাফপ্যান্ট শ্রেণীর কাছে শুকতারার &amp;lsquo;বিনিময় মূল্য&amp;rsquo; কমল। ময়দানের মতো এ &amp;lsquo;দলবদল&amp;rsquo;-এও চমক কম ছিল না।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;মিষ্টি সন্দেশ&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;প্রচ্ছদেই লেখা থাকত &amp;lsquo;লীলা মজুমদার, নলিনী দাশ ও সত্যজিৎ রায় সম্পাদিত&amp;rsquo;। সন্দেশ-এ তখন পাতায়-পাতায় চমক। পুজোসংখ্যা তো বটেই, সাধারণ সংখ্যারও বহু গল্পে ইলাস্ট্রেশন করছেন সত্যজিৎ রায়, থাকত মঞ্জিল সেন-সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের জমাটি কমিকস আর অবশ্যই ফেলুদা! বড়দের হাত ঘুরে দেশ-এর ফেলুদা গোগ্রাসে গেলার আগেই ১৯৮৫-তে সন্দেশ-এ পেয়ে গেলাম &amp;lsquo;বোসপুকুরে খুনখারাপি&amp;rsquo;, পরের বছর প্রফেসর শঙ্কুর &amp;lsquo;নেফ্রুদেৎ-এর সমাধি&amp;rsquo;, ১৯৮৭-তে আবার ফেলুদা &amp;lsquo;অপ্সরা থিয়েটারের মামলা&amp;rsquo;, ৮৮-তে ফের শঙ্কু-কাহিনি &amp;lsquo;ডাঃ দানিয়েলির আবিষ্কার&amp;rsquo;&amp;mdash; উফ্&amp;zwnj;, সে কী উত্তেজনা! সন্দেশ-এর সঙ্গে পাল্লা দিত দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় কিশোর ভারতী এবং খুব অল্পদিনের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর জ্ঞান-বিজ্ঞান।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;তবে স্বল্পায়ু আরেকটি পত্রিকা &amp;lsquo;চিলড্রেনস ডিটেকটিভ&amp;rsquo;-এর উল্লেখ না করাটা এক্ষেত্রে &amp;lsquo;ক্রাইম&amp;rsquo;-এর পর্যায়ে পড়বে। প্রায় পঁচিশ বছর পরেও শারদীয়া সংখ্যার প্রচ্ছদটা আজও চোখে ভাসে। সে এক বিচিত্র ধাঁধা &amp;mdash; প্রচ্ছদটাই বিভিন্ন জানোয়ারের মুখের অংশ একসঙ্গে জুড়ে একটা কোলাজ! তবে আমাদের কাত করে দিয়েছিল এই পত্রিকার &amp;lsquo;ড্রাকুলা&amp;rsquo; চিত্রকাহিনীটি&amp;mdash; পরে অনেক বড় বয়সে আবিষ্কার করেছি তার স্রষ্টাকে&amp;mdash; ফিলিপিনস-এর শিল্পী নেস্টর রেডন্ডো। কিন্তু তাতে কী, সৎ শিল্পের আবেদন আর কবে ভূগোলের সীমানা মেনেছে?&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;মা কী ছিলেন&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;চির আপশোস&amp;mdash; &amp;ldquo;ব্রাহ্মণের সে তেজ নাই/খাদ্যাখাদ্যে ভেদ নাই&amp;rdquo;&amp;mdash; &amp;ldquo;শারদ শিশুসাহিত্যের কী নিদারুণ অবক্ষয় ঘটেছে!&amp;rdquo; সেকাল নিয়ে এত শব্দ লেখার পরেও এক কথায় কালের সবটুকুই নস্যাৎ করে দেওয়া উচিত কি? যুগের বিচার বাদ দিয়ে লেখার মানের বিচার করি কী করে? প্রাক-ভুবনায়ন সময়টাই যে আলাদা ছিল !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;img src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/09/14/372c2f476c2fe0cd8bb24aee8298c48b178938342935864_original.jpg&quot; width=&quot;693&quot; height=&quot;964&quot; /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;হয়তো সব লেখকরা ধার হারাননি, আমরাই হারিয়ে ফেলেছি কল্পনার ডানাওয়ালা মনটাকে !&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;এআই দিয়ে নিজেদের আশির রঙে রাঙিয়েও, হারিয়ে যাওয়া সেই মনটাকে ফিরে পাওয়া যাবে কি?&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;&lt;a title=&quot;আরও পড়ুন - ৮০-তে আসিও না&quot; href=&quot;https://bengali.abplive.com/blog/1980s-ai-viral-image-trend-an-exclusive-column-by-suman-de-1192478&quot; target=&quot;_self&quot;&gt;আরও পড়ুন - ৮০-তে আসিও না&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/09/14/d70df88e62a8f8f90f734771b7ce1939178938399542564_original.png" width="220"/></item><item><title><![CDATA[৮০-তে আসিও না]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/1980s-ai-viral-image-trend-an-exclusive-column-by-suman-de-1192478</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/1980s-ai-viral-image-trend-an-exclusive-column-by-suman-de-1192478#respond</comments><pubDate>Fri, 11 Sep 2026 22:10:06 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ সুমন দে ]]></dc:creator><category><![CDATA[ লাইফস্টাইল-এর ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/1980s-ai-viral-image-trend-an-exclusive-column-by-suman-de-1192478</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;সুমন দে&lt;/p&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;হুজুগ আর কাকে বলে !&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;না এ জীবনে পাকা চুল আর কাঁচা হবে, না রক্তচাপের ওষুধ ছাড়া যাবে, তবু অতীতে ফেরার কি প্রাণান্তকর চেষ্টা মানুষের! এআইকে বললেই রংবাহারি সাবেকি জামাপ্যান্টে সাজিয়ে দিচ্ছে নিখুঁত স্টাইলে। একেবারে গত শতকের আশির দশকের ঢঙে--&amp;lsquo;শুটিং-শাটিং&amp;lsquo; কোম্পানির ঠিক যে ধরনের বিজ্ঞাপন আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকীর পেছনের পাতায় দেখা যেত, হুবহু যেন তাই! কাজেই এমন ভার্চুয়াল আই-ক্যান্ডির লোভ সংবরণ করা যে মুশকিল এটাও সহজেই অনুমেয়। তাই সমাজমাধ্যমের পাতা ভরে উঠছে ছবিতে, আর সেই ছবিগুলো যেন চিৎকার করে বলছে- ৮০-তে আসিও, বারবার আসিও, কল্পনায় আসিও, রঙিন ডানা লাগাইয়া আসিও...&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;আচ্ছা, এবার একবার ফ্ল্যাশব্যাক-এর ডানা লাগিয়ে অতীতে যাই, একবার মনে করে দেখি, কেমন ছিল আমাদের ছোটবেলার সেই ৮-এর দশক। সে দশকের একেবারে শুরুতে আমার স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি। ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপারহিট বাংলা ছবির কারণে &amp;lsquo;আশি&amp;lsquo; বললেই যে বুড়োটে ভাবটা মনে ভেসে ওঠে, এক নাবালকের জীবনে কিন্তু তার কোন অস্তিত্ব ছিল না। যুগটা ডিজিটাল ছিল না বটে, কিন্তু মনে করুন, সস্তা ডেটার দয়া-দাক্ষিণ্য ছাড়াই রীতিমতো রঙে ঝলমল করত আমাদের ছোটবেলা।&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং ছিল ঠিকই, কিন্তু মোমবাতি, হারিকেন আর লন্ঠনের আলোও ছিল। ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরত আসার মুহূর্তে গোটা পাড়াজুড়ে একসঙ্গে সেই হই-হই কলরব। এসি ছিল না বটে, কিন্তু এসির অভাববোধও তো ছিল না। মোবাইল ফোন, এস এম এস, ইমেল কিছু ছিল না, কিন্তু স্বমহিমায় ছিল আবেগের রকমারি ঢেউ-মাখা পোস্টকার্ড, ইনল্যান্ড লেটার আর নীল রঙের এয়ারমেল। পোস্টম্যানকাকুর অপেক্ষায় থাকা সবুজ রঙের লেটারবক্সটা দিনের মধ্যে কতবার যে খোলা হত আর প্রতিবার ওই লেটারবক্সের পেছনে লুকিয়ে থাকা টিকটিকিটা দুদ্দার করে সাময়িকভাবে অদৃশ্য হত- তারই ইয়ত্তা নেই। পাড়ার রকে আড্ডার বয়স তখনও হয়নি বটে, কিন্তু তখনই ফুটবল মাঠগুলোতে রাতারাতি বাড়ি হয়ে যাচ্ছিল আর ক্রিকেট বা ফুটবল খেলার জায়গা বলতে পড়ে ছিল কংক্রিটে বাঁধানো রাস্তা।&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;মনের যে রাস্তা দিয়ে ঠিক-ভুল আর ন্যায়-অন্যায়ের বিচারবোধ তৈরি হয় সেই রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন অরণ্যদেব আর ফেলুদা। সবচেয়ে মহার্ঘ্য কিন্তু বিরল উপহার ছিল দু&amp;lsquo;টাকার ইন্দ্রজাল কমিকস- প্রত্যেকটা বইয়ের স্টলে নারকেল দড়িতে পরপর ঝোলানো থাকত সাম্প্রতিক সংখ্যাগুলো। সত্যজিৎ রায় তখন নিয়মিত তাঁর রেখায় আর লেখায় গোটা ছোটবেলাটা ভরিয়ে দিচ্ছেন। একদিকে সন্দেশের সম্পাদনা আর অলংকরণ, তো অন্যদিকে আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকীতে শঙ্কু-কাহিনী। দেশ-এ থাকত ফেলুদার উপন্যাস, তবে দেশ পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে পড়ার অনুমতি ছিল শুধু ফেলুদাটুকুই।&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;আর ছিল সাদা-কালো টেলিভিশন, কিন্তু তার সে কী রঙ! কল্পনার রঙ, চেতনার রঙ, বিনোদনের রঙ - সবকিছু মিলেমিশে যেত ছোট্ট বাক্সটায়! অনিয়মিত সিগন্যালে প্রতি সন্ধেবেলায় ঝিরঝির করা ছবি, কাঁপতে থাকা প্রতিবিম্ব। ছবির দৃশ্যময়তা ফেরাতে কখনও দুপাশে শাটার দেওয়া টেলিভিশন সেটের মাথায় চাপড় মারা, কখনও ছাদে উঠে অ্যালুমিনিয়ামের অ্যান্টেনা ঘুরিয়ে টিভি সিগন্যাল ঠিক করার প্রাণান্তকর চেষ্টা- সে এক অভিযান ছিল বটে। সপ্তাহভর সবুরের মেওয়া ফলতো রবিবার সকালে । সাড়ে নটায় স্পাইডারম্যান, সাড়ে দশটায় হি-ম্যান আর এগারোটায় বিক্রম-বেতাল। তবে রবিবারগুলো সম্পূর্ণ পাল্টে গেল ১৯৮৭ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ... শুরু হল সকাল ন'টায় রামানন্দ সাগরের &amp;lsquo;রামায়ণ&amp;lsquo;। বাকিটা ইতিহাস।&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;আবেগের তো ইতিহাস হয় না, অভিধানও নেই। তাই আশির দশকের স্মৃতিমেদুর নস্টালজিয়া অন্তহীন। তাই শব্দে তাকে ধরতে চাইলে সে লেখাও চলতেই থাকবে। তাই আপাতত দাড়ি টানছি একটা ছবি দিয়ে। এ ছবিতে কোথাও এআই কামড় বসায়নি। এ ছবি অ্যানথ্রোপিক থেকে জ্যাকব ককসনের ইস্তফা দেওয়ার পাক্কা ৪৬ বছর আগের- একেবারে আগমার্কা আশির দশকের শুরুর এ ছবি। আরোপিত সিপিয়াটোন নয়, এই ছবির রঙ হলুদ হয়েছে সময়ের ধুলো পড়ে।&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;p&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/09/11/e2b783b25af044dc06960d2932547168178914462203264_original.jpeg&quot; width=&quot;528&quot; height=&quot;735&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;অতএব এআই ছাড়াই, আমিও আশিতে আসিলাম।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/09/11/01b5ab63f7d383eb09c745a9435f8085178914438577764_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[পশ্চিমবঙ্গের জন্মকথা : বাঙালি হিন্দুর বাঁচার লড়াই ও ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শী রাজনীতি]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/paschimbanga-diwas-the-bengali-hindus-struggle-for-survival-and-visionary-politics-of-bharat-keshari-shyama-prasad-mukherjee-a-column-1182453</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/paschimbanga-diwas-the-bengali-hindus-struggle-for-survival-and-visionary-politics-of-bharat-keshari-shyama-prasad-mukherjee-a-column-1182453#respond</comments><pubDate>Fri, 19 Jun 2026 19:11:35 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ ড: সুভাষ সরকার ]]></dc:creator><category><![CDATA[ জেলার ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/paschimbanga-diwas-the-bengali-hindus-struggle-for-survival-and-visionary-politics-of-bharat-keshari-shyama-prasad-mukherjee-a-column-1182453</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;strong&gt;পশ্চিমবঙ্গ দিবস&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;em&gt;ভূমিকা&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একসময়ে বহু দেশপ্রেমিক যুবক ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে জাতীয় সংগ্রামের একটি রাজনৈতিক বাহন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু একই সময়ে ভারতীয় রাজনীতির ভেতরে আরেকটি প্রবণতাও দৃশ্যমান হতে শুরু করে-মুসলিম সমাজের একাংশ পৃথক রাজনৈতিক পরিচয়, প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থরক্ষার দাবিকে সামনে আনতে থাকে। পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতার মধ্য দিয়েই উপমহাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন এবং পরবর্তীকালের &amp;lsquo;দ্বিজাতি তত্ত্ব&amp;rsquo;-এর ভিত্তি শক্তিশালী হতে থাকে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;শিমলা ডেপুটেশন ও পৃথক প্রতিনিধিত্বের রাজনীতি ১৯০৫ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মিন্টো। তাঁর সহধর্মিণী মেরি ক্যারোলিন গ্রে, যিনি &amp;lsquo;লেডি মিন্টো&amp;rsquo; নামে পরিচিত, সে সময়কার বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষক ছিলেন। ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর আগা খানের নেতৃত্বে &amp;lsquo;শিমলা ডেপুটেশন&amp;rsquo; ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দল মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনমণ্ডলী, জনসংখ্যার অনুপাতে বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সরকারি চাকরিতে সুযোগ বৃদ্ধির দাবি জানায়। লেডি মিন্টো এই বৈঠকের সাক্ষী ছিলেন এবং পরবর্তীকালে তাঁর ডায়েরিতে এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মুসলিম নেতৃত্বের এই উদ্যোগ কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকল্প রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করতে পারে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার দাবির প্রেক্ষিতে ভাইসরয়ের আশ্বাস- পরবর্তীকালে ১৯০৯ সালের &amp;lsquo;ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট&amp;rsquo;-এ প্রতিফলিত হয় এবং পৃথক নির্বাচনী মণ্ডলীর ধারণা আইনগত স্বীকৃতি লাভ করে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;মুসলিম লিগের উত্থান ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;শিমলা ডেপুটেশনের অল্প সময়ের মধ্যেই ১৯০৬ সালে ঢাকায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগের প্রতিষ্ঠা হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে মুসলিম লিগ মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত করে। পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমশ ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রূপ পেতে শুরু করে। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, এই কাঠামো ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সমান্তরাল বিকাশকে উৎসাহিত করে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;স্বাধীনতার প্রাক্কালে বাংলা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;১৯৪০-এর দশকে এসে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মুসলিম লিগ পাকিস্তান দাবিকে সামনে এনে রাজনৈতিক আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে। ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত &amp;lsquo;ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে&amp;rsquo;-এর পর কলকাতায় ভয়াবহ,নৃশংস সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যা এবং সামাজিক অস্থিরতার বহু বিবরণ ইতিহাসে নথিভুক্ত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে ভিন্নতা রয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা কেউ বলেন ৫০,০০০ আবার কেউ বলেন ১,০০,০০০ (এক লক্ষ)।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কলকাতার ঘটনার দুই মাসের মধ্যেই হিন্দু প্রধান নোওয়াখালিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হয়। বিভিন্ন বিবরণে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং নারীর ওপর সহিংসতার কথা উঠে এসেছে। পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে মহাত্মা গান্ধী সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। এই ঘটনাগুলি বাংলার সাধারণ মানুষের মানসিকতা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;বাংলা বিভাজন প্রশ্নে রাজনৈতিক মতভেদ&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতার পূর্বমুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়&amp;mdash; বাংলা কি অখণ্ড থাকবে, নাকি বিভক্ত হবে? একদিকে ছিল &amp;lsquo;ইউনাইটেড বেঙ্গল&amp;rsquo;-এর ধারণা, অন্যদিকে বাংলার একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় যে, সমগ্র বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বঙ্গ বিভাজনের পক্ষে জনমত সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সভা করেন এবং যুক্তি দেন যে, হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত রাখার জন্য বিভাজন প্রয়োজন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এই সময় আরও নেতাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন এই শ্যামাপ্রসাদ। যারা রাজনৈতিক ও সামাজিক &amp;nbsp;জনমত গঠনে অংশ নেন। সুচেতা কৃপালনীও কলকাতায় শ্রদ্ধানন্দ পার্কে &amp;nbsp;সভা করে &amp;lsquo;ইউনাইটেড বেঙ্গল&amp;rsquo; প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/06/19/79c6243c890dd93772585e5e0bdce687178188162333764_original.jpg&quot; width=&quot;1440&quot; height=&quot;959&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ও ঐতিহাসিক ভোট&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;শ্যামাপ্রসাদ প্রেরিত মাউন্টব্যাটেন কে দেওয়া সাহসী চিঠি এবং ১১ই মে পন্ডিত নেহরুকে দেওয়া রাজনৈতিক পত্রের প্রভাবেই ১৯৪৭ সালে লর্ড মাউন্টব্যাটেনের অধীনে ঘোষিত &amp;lsquo;থার্ড জুন প্ল্যান&amp;rsquo;-এ বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আইনসভার সদস্যদের ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। এর ঐতিহাসিক প্রমাণ হচ্ছে তিন দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৪ই মে,১৯৪৭ শ্যামাপ্রসাদকে দেওয়া নেহরুর উত্তর। ২০ জুন ১৯৪৭ অনুষ্ঠিত হয় গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণ।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;em&gt;ভোট প্রক্রিয়া তিনটি ধাপে বিভক্ত ছিল&amp;mdash;&lt;/em&gt;&lt;br /&gt;১. যৌথ অধিবেশন&amp;mdash; বাংলা অখণ্ড থাকবে কি না।&lt;br /&gt;২. মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রতিনিধিদের মতামত। অর্থাৎ তাঁরা ভারতে না পাকিস্তানে কোথায় থাকতে চান। ফল - পাকিস্তানে এবং তাঁরা নূতন সংবিধান তৈরি করতে চান।&lt;br /&gt;৩. অমুসলিম বা হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত।&lt;br /&gt;৫৮-২১ ভোটে নির্ণয় হয় বাংলা বিভক্ত হোক এবং তাঁরা ভারতে থাকতে চান এবং ভারতের সংবিধানেই তাঁরা মান্যতা দেবেন।&lt;br /&gt;এই ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলা বিভক্ত হয়।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা: ইতিহাস ও উত্তরাধিকার&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;বাংলা বিভাজনের ফলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি ছিল রাজনৈতিক আলোচনা, জনমত, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং উপমহাদেশের পরিবর্তিত বাস্তবতার সম্মিলিত ফল। অর্থাৎ এই ২০ জুনই নির্ণয় হয়ে গেল ভারতের স্বাধীনতায় পশ্চিমবঙ্গ অংশটি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে আর পূর্ববঙ্গ পূর্ব পাকিস্তান হয়ে পাকিস্তানের অংশ হবে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;তবে একটি বিষয় স্পষ্ট-স্বাধীনতা ও বিভাজনের ইতিহাস কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইতিহাস নয়; এটি মানুষের উদ্বেগ, আকাঙ্ক্ষা, সংঘাত ও ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও ইতিহাস।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;উপসংহার&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;বাংলা বিভাজন এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস আজও গর্বের সহিত আলোচনার বিষয়। পূর্বের আটজন মুখ্যমন্ত্রী কেন পারলেন না এই সত্য ইতিহাস সামনে আনতে, পাঠকগণই প্রশ্নের উত্তর সামনে আনবেন।&lt;br /&gt;ইতিহাসের উদ্দেশ্য কেবল অতীতের বিচার নয়&amp;mdash; বর্তমানকে বোঝা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন হওয়াও তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই আজ মানুষ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস ঘোষণার জন্য ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতায় ভরিয়ে দেবে। আসুন, আমরা প্রজন্মর পর প্রজন্ম এই ইতিহাস যেন স্মরণ রাখি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;em&gt;&lt;strong&gt;লেখক&amp;nbsp; ড. সুভাষ সরকার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও ভারত সরকারের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। প্রতিবেদনটিতে মতামত লেখকের নিজস্ব এবং এবিপি লাইভ ও এবিপি আনন্দ কর্তৃক লিখিত নয়।&lt;/strong&gt;&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/06/19/268816946153c6d654659c06442198d0178187628677664_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[‘অবিলম্বে ফ্রিজ করা হোক তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট’—ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে চিঠি খোদ তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের !]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/freeze-aitc-bank-accounts-immediately-letter-to-the-bank-manager-from-trinamool-treasurer-aroop-biswas-himself-suman-dey-sangesuman-breaking-news-1182286</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/freeze-aitc-bank-accounts-immediately-letter-to-the-bank-manager-from-trinamool-treasurer-aroop-biswas-himself-suman-dey-sangesuman-breaking-news-1182286#respond</comments><pubDate>Thu, 18 Jun 2026 03:05:49 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ সুমন দে ]]></dc:creator><category><![CDATA[ জেলার ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/freeze-aitc-bank-accounts-immediately-letter-to-the-bank-manager-from-trinamool-treasurer-aroop-biswas-himself-suman-dey-sangesuman-breaking-news-1182286</guid><description><![CDATA[&lt;div class=&quot;xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;সুমন দে&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;BREAKING NEWS:&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;lsquo;অবিলম্বে ফ্রিজ করা হোক তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট&amp;rsquo;&amp;mdash;ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে চিঠি খোদ তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের !&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;সংসদীয় ও পরিষদীয় দলে বড় ভাঙনের কথা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নিজেই জানাচ্ছেন চিঠিতে!&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি লিখে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। দলের অ্যাকাউন্টে সব লেনদেন বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অরূপ বিশ্বাসের চিঠিতে এবার নতুন করে সঙ্কটে পড়ল কালীঘাট তৃণমূল। অরূপ বিশ্বাস, তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ব্যাঙ্কের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, দলের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল চলছে,সাংসদদের অনেকে দল ছেড়ে দিয়েছেন,আবার বিধায়কদের মধ্যে অনেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, দলের প্রতীক কার হাতে থাকবে, দলের সম্পত্তির অধিকার কে পাবে--তা নিয়ে বিবাদ চলছে। ফলে কে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে এই অবস্থায় দলের অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে, সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। না হলে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;ফলে যতক্ষণ দলের মধ্যেকার সমস্যা সমাধান হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত যে কোনও ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হোক--বলছেন খোদ দলের কোষাধ্যক্ষ!&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;অরূপ বিশ্বাসের এই চিঠিতে নতুন সমস্যায় পড়ল &amp;lsquo;কালীঘাট তৃণমূল।&amp;rsquo; এমনিতেই ভোটের পর দল ভেঙে খান-খান হয়েছে। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বও দলের মধ্যেও চ্যালেঞ্জের মুখে। তার ওপর এবার কয়েকশো কোটি টাকা তহবিল সত্যি-সত্যিই ফ্রিজ হলে তা থেকে তৈরি হতে পারে চরম আর্থিক সঙ্কট! দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অরূপ বিশ্বাসের চিঠিকে নিঃসন্দেহে মান্যতা দিতেই পারে ব্যাঙ্ক।&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;সবচেয়ে বড় কথা, আদৌ কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর পরামর্শক্রমে এই চিঠি লিখেছেন অরূপ বিশ্বাস?&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a&quot;&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;৩ বার হাজিরা এড়িয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। আজ কি উপস্থিত হবেন বিধাননগর দক্ষিণ থানায়? আর দুষ্টু লোকেরা প্রশ্ন করতেই পারে, এবার হাজির হলে তাহলে কি ধরে নেয়া যাবে যে সেই হাজিরার সঙ্গে এই চিঠি লেখার কোনও সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে ?&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/06/18/bd5da9fa256fe85c44b8add1e5ac8f2d178173209979464_original.jpg&quot; width=&quot;139&quot; height=&quot;139&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;
&lt;div dir=&quot;auto&quot;&gt;[tw]https://x.com/IamSumanDe/status/2067346110574969172?s=20[/tw]&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/06/18/111aeffa52100851b64945b9b3690451178173185913964_original.jpeg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[ডক্টর জেন গুডঅল ও শিম্পাঞ্জি: বিজ্ঞান ও ভালোবাসা]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/dr-jane-goodall-and-chimpanzees-science-and-love-1182172</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/dr-jane-goodall-and-chimpanzees-science-and-love-1182172#respond</comments><pubDate>Tue, 16 Jun 2026 21:29:49 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ ডঃ উৎপল অধিকারী ]]></dc:creator><category><![CDATA[ বিজ্ঞান ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/dr-jane-goodall-and-chimpanzees-science-and-love-1182172</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;একুশ শতকের গোড়ায় যখন মহাকাশ গবেষণায় মানবজাতি নিজেদের গৌরবের গল্প লিখছিল, তখন পৃথিবীর এক প্রান্তে একজন তরুণী নারী মানুষ নয়, নামানুষের মন বুঝতে নেমেছিলেন। তার নাম-ডক্টর জেন গুডঅল। ১৯৬০ সালে, ব্রিটেনের এক কিশোরী বই হাতে বসে ছিল আফ্রিকার বন্যজঙ্গলের স্বপ্নে। তখন সে জানত না, একদিন তার নামই হবে প্রাণীবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিপ্লবের প্রতীক। সে এমন এক গবেষণা শুরু করবেন, যা মানুষের &amp;ldquo;মানুষ&amp;rdquo; হওয়ার ধারণাকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কঙ্গো নদীর তীরে, তানজানিয়ার গোম্বে ন্যাশনাল পার্ক। এক ভোরে দূরবীন হাতে জেন পাহাড়ের ঢালে বসে আছেন। নিচে ঘন ঝোপে একদল শিম্পাঞ্জি ফল খুঁজছে। একটিকে তিনি আলাদা করে লক্ষ্য করলেন-সে সাবধানে একটি ডাল ভেঙে নিয়ে পিঁপড়ের বাসায় ঢুকিয়ে বের করছে, তারপর পিঁপড়ে চেটে খাচ্ছে। জেন বিস্মিত হলেন। &amp;ldquo;ওরা সরঞ্জাম ব্যবহার করছে!&amp;rdquo; এই দৃশ্য মানুষের জ্ঞানবিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে, কারণ, এর আগে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন মানুষই একমাত্র যন্ত্র ব্যবহারকারী প্রাণী। কিন্তু জেন প্রমাণ করলেন, শিম্পাঞ্জিরাও বুদ্ধিমত্তার শিখরে পৌঁছাতে পারে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;গুডঅলের এই আবিষ্কার বিজ্ঞানকে কাঁপিয়ে দেয়। নোবেলজয়ী জীববিজ্ঞানী লুইস লিকি তাকে বলেছিলেন, &amp;ldquo;আমাদের হয় মানুষের সংজ্ঞা নতুন করে ভাবতে হবে, নয়তো শিম্পাঞ্জিদের মানুষ বলতে হবে।&amp;rdquo; এরপর থেকে প্রাণী বিজ্ঞানের পাঠে &amp;ldquo;মানুষ বনাম প্রাণী&amp;rdquo;র বিভাজনরেখা অনেকটা মুছে যায়। জেন দেখিয়েছিলেন শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে ভালোবাসা, রাগ, প্রতিশোধ, সহানুভূতি ও শিক্ষা আছে। প্রথমদিকে গোম্বের শিম্পাঞ্জিরা জেনকে ভয় পেত। তারা দূরে পালিয়ে যেত। মাসের পর মাস তিনি নিঃশব্দে বসে থাকতেন, শুধু তাদের পর্যবেক্ষণ করতেন। তিনি কখনও হঠাৎ নড়তেন না, কখনও দৃষ্টি সরাতেন না। ধীরে ধীরে একদিন, এক শিম্পাঞ্জি তার দিকে এগিয়ে এল। হাতে ছিল একটি কলা। সে তা জেনের দিকে বাড়িয়ে দিল। এটাই ছিল তাদের মধ্যে প্রথম বন্ধুত্বের মুহূর্ত। সেই শিম্পাঞ্জিটির নাম তিনি দিলেন ডেভিড গ্রেবিয়ার্ড। পরে এই ডেভিডই ছিল তার গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু। জেন গুডঅলের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে শিম্পাঞ্জিদের জটিল সামাজিক জীবন। তাদের সমাজে আছে নেতৃত্ব, গোষ্ঠী রাজনীতি, বন্ধুত্ব, এমনকি বিশ্বাসঘাতকতাও। একটি গল্প বিজ্ঞানীদের মন কেড়েছিল-এক মা শিম্পাঞ্জি &amp;ldquo;ফ্লো&amp;rdquo; ও তার ছেলে &amp;ldquo;ফ্লিন্ট&amp;rdquo;। মা মারা গেলে ফ্লিন্ট খাওয়া বন্ধ করে দেয় ও একা বসে থাকে, শেষমেশ ধীরে ধীরে সে মারা যায়। জেন লিখেছিলেন, &amp;ldquo;ফ্লিন্টের মৃত্যু আমাকে বুঝিয়েছিল-দুঃখ কেবল মানুষের নয়, প্রাণীদেরও আছে।&amp;rdquo; এই পর্যবেক্ষণ থেকেই প্রাণীর &amp;ldquo;আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা&amp;rdquo; নিয়ে আধুনিক মনোবিজ্ঞানে নতুন মাত্রা পায়। বিজ্ঞানীরা পরবর্তীতে শিম্পাঞ্জিদের শরীরে অক্সিটোসিন ও ডোপামিন হরমোনের উপস্থিতি শনাক্ত করেন, যা মানুষের ভালোবাসা ও আনন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থাৎ যখন শিম্পাঞ্জি মায়ের কোলে তার বাচ্চা ঘুমায়, বা বন্ধুকে আলিঙ্গন করে তার মস্তিষ্কেও মানুষের মতোই ভালোবাসার হরমোন ক্ষরিত হয়। জেনের এই গবেষণাই প্রথম দেখায় যে ভালোবাসা কেবল মানুষদের নয়, প্রাণীদেরও হয়।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;তবে শিম্পাঞ্জির সমাজে কেবল স্নেহ নয়, আছে ক্ষমতার দ্বন্দ্বও। একসময় জেন লক্ষ্য করলেন, দুটি শিম্পাঞ্জি &amp;nbsp;গোষ্ঠী কাসেকালা ও কাহামা একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু করেছে। পুরুষ শিম্পাঞ্জিরা দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করে প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে হত্যা করছে। এ ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা নাম দেন &amp;lsquo;শিম্পাঞ্জি যুদ্ধ&amp;rsquo;। মানুষের ইতিহাসে যুদ্ধ যেমন সভ্যতার অন্ধকার দিক, তেমনিই শিম্পাঞ্জিরাও প্রমাণ করে সহানুভূতির পাশাপাশি আগ্রাসনও কিন্তু বিবর্তনের অংশ। গুডঅলের গবেষণা কেবল বিজ্ঞানের নয়, মানবিকতার দিক থেকেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/06/16/40ec0b900f7b8838b79104d3531f1ef11781625949790223_original.png&quot; width=&quot;605&quot; height=&quot;403&quot; /&gt;&lt;br /&gt;তিনি বলেছিলেন, &amp;ldquo;আমরা যদি প্রাণীদের আবেগ বুঝতে পারি, তবে হয়তো মানুষকে আরও মানবিকভাবে ভালোবাসতে শিখব।&amp;rdquo; পরবর্তী জীবনে তিনি &amp;ldquo;Jane Goodall Institute&amp;rdquo; গঠন করেন এটি একটি বৈজ্ঞানিক ও সংরক্ষণমূলক সংগঠন যা আজও আফ্রিকার বনভূমি ও শিম্পাঞ্জি প্রজাতি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;জেনের গবেষণার ফলে আজ আমরা জানি, মানুষের ও শিম্পাঞ্জির ডিএনএ এর মিল ৯৮.৭ শতাংশ। এই সামান্য জেনেটিক পার্থক্যই আমাদের দিয়েছে ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি কিন্তু আবেগ, বন্ধন, মাতৃত্ব ও ভালোবাসা আমাদের মধ্যে অভিন্ন। যখন কোনো শিম্পাঞ্জি বাচ্চা মাকে হারিয়ে কাঁদে বা দুই বন্ধু আলিঙ্গনে মিলে যায় তখন আমরা কিন্তু নিজেদের প্রতিচ্ছবিই দেখি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;একদিন জেন তার ডায়েরিতে লিখেছিলেন-&amp;ldquo;আমি ওদের দিকে তাকিয়ে থাকি, দেখি তারা কেমন করে ফল ভাগ করে খায়, একে অপরের লোম থেকে পোকা বেছে দেয়, আর মনে হয়, ওরা আমাকে মানুষের প্রাচীন রূপ দেখাচ্ছে।&amp;rdquo; এই &amp;lsquo;প্রাচীন রূপ&amp;rsquo;ই আমাদের বিবর্তনের ইতিহাস। যে মুহূর্তে মানুষ প্রথমবার অন্যের জন্য কিছু করেছিল, প্রথমবার কারও মৃত্যুর জন্য কেঁদেছিল সেই মুহূর্ত থেকেই ভালোবাসার জন্ম হয়েছিল। ডক্টর জেন গুডঅল প্রমাণ করেছেন-বিজ্ঞান কেবল পরীক্ষাগারে জন্মায় না, এটি জন্মায় সহানুভূতির চোখে ও ভালোবাসার বন্ধনে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক- পূর্ব বর্ধমানের আঝাপুর হাই স্কুলের সহ শিক্ষক। প্রতিবেদনটি এবিপি লাইভ কর্তৃক বিষয়-সম্পাদিত নয়।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/06/16/db2e23577501758ef288a9fc92bc50141781625542474223_original.png" width="220"/></item><item><title><![CDATA[সর্বস্তরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/bjp-won-tmc-lost-the-manifestation-of-pent-up-anger-across-all-levels-arnab-saha-column-1179749</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/bjp-won-tmc-lost-the-manifestation-of-pent-up-anger-across-all-levels-arnab-saha-column-1179749#respond</comments><pubDate>Thu, 21 May 2026 22:12:21 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ অর্ণব সাহা ]]></dc:creator><category><![CDATA[ জেলার ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/bjp-won-tmc-lost-the-manifestation-of-pent-up-anger-across-all-levels-arnab-saha-column-1179749</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;অর্ণব সাহা&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;৪ মে, ২০২৬। বিকেলের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত রাস্তার সিগন্যালের রঙ গেরুয়া। ১৯৫১ সালের অক্টোবর মাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি প্রতিষ্ঠা করেন &amp;lsquo;ভারতীয় জনসঙ্ঘ&amp;rsquo;। ১৯৫২-র প্রথম সাধারণ নির্বাচনে সেই দল পশ্চিমবঙ্গে দুটি লোকসভা &amp;nbsp;আসন পায়। স্বয়ং শ্যামাপ্রসাদ জেতেন দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকে। দীর্ঘ সাতদশকের খরা কাটিয়ে সেই দলের উত্তরসূরি ভারতীয় জনতা পার্টি একক ক্ষমতায় সরকারে এল এইবার। যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেককেই বিস্মিত করেছে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কিন্তু বিস্মিত হবার খুব একটা কারণ নেই। ২০১৯-এর লোকসভায় ১৮ টা আসন পেয়ে বিজেপি বুঝিয়ে দিয়েছিল, তারা বাংলার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের মন দখল করে ফেলেছে। এবার তারা পেয়েছে ৪৫.২ শতাংশ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট নেমে গিয়েছে ৪০.২ শতাংশে। সংখ্যার ফারাক ৩২ লক্ষ হলেও আসনের বিচারে তা গোটা ফলাফলকেই ওলটপালট করে দিয়েছে ! সমাজের সর্বস্তরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বারুদে অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ না ঘটলে এরকম ফলাফল হওয়া সম্ভব নয়। &amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/05/21/4b8eaf2cad09bbf2f9efa5d793b4eb38177938206168664_original.jpg&quot; width=&quot;1052&quot; height=&quot;679&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;চারটি ক্ষেত্র নিয়ে দু&amp;rsquo;চার কথা বলা যায়। &amp;nbsp;প্রথমত, শিক্ষাক্ষেত্র। পরিসংখ্যান বলছে, তৃণমূলের পনেরো বছরে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর অব্দি শিক্ষাক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে স্কুলের মোট সংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের সামান্য বেশি। আজ তার সংখ্যা ৮২ হাজার। বহু প্রাইমারি স্কুলকে আপার প্রাইমারি, মাধ্যমিক স্কুলকে উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে রূপান্তরিত করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে বেশ কিছু সরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কলেজের সংখ্যা শতাধিক বেড়ে হয়েছে ৪৩২। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৬ টি, যদিও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৃহদংশের এখনও অব্দি স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। গেস্ট ফ্যাকাল্টি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে !&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্র সম্প্রসারণের ফলে এক বিরাটসংখ্যক উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়ের সংগঠিত বাহিনী তৈরি হয়েছে। মাস্টারডিগ্রি ও পিএইচডির সংখ্যাও বিপুল হারে বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষা ও গবেষণা শেষ হবার পরে তাঁরা উপযুক্ত চাকরি পাচ্ছেন না। ওই পরিমাণ সরকারি শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই যা দিয়ে এই বিপুল শিক্ষিত বেকারদের নিযুক্ত করা যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার এর পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাক্ষেত্রকেও উপযুক্ত পরিকাঠামো দিয়ে উৎসাহিত করলে এদের একটা বড়ো অংশকে সেখানে নিয়োগপত্র দেওয়া যেত।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি। সমাজের সমস্ত ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতিকে &amp;lsquo;নরমালাইজ&amp;rsquo; করেছে এই সরকার। বিশেষত, শিক্ষাক্ষেত্রে ২০১৪-র শেষদিক থেকে যে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে, তা এই সরকারের আমলে &amp;nbsp;প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অব্দি এক লক্ষ সতেরো হাজার নিয়োগের সাফল্যকে চরম কালিমালিপ্ত করেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ, স্কুল সার্ভিস কমিশনে ২০১৬ সালের নিয়োগের ক্ষেত্রে এক অস্বাভাবিক দুর্নীতি, যে কারণে সুপ্রিম কোর্ট ২৬০০০-এর পুরো প্যানেল বাতিল করার নির্দেশ দেয়। যদিও একটা সেগ্রিগেশন তাদের ক্ষেত্রে করা গেছে। যোগ্য ৮,০০০। অযোগ্য ১৮,০০০। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের রায়ে অনড় থেকেছে। বাঙালির মতো শিক্ষা-সংস্কৃতিতে এগিয়ে থাকা জাতির কাছে এই ঘটনা প্রায় আগ্নেয় গোলার মতো আঘাত হেনেছে। &amp;nbsp;কারণ এটি নজিরবিহীন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;একইভাবে নারী-নিরাপত্তায় গোটা ভারতে উপরদিকে থাকা সত্ত্বেও ৯ আগস্ট ২০২৪, আরজি কর হাসপাতালে ডাক্তারি ছাত্রীর নৃশংস খুন গোটা জনসমাজকে প্রায় আগ্নেয়গিরির উপরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তৎক্ষণাৎ এর প্রভাব বোঝা না গেলেও জনসমাজে এই ঘটনার অভিঘাত যে একেবারে উপর থেকে নীচ অব্দি তিলে তিলে পড়েছে, তার প্রমাণ এই বিধ্বংসী ফলাফল। গোটা ডাক্তারি ক্ষেত্রটিই যে দুর্নীতির ঘুণপোকায় ঝাঁঝরা, তা এই ঘটনায় বে-আব্রু হয়ে গেছে, যার ফল হয়েছে মারাত্মক।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;তৃতীয়ত, ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি। বলা হয়, তৃণমূল সরকার রাজ্যের কমবেশি ৩০ শতাংশ মুসলমানের ভোট একলপ্তে পায়। কিন্তু বিগত পনেরো বছরে মুসলিম সমাজেও এক নীরব শিক্ষিত শ্রেণির উত্থান ঘটেছে। এই পিছিয়ে-থাকা জনগোষ্ঠীর চাহিদা, আকাঙ্ক্ষাও বদলে গিয়েছে। শুধু ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা, ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ আর বিজেপির জুজু দেখিয়ে সেই বিরাট জনসমষ্টিকে তুষ্ট রাখা যায়নি। ব্রিটিশ আসার আগে যে বৃহত্তর মুর্শিদাবাদ গোটা বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ বাণিজ্যের অধিকারী ছিল, সেই মুর্শিদাবাদ আজ সবচেয়ে হতদরিদ্র জেলা। ২০১৯-এর পর থেকে তৃণমূল নেত্রী নরম হিন্দুত্বের লাইন নিয়েছিলেন। সরকারি কোষাগারের টাকায় একের পর এক হিন্দু মন্দির তৈরি করে বৃহত্তর হিন্দু জনগোষ্ঠীর মন পেতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু &amp;lsquo;হিন্দুত্বের&amp;rsquo; রাজনৈতিক লাইনে বিজেপি অনেক বড়ো ও পুরোনো খেলোয়াড়। ওই লাইনে তাকে হারানো অসম্ভব। ফলত মুখ্যমন্ত্রীর &amp;lsquo;সফট হিন্দুত্ব&amp;rsquo; আসলে বিজেপিকেই আরও বেশি জাস্টিফায়েড করেছে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;চতুর্থত, &amp;lsquo;আইপ্যাক&amp;rsquo; নামক ভোটকুশলী সংস্থার হাতে দলের স্বতঃস্ফূর্ত, অরগ্যানিক, কিছুটা গণ-অংশগ্রহণমূলক কাঠামোটিকে তুলে দেওয়া ও তাকে ধ্বংস করার অবাস্তব পরিকল্পনা, পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে এই সংস্থাটির সঙ্গে আর্থিক ও ক্ষমতার দুর্নীতি অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক। দল সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে &amp;nbsp;গিয়েছিল, যা নেতারা বুঝতে পারেননি। &amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/05/21/9e52a9ad6022a3428c2db8d459b96b91177938211149664_original.jpg&quot; width=&quot;1092&quot; height=&quot;810&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;নতুন বিজেপি সরকারের কাছে রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা অনেক। প্রথমত, রাজ্যে একের পর এক বৃহৎ শিল্পের প্রতিষ্ঠা অবিলম্বে জরুরি। কর্মসংস্থান ও অর্থের সামাজিক জোগান তাতে বাড়বে, রেভিনিউ বাড়বে, ফলত উপকৃত হবে সরকারি ক্ষেত্র, চাঙ্গা হয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বাজার। ভারতের মধ্যে সবচেয়ে কম মহার্ঘ ভাতা পান পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকেরা।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;দ্বিতীয়ত, সরকারি শিক্ষাক্ষেত্রের সার্বিক পুনরুজ্জীবন চাই। এই ছন্নছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রটিকে পুনর্গঠিত করতে হলে আজকের বাজারোপযোগী ও যুগোপযোগী সিলেবাস, লজিস্টিকস ও অন্যান্য পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন দরকার। এই কাজে সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের সমন্বয় জরুরি। গরিব, মধ্যবিত্তের সন্তানেরা যাতে পশ্চিমবঙ্গেই শিক্ষা পেয়ে এই রাজ্যেই চাকরি পায় তা নিশ্চিত করা দরকার।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;তৃতীয়ত, &amp;lsquo;ইনক্লুসিভ&amp;rsquo; সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো। এই ক্ষেত্রে &amp;lsquo;শত পুষ্প বিকশিত হোক&amp;rsquo;&amp;mdash;এই লাইন অগ্রাধিকার পাক। কেবল কয়েকজনের সিন্ডিকেটের দাদাগিরির জন্য অনির্বাণ ভট্টাচার্যর মাপের গুণী শিল্পীকে বয়কট করা হয়েছে। বাংলায় বাম, দক্ষিণ, মধ্যপন্থা&amp;mdash;সাংস্কৃতিক আঙিনায় এই খোলা হাওয়া আনুক নতুন বিজেপি সরকার&amp;mdash;এটা সকলেরই প্রত্যাশা।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;চতুর্থত, দুর্নীতিমুক্ত একটি স্বচ্ছ প্রশাসন চাই। চাকরি পেতে গেলে টাকা, বদলি পেতে গেলে টাকা, বাড়িতে ইট গাঁথতে গেলে টাকা, দোকান খুলতে গেলে টাকা, ব্যবসা করতে গেলে কাটমানির এই চক্র অবিলম্বে বন্ধ হোক। সর্বোপরি, হিন্দু, মুসলমান, ধনী, দরিদ্র, নারী, পুরুষ, উঁচু-নীচু নির্বিশেষে সমস্ত জাতি-বর্ণের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ঘটাক এই নতুন সরকার&amp;mdash;গোটা রাজ্যবাসী সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;তৃণমূল কোনও হার্ডকোর মতাদর্শনির্ভর দল ছিল না। কিন্তু বিজেপি রেজিমেন্টেড এবং একটি নির্দিষ্ট আইডিওলজিভিত্তিক দল হলেও এবার কিন্তু তাঁরা রাজ্যের সাড়ে দশ কোটি মানুষের শাসক। সম্পূর্ণ পক্ষপাতমুক্ত, উদার, সমন্বয়ী একটি নতুন সরকারের প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছে জনগণ। বাংলা ভাষা-সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিসত্তার কিছু পৃথক নিজস্বতা রয়েছে। আশা করা যায়, সেই নিজস্বতা ও অস্মিতার জায়গাগুলোকে তাঁরা মর্যাদা দেবেন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lt;em&gt;লেখক - অর্ণব সাহা&amp;nbsp; কলকাতার শেঠ আনন্দরাম জয়পুরিয়া কলেজের শিক্ষক। &lt;/em&gt;প্রতিবেদনটি এবিপি আনন্দ, এবিপি লাইভ বাংলা ও এবিপি নেটওয়ার্ক কর্তৃক লিখিত ও সম্পাদিত নয়। মতামত লেখকের নিজস্ব।&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/05/21/52070e8deec48d65bc76f90b7edab3fc177938168735264_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি, নাকি ক্ষমতার অবশ্যম্ভাবী পতন?]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/the-common-people-of-west-bengal-were-seeking-freedom-from-the-trinamool-rule-a-column-by-rabindranath-bhattacharya-1178801</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/the-common-people-of-west-bengal-were-seeking-freedom-from-the-trinamool-rule-a-column-by-rabindranath-bhattacharya-1178801#respond</comments><pubDate>Mon, 11 May 2026 15:30:33 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ]]></dc:creator><category><![CDATA[ জেলার ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/the-common-people-of-west-bengal-were-seeking-freedom-from-the-trinamool-rule-a-column-by-rabindranath-bhattacharya-1178801</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;strong&gt;রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য :&lt;/strong&gt; মুসলমানদের বিজেপির জুজু আর মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে সর্বস্তরে এবং সর্ব ক্ষেত্রে চুরি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট চালানো তৃণমূল সরকারকে শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিতাড়িত করলো। গত দশ বছর আমরা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ নাগরিক অদ্ভূত এক নেইরাজ্যের বাসিন্দা হয়ে গেছিলাম। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের চাকরি নেই, কল-কারখানা নেই, স্কুল কলেজে শিক্ষক নেই, আট হাজার এর উপর মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ির আশে পাশে সরকারি স্কুল নেই, আইনের শাসন নেই, মেয়েদের সুরক্ষা নেই, সরকারি কর্মচারীর ডিএ নেই। ছিলো শুধু মূল্যবৃদ্ধির সূচকের সঙ্গে সঙ্গতিহীন নামমাত্র ভাতা। দেড়হাজারি ভাতার থেকে সরকারি হোক বেসরকারি হোক গ্রুপডি চাকরিও যে অনেক অনেক বেশী দামী, তা কে এই কৌরবকূলকে বোঝাবে! কিন্তু কুশাসনে অভ্যস্ত নেই-রাজ্যের বাসিন্দাদেরও যে ক্ষোভের বেলুন একদিন ফেটে যেতে পারে &amp;ndash; সেটা এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতায় আসীন স্তাবক পরিবৃত কুশাসকের দল বোঝবার চেষ্টাই করেনি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;নাগরিকেরা কিন্তু তাদের ক্ষোভ দীর্ঘ এই সময়ে বারবার বোঝাতে চেয়েছেন। পঞ্চায়েত পৌরসংস্থার প্রত্যেকটি নির্বাচনে বিশেষত ২০১৮ এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে &amp;nbsp;বিরোধী দল- সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপি প্রার্থীদের বলপূর্বক প্রার্থীপদে নমিনেশন ফাইল করতে দেওয়া হয়নি। আর যারা নমিনেশন ফাইল করতে সমর্থ হত তাদের অধিকাংশকে বাধ্য করা হতো প্রার্থীপদ প্রত্যাহারে। আর তারপরও যারা সাহস দেখিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থেকে যেতো তাদের ভাগ্যে জুটতো হুমকি, ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, মার, এমনকি প্রার্থী- সমর্থকদের মৃত্যুও। সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুসারে, ২০১৮ এবং ২০২৩ এর নির্বাচনোত্তর হিংসার বলি হয়েছিলো প্রতিক্ষেত্রে &amp;nbsp;পঞ্চাশের কাছাকাছি মানুষ। অর্থাৎ গণতন্ত্রের পরিধি নিতান্ত সীমিত বললে কম বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে গত দশ বছর গণতন্ত্রের শ্বাসরোধ করে রাখা হয়েছিল, যেখান থেকে মুক্তি চাইছিল পশ্চিমবঙ্গের আপামর সাধারণ মানুষ।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;চাইলেই কি আর তৃণমূল রাজত্বে মুক্তির স্বাদ পাওয়া যায়! কিন্তু ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসন, গুন্ডা এবং রাজনীতিবিদদের বন্ধনে গঠিত এক অভূতপূর্ব মাকড়সার জাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের মুক্তির স্বাদ পরিবেশন করতে বদ্ধপরিকর হয়ে উঠলো ইলেকশন কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে ডুপ্লিকেট, মৃত, ভুয়ো এবং একেবারে চলে যাওয়া ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তালিকার ঝাড়াই-বাছাই শুরু হলো। এটা ঠিক যে, এই ঝাড়াই-বাছাই করতে গিয়ে ২৭ লক্ষ সহ নাগরিকের নাম নির্বাচক তালিকায় বিবেচনাধীন হয়ে গেল। কিন্তু এদের বাদ দিয়ে যারা থাকলো তারা সম্পূর্ণভাবে আসল ভোটার- এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের কোন সন্দেহই রইল না। নির্বাচন ঘোষণার দিন থেকে কমিশন কড়া হাতে পুলিশ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিভিন্ন স্তরে বদলি করে কড়া বার্তা দিলেন যে নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করাই কমিশনের একমাত্র উদ্দেশ্য। বস্তুত সেই উদ্দেশ্যকে তারা গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় রাখতে সবিশেষ সচেষ্ট ছিলেন। ফলে রথেদলে নাগরিক ভোট দিতে উৎসাহী হয়ে পড়ল। ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৯৩% ভোট দান সারা ভারতের নিরিখেই এক অভাবনীয় ঘটনা।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট পড়লে সেই ভোটে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হয়ে যায় -সেটা নির্বাচনী বিশ্লেষণের &amp;nbsp;প্রাথমিক পাঠ বলা যেতে পারে। তৃণমূল দল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটের দুটি মূল ভিত্তি ছিল। এক লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলারা এবং দুই বিজেপির জুজু দেখা মুসলমানেরা। কিন্তু এবারে নির্বাচনে নারী সুরক্ষার অভাব লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ছাপিয়ে মহিলাদেরকে তৃণমূলের বেষ্টনী থেকে দূরে নিয়ে গেল। অবশ্যই এক্ষেত্রে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেড় হাজার থেকে তিন হাজার করবার বিজেপির প্রতিশ্রুতি ভোট কাটার ইস্পাতের ফলাকে আরও দৃঢ় করে তুলেছিল। একইসঙ্গে মুসলমান সম্প্রদায়ের বেশ কিছু মানুষের ভোট আইএসএফ, কংগ্রেস, বাম দলগুলি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির মধ্যে ভাগ হয়ে গেল। মুসলমান ভোটের এই বিভাজন, ভোটের অংককে তৃণমূলের থেকে আরও দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল। এর পাশাপাশি, হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় প্রত্যাবর্তন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে একান্তই পরিবর্তনশীল করে তুলল। মতুয়া সম্প্রদায়সহ তপশিলি জাতি পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ। দেখা গেল মতুয়া এবং রাজবংশী সহ তপশিলি জাতির মানুষেরাও বিজেপিকে দুহাত ভরে সমর্থন করলেন। বলা যেতে পারে তারা তৃণমূলের ভোটের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিলেন।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;১৫ বছরের ক্ষমতার অহংকার ও ঔদ্ধত্য, যা তৃণমূলের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নিচু তলার কর্মীদের মধ্যে হুমকি সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠা করেছিল, ২০২৬ এর ভোটে সত্যিই তা খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ১৮৪ টা আসন পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠন করেছিল; কিন্তু ২০২৬-এ বিজেপি ২০৭ আসন নিয়ে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক উপরে গিয়ে সরকার গঠন করেছে। নতুন সরকার যেন তৃণমূলের এই পতনের ইতিহাস সম্বন্ধে সচেতন থাকে - পশ্চিমবঙ্গের আপামর নাগরিকের এইটাই একমাত্র আবেদন।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব। এবিপি আনন্দ ও এবিপি নেটওয়ার্কের কোনও সম্পাদকীয় মতামত নেই।&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/05/11/587ee273fc366f69af86c910468cf4a2177849334625664_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[বাংলায় নিঃশব্দ বিপ্লব : মানুষের প্রত্যাশা]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/bjp-win-silent-revolution-in-west-bengal-peoples-expectations-rajagopal-dhar-chakraborty-column-1178430</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/bjp-win-silent-revolution-in-west-bengal-peoples-expectations-rajagopal-dhar-chakraborty-column-1178430#respond</comments><pubDate>Thu, 7 May 2026 21:56:36 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ রাজাগোপাল ধর চক্রবর্ত্তী ]]></dc:creator><category><![CDATA[ জেলার ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/bjp-win-silent-revolution-in-west-bengal-peoples-expectations-rajagopal-dhar-chakraborty-column-1178430</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;রাজাগোপাল ধর চক্রবর্ত্তী&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;বোঝা যাচ্ছিল, মানুষ একটা পরিবর্তন চাইছে, সেটা যে একটা সুনামি হতে পারে, তা ভাবা যায়নি। নীরব মানুষের প্রতিবাদ কী ভয়ংকর, বোঝা গেছে। স্বৈরাচারের আস্ফালন আর মিথ্যাচার রুখতে মানুষের একমাত্র অস্ত্র মানুষের &amp;lsquo;তর্জনী শক্তি&amp;rsquo;। আমাদের&amp;nbsp; গণতন্ত্র বহুক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও এখানেই সে সফল। পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে দীর্ঘদিন রাজত্বকারী সিপিআইএম এককভাবে ১৯৯১ সালে সবচেয়ে বেশি ১৮৯ আসন পেয়েছিল। বিজেপির ২০৭ ম্লান করেছে সেই সাফল্য। তৃণমূল তার শাসন শুরু করেছিল ২০১১ সালে ১৮৪&amp;nbsp; দিয়ে। ২০১৬ এবং ২০২১ সালে ২০০ অতিক্রম করলেও ভূতুড়ে ভোটার, আতর, কালো টেপের অবদান ছিল যথেষ্ট। এক নির্ভেজাল ভোটে দৃশ্যত সামান্য সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে বিজেপির &amp;lsquo;কেরামতি&amp;rsquo; দেখার মতন। মানুষ পরিবর্তন এনেছে বিপুল প্রত্যাশায়। এখন সরকারি কার্যক্রমে কেরামতি দেখাতেই হবে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;ব্যাপকভাবে বাংলার মেধা ও শ্রম পাড়ি দিচ্ছে দেশ-দেশান্তরে। যাদের অন্যত্র যাবার উপায় নেই, ভুগছে হতাশায়। &amp;lsquo;ভাতা&amp;rsquo; কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, চাই ভদ্র সভ্য চাকুরি যা সহজে কেউ কেড়ে নেবে না। এর জন্য বিনিয়োগের যাবতীয় বাধা দূর করতে হবে। বঙ্গভূমি&lt;/span&gt; &lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;ভারী শিল্প এবং আইটি শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হবার যোগ্য।&amp;nbsp; CPIM বা তৃণমূল পারে নি, কেন্দ্রের সঙ্গে ঝগড়া করে। &amp;lsquo;ডাবল ইঞ্জিন&amp;rsquo; শক্তির আত্মপ্রকাশ জরুরি।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;ভোটাররা রাজ্য পুলিশের সম্পূর্ণ সংস্কার এবং &quot;সিন্ডিকেট&quot; (নির্মাণ ও চুক্তি নিয়ন্ত্রণকারী স্থানীয় কার্টেল) এবং &quot;কাটমানি&quot; (পার্টি কর্মীদের অবৈধ কমিশন) সংস্কৃতির সম্পূর্ণ অবসান চায়। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবা বিপন্ন। মানুষ চায় স্বাস্থ্য পরিষেবার আমূল পরিবর্তন। আয়ুষ্মান ভারত পরিকল্পনা দ্রুত চালু সারা ভারত জুড়ে স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অংশীদার হতে পারবে বাঙালিরাও। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প ব্যাপক দুর্নীতিতে আছন্ন। স্বচ্ছভাবে এই পরিকল্পনা রূপায়ণের সঙ্গে কাল বিলম্ব না করে MNREGA পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এই প্রকল্পে&amp;nbsp; কর্মহীনদের সাময়িক কর্মসংস্থানের সাথে অবকাঠামো তৈরিও&amp;nbsp; হয়। আর জি কর ঘটনার পরে, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা এবং আরও স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থায় পদ্ধতিগত সংস্কারের জন্য একটি বিশাল প্রত্যাশা রয়েছে। বিজেপি অবৈধ অভিবাসন এবং ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেটা ভুলে গেলে চলবে না।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/05/07/a817d67f37b6369e888890dd387ca82a177817135351964_original.jpg&quot; width=&quot;649&quot; height=&quot;919&quot; /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;এক সময় ভাবা হোত সিপিএমের মতো তৃণমূলও বাংলায় এক দুর্ভেদ্য দুর্গ তৈরি করেছে। কিন্তু SIR প্রক্রিয়ায় ব্যাপক &amp;lsquo;ভূতুড়ে&amp;rsquo; ভোটারের অবসান ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সজীব উপস্থিতিতে টিএমসির &amp;lsquo;ভোট সুচারু&amp;rsquo; দাপুটে কর্মী বাহিনীকে অকেজো হয়ে পরে। &amp;lsquo;বাড়তি&amp;rsquo; ভোট মেলেনি। তৃণমূলের ৮ শতাংশ ভোট কমার পেছনে এটা সবচেয়ে বড় কারণ হলেও, অন্য&amp;nbsp; যে সব ঘটনায় তৃণমূল পর্যুদস্ত তা হোল আরজি কর মেডিকেল কলেজের নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যা। এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এবং হাসপাতাল প্রশাসনকে রক্ষা করতে সরকারের অনুভূত প্রচেষ্টা শহুরে মধ্যবিত্ত এবং মহিলাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার থেকে গভীরভাবে বিচ্ছিন্ন করে। ২০২৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পঁচিশ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ বাতিল ভোটারদের দুর্নীতির মাত্রার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রাক্তন মন্ত্রীদের সহযোগীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের দৃশ্য জনমনে এতটাই তাজা ছিল যে তৃণমূল আর দুর্নীতি প্রায় সমার্থক হয়ে পড়েছিল।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;ঐতিহাসিকভাবে, রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় তিরিশ বত্রিশ শতাংশ সমন্বিত মুসলিম ভোট তৃণমূলের &quot;সুরক্ষা জাল&quot; হিসাবে কাজ করে এসেছে। বামেরাও এই সুরক্ষা পেয়েছিল। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) এবং আইএসএফের মতো নতুন খেলোয়াড়রা মুসলিম চেতনা গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়। মুসলিমদের &amp;lsquo;ভোট ব্যাংক&amp;rsquo; না হতে পরামর্শ দেয়। এতে এদের আসন না বাড়লেও ভোট বেড়েছে। ওদেরেই আহ্বানে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের সংখ্যালঘু বেল্টে কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম) কিছুটা পুনরুজ্জীবিত। বিজেপি বিরোধী ভোট বিভক্ত হওয়ায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিও বিজেপি দখল করেছে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;স্থানীয় স্তরের তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। ভোটাররা দৈনন্দিন জীবনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তৃণমূলের &quot;শ্বাসরোধ করা&quot; কাজকর্মে। তোলাবাজি ও হুমকি ছিল সর্বত্র। ঠিকাদার, সুরক্ষা কর্মী এমনকী ছোট খাটো ব্যবসার কর্মী নিয়োগ করা যেত না পাড়ার তৃণমূল &amp;lsquo;দাদা&amp;rsquo;দের সমর্থন ছাড়া।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অজেয়তার আভা ভেঙে দিয়েছে নিজের আসন ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পনেরো হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজয়। তৃণমূল সমর্থকরাও নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। অনেকেই হয়ে পড়েছেন &amp;lsquo;স্বঘোষিত বিজেপি&amp;rsquo; নেতা। এতদিন অন্য দল ভেঙে আনন্দ পেতেন যিনি আজ তার দল ভাঙছে &amp;lsquo;তাসের দেশের&amp;rsquo; মতন। &lt;/span&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-weight: 400;&quot;&gt;&lt;strong&gt;&lt;em&gt;লেখক - রাজাগোপাল ধর চক্রবর্ত্তী একজন অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ। &lt;/em&gt;প্রতিবেদনটি এবিপি আনন্দ, এবিপি লাইভ বাংলা ও এবিপি নেটওয়ার্ক কর্তৃক লিখিত ও সম্পাদিত নয়। মতামত লেখকের নিজস্ব।&lt;/strong&gt;&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/05/07/ff8486b684942b770483c2bc7feb6bd6177817114382764_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[এন্টোমো বিজনেস : বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম টেকসই ব্যবসা]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/entomo-business-explainer-the-most-sustainable-businesses-in-the-global-economy-utpal-adhikari-column-1176899</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/entomo-business-explainer-the-most-sustainable-businesses-in-the-global-economy-utpal-adhikari-column-1176899#respond</comments><pubDate>Fri, 1 May 2026 22:09:17 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ ডঃ উৎপল অধিকারী ]]></dc:creator><category><![CDATA[ বিজ্ঞান ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/entomo-business-explainer-the-most-sustainable-businesses-in-the-global-economy-utpal-adhikari-column-1176899</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;ড. উৎপল অধিকারী&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;br /&gt;পৃথিবীতে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে মনে করা হচ্ছে, পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা ৯.৭ বিলিয়নের কাছাকাছি পৌঁছাবে। এই বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য, জ্বালানি, সার ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প উৎসের সন্ধান করছেন। এ অবস্থায় পোকামাকড় বা ইনসেক্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে একটি দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবসা, যার নাম এন্টোমো বিজনেস। নতুন এই ব্যবসা পরিকল্পনাটি হল কৃষিবিজ্ঞান, পুষ্টিবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, বায়োপ্রযুক্তি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি টেকসই বায়ো ইকোনমি মডেল।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এন্টোমোলজি বা পতঙ্গবিদ্যা থেকে এন্টোমো বিজনেস এর উৎপত্তি। মূলত পোকা-মাকড়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয় এই ব্যবসা। এর মধ্যে রয়েছে ভোজ্য পোকামাকড়, পশুখাদ্য ও বায়োফার্টিলাইজার উৎপাদন, জৈব বর্জ্য পদার্থের ভাঙন, পোকামাকড়ভিত্তিক ওষুধ, সিল্ক, ল্যাক, মধু ইত্যাদি উৎপাদন। পোকামাকড় ভিত্তিক বায়োরোবটিক্স ও বায়োসেন্সর তৈরি করা হয়। পতঙ্গ নিয়ন্ত্রিত পেস্ট ম্যানেজমেন্ট একটি পরিবেশ বান্ধব প্রক্রিয়া। &amp;nbsp;এই শিল্পের প্রধান লক্ষ্য হল কম সম্পদ ব্যবহারে উচ্চ উৎপাদন ও &amp;nbsp;উচ্চ পুষ্টিমান নিশ্চিত করা। অনেক পোকামাকড়ে রয়েছে ৪৫-৭৫% প্রোটিন, ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি-১২ ও কাইটিন, যা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। ক্রিকেট, মিল ওয়ার্ম ও ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই (বিএসএফ) এর পুষ্টিমান প্রচলিত মাংসের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে বেশি।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;এছাড়াও পোকা প্রতিপালনে গরু বা ছাগলের তুলনায় ৫০-৯০% কম জল লাগে ও ভূমি ব্যবহার ১০ গুণ কম হয়। পোকা নিজের দেহের ৮০-৯০% খাদ্যকে বায়োমাসে রূপান্তরিত করতে পারে, যা যে কোনো প্রাণীর চেয়ে অনেকটাই বেশি। গবাদি পশুর তুলনায় পোকা উৎপাদনে মিথেন নির্গমন প্রায় শূন্য, নাইট্রাস অক্সাইডের নির্গমন ৬০-৭০% কম ও কার্বন ফুট প্রিন্ট ৫-৮ গুণ কম হয়। এই কারণে আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) পোকাকে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;এন্টোমো বিজনেসের প্রধান শাখা&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;মানুষের খাদ্য ও প্রাণী খাদ্য&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;বিশ্বের ২২০ কোটির বেশি মানুষ ইতিমধ্যে বিভিন্ন পোকাকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। সবচেয়ে পরিচিত ভোজ্য পোকা ক্রিকেট, গঙ্গাফড়িং, মিলওয়ার্ম, সিল্কওয়ার্ম পিউপা, টার্মাইট, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই লার্ভা ইত্যাদি। এগুলো থেকে প্রোটিন বার, বিস্কুট, নুডলস, শেক, বেকারি আইটেম এমনকি পাস্তাও তৈরি হচ্ছে। পোল্ট্রি, মাছ, হাঁস, কুকুর ও বিড়ালের খাদ্যে এই জাতীয় প্রোটিন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষত বিএসএফ লার্ভা বিশ্বজুড়ে অ্যাকুয়াকালচারের অন্যতম আদর্শ খাদ্য বিকল্প চিহ্নিত হয়েছে। কারণ এগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম শক্তিকে উন্নত করে, মাছের বায়োফ্লক উৎপাদন বৃদ্ধি করে। এন্টোমো ফিড ভবিষ্যতের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাজার হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;বর্জ্য ব্যবস্থাপনা&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;পোকামাকড় বর্জ্য ভাঙতে অত্যন্ত দক্ষ। বিশেষত বিএসএফ লার্ভা খাদ্য বর্জ্য, গৃহস্থালী বর্জ্য, কৃষি বর্জ্য, মাছ বাজারের বর্জ্য, গোবর ইত্যাদি দ্রুত ভেঙে উচ্চমানের প্রোটিন ও বায়োফার্টিলাইজার তৈরি করা হচ্ছে। ১ টন খাদ্যবর্জ্যে বিএসএফ লার্ভা থেকে ২০০-৩০০ কেজি প্রোটিন, ৩০০-৪০০ কেজি অর্গানিক সারের উৎপাদন করা যায়। এটিই ভবিষ্যতের সার্কুলার ইকোনমি মডেল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;জৈব সার উৎপাদন&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;পোকা চাষের উপজাত থেকে উচ্চমানের অর্গানিক সার বা জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে। এতে থাকে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ ও কাইটিন, যা উদ্ভিদ রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে ও ফসলের উৎপাদন ১৫-২৫% পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;বায়োমেডিসিন&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;বিভিন্ন পোকা থেকে নিষ্কাশিত বায়োমলিকিউল এখন বায়োমেডিসিনে ব্যবহৃত হচ্ছে। সিল্ক প্রোটিন থেকেই প্রাপ্ত তন্তু সার্জিক্যাল স্টিচ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। মৌমাছির বিষ আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে। কাইটিন ও কাইটোসান ক্ষত সারাতে এবং মিলওয়ার্ম ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদপিণ্ডের সুরক্ষা প্রদানে বিশেষ কার্যকরী। এগুলো স্বাস্থ্য শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;strong&gt;বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;নির্দিষ্ট তাপমাত্রা যথা ২৭-৩২&amp;deg;C ও আর্দ্রতায় (৬০&amp;ndash;৭০%), স্বয়ংক্রিয় খাদ্য সরবরাহ ট্রে তে অল্প জায়গায় হাজার-হাজার লার্ভা প্রতিপালন করা হয়। একে &amp;lsquo;ক্লাইমেট কন্ট্রোলড হাই ডেনসিটি ফার্মিং&amp;rsquo; বলে।&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;পরিবেশগত সুবিধা&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;বর্জ্য কমানোর জন্য ইউরোপের বহু শহরে খাদ্য বর্জ্য সমস্যার সমাধানে বিএসএফ লার্ভা ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলি জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে ও পশুখাদ্য উৎপাদনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষিত থাকবে।&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;কার্বন নিরপেক্ষ উৎপাদন&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;পোকা চাষে খরচ কম এবং বর্জ্য উৎপাদনও কম। ফলে নেট কার্বন ফুট প্রিন্টও অত্যন্ত কম বলে দেখা যাচ্ছে।&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/05/01/1e19a77661c5b25d933e16496a2ec25f177765345024564_original.jpeg&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;ভারতের প্রেক্ষাপট&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;ভারতে এন্টোমো বিজনেস দ্রুত বাড়ছে। ভারতের উপযোগী প্রজাতি বিএসএফ, মিলওয়ার্ম, ক্রিকেট, সিল্কওয়ার্ম ইত্যাদির উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য যেমন হরিয়ানা, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও পশ্চিমবঙ্গে আধুনিক ইনসেক্ট ফার্ম গড়ে উঠছে। ভারত সরকার ২০২৩ সালে পোকা প্রোটিন থেকে বিকল্প পশু খাদ্য উৎপাদনে অনুমোদন দেয়, যা ভবিষ্যতে এই ধরনের শিল্প সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা পালন করবে।&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;সম্ভাবনা ও বাজার&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;বিশ্বের বাজারে এন্টোমো বিজনেস ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ২০২৪ সালে এর বাজার ছিল প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০৩৩ সালে এই ব্যবসা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এই আশা করা যেতেই পারে। এর প্রধান চাহিদার ক্ষেত্রগুলি হল অ্যাকুয়া ফুড, পোল্ট্রি ফুড ও পেট ফুড উৎপাদন। এছাড়াও ভোজ্য পতঙ্গ ও বায়োফার্টিলাইজারেরও যথেষ্ট বাজার আছে। ভবিষ্যতে ভারতে এই বাজার আরও বাড়বে আশা করা যায়।&amp;nbsp;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;চ্যালেঞ্জ&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, খাদ্য নিরাপত্তা নীতি সকল, প্রজাতি নির্বাচনের সমস্যা, বায়োসেফটি ও হাইজিনিক প্রোডাকশন, অজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের অভাব এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রচার, সরকারি সহায়তা এবং স্টার্টআপ পরিচালনা অপরিহার্য।&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;ভবিষ্যৎ&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;এন্টোমো বিজনেস কেবল একটি ব্যবসা নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি স্থায়িত্ব, পরিবেশ সুরক্ষা, বায়োপ্রযুক্তির উন্নয়ন সমন্বয়ে মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎকে আরও টেকসই করার পথ দেখায়। ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে এই পোকামাকড় থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন হবে &amp;rsquo;গ্রিন প্রোটিন&amp;rsquo; এবং এন্টোমো বিজনেস হবে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম টেকসই ব্যবসা।&lt;/p&gt;
&lt;p style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;em&gt;&lt;strong&gt;লেখক- পূর্ব বর্ধমানের আঝাপুর হাই স্কুলের সহ শিক্ষক। প্রতিবেদনটি এবিপি লাইভ কর্তৃক বিষয়-সম্পাদিত নয়।&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;&lt;/em&gt;&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/05/01/ee8967b85aa2120e49ad7ef367386522177765313123264_original.jpg" width="220"/></item><item><title><![CDATA[Rahul Arunoday Banerjee : যে হাসিটা চির অমলিন...]]></title><link>https://bengali.abplive.com/blog/suman-de-blog-reminiscence-bengali-actor-rahul-arunoday-banerjee-1171348</link><comments>https://bengali.abplive.com/blog/suman-de-blog-reminiscence-bengali-actor-rahul-arunoday-banerjee-1171348#respond</comments><pubDate>Sun, 29 Mar 2026 22:50:15 +0530 </pubDate><dc:creator><![CDATA[ সুমন দে ]]></dc:creator><category><![CDATA[ জেলার ]]></category><guid isPermaLink="true">https://bengali.abplive.com/blog/suman-de-blog-reminiscence-bengali-actor-rahul-arunoday-banerjee-1171348</guid><description><![CDATA[&lt;p&gt;সুমন দে&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কী বলব জানিনা !&amp;nbsp;&lt;br /&gt;বহু বছরের অভ্যেস, কোনও লেখা খুব ভালো লাগলে, সপ্তাহশেষে আবার পড়ার জন্য রেখে দিই... গতকালই আমার স্ত্রী আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে ছাপা একটা পুরনো লেখা পড়ে বলল , &quot;কী করে এই লেখাটা মিস করে গেলে ?অসাধারণ...পড়ে দেখো!&quot;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;লেখকের নাম রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;রাহুলের সঙ্গে পরিচয় তো আজকের নয় । ওর প্রথম ফিল্ম সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সুপারহিট হওয়ার পর, আমার &amp;lsquo;হ্যালো ভিআইপি&amp;lsquo;-শোতে অতিথি , রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা। সদ্য রাজ চক্রবর্তীর ফিল্ম &quot;চিরদিনই তুমি যে আমার...&quot; তার আগের বাংলা ছবির সমস্ত বক্স অফিস রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে ! মোহরকুঞ্জে সাক্ষাৎকারটা শেষ হওয়ার পর মনে হল, আহা সময়টা বোধহয় সত্যিই বদলালো...এইরকম সহজ-সরল চনমনে দুটো ছেলেমেয়ে বক্স অফিস কাঁপানো নায়ক নায়িকা হয়েছে আর মানুষ তাদের নিয়েছে -- এটাই তো বাংলা ছবির সাবালকত্বের আসল পরিচয়।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;তারপর বছর গড়ালো..রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা বিয়ে করল। সেই বিয়ে কেন এবিপি আনন্দ কিঞ্চিৎ &amp;lsquo;বেশি&amp;rsquo; দেখিয়েছে -- সেই নিয়ে কিছু ছিদ্রান্বেষী মানুষ বিতর্ক করেছিল যথারীতি! যথারীতি আমি পাত্তাই দিইনি। তার কয়েক বছর পর সাউথ সিটি মলে হঠাৎ দেখা ! রাহুলই সম্ভবত বাংলা ছবির একমাত্র নায়ক যে সম্পূর্ণ ম্যাড়ম্যাড়ে সাদামাটা পোশাকে চামড়ার চপ্পল পায়ে সাউথ সিটি মলে অনায়াসে ঘুরে বেড়াতে পারে! দুহাত ধরে বলল, &quot;আমাদের ছেলে হয়েছে সুমনদা, নাম রেখেছি-সহজ।&quot; এত ভালো লেগেছিল সেদিন...&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;সেই রাহুলই যখন পডকাস্ট শুরু করল, কী চমৎকার নামটা দিল - &amp;lsquo;সহজ কথা&amp;lsquo;! বহুবার সেই সহজ কথায় আমায় ডেকেছে এবং পেশাগত বাধ্যবাধকতার কারণে যেতে পারিনি...ওকে &amp;lsquo;না&amp;lsquo; বলতেও খারাপ লেগেছে । আমার &amp;lsquo;মহাযুদ্ধ&amp;lsquo; থেকে &amp;lsquo;যুক্তি-তক্কো&amp;lsquo; অনুষ্ঠানের রাহুল নিয়মিত অতিথি। অসাধারণ বলত আর অনুষ্ঠান শেষ হলেই কাঁচুমাচু মুখে বলত,&quot;সুমনদা আজ খুব ঝুলিয়েছি না?&quot;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ভন্ডামো আর সেফ খেলার এই বাজারেও, রাহুল কোনওদিন বামপন্থায় তার বিশ্বাস গোপন করেনি -- না লেখায়, না বক্তৃতায় । সামনের মাসে &amp;lsquo;যুক্তি-তক্কো&amp;lsquo;-র অন্যতম বক্তা ছিল রাহুল। শো-টা হবে, কিন্তু নিতান্ত গোবেচারা মুখে জ্বলন্ত দৃষ্টি আর ভীষণ রকম তীক্ষ্ণ কটাক্ষগুলো আর থাকবে না সেই অনুষ্ঠানে। কী বলব &amp;nbsp;এটাকে রাহুল ? এইটা হল সত্যিকারের &amp;lsquo;ঝুলিয়ে দেওয়া&amp;lsquo; ... আমাদের মত গুণমুগ্ধ সবাইকে...&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;ওর অভিনয়ের গুণমুগ্ধ তো সবাই , আমি অবশ্য বেশি ভক্ত রাহুলের লেখার । সালটা সম্ভবত ২০১৮। আজকের মত এমনই রবিবারের এক সকাল। &amp;lsquo;সংবাদ প্রতিদিন&amp;lsquo;-এর &amp;lsquo;রোববার&amp;lsquo; পত্রিকায় একটা লেখা একেবারে নজর কেড়ে নিল। প্রচ্ছদকাহিনী - কলোনি । লেখার নাম -&amp;lsquo; শুধু যাওয়া আসা&amp;lsquo;। লেখকের নাম - অরুণোদয়। শুধু অরুণোদয়। সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ-এ জিজ্ঞেস করলাম। উত্তর এলো-&quot;Din bhalo hoye gelo Suman da. Tumi porechho amar khub anondo holo. Rahul&quot; সেই শুরু । তারপর যেখানেই লেখা প্রকাশিত হয় রাহুল পাঠাতে ভোলে না।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/03/29/a36072652097f479aec137237064f5cc177480464920464_original.jpeg&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;কী অদ্ভুত অপার্থিব সমাপতন ! আজ ঠিক যে মুহূর্তে এই ভয়ংকর অবিশ্বাস্য খবরটা এলো, আমার হাতে ধরা আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে ওরই লেখা। কালো অক্ষরগুলোতে বলিষ্ঠ শিরোনাম - &quot;যে ভোর চির অমলিন&quot;...&lt;br /&gt;লেখা ছাপিয়ে এগিয়ে আসছে সেই মুখটা ... যে হাসিটা চির অমলিন...&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;img style=&quot;display: block; margin-left: auto; margin-right: auto;&quot; src=&quot;https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/03/29/deb395823810bf8be2f2a289a1f26cfb177480472275964_original.jpeg&quot; width=&quot;1020&quot; height=&quot;932&quot; /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;১৭ বছর আগে আমার প্রথম নেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল বলেছিল , ওই বিজয়গড় এলাকা থেকে ও আর কোথাও কখনও যেতে পারবে না... আসলে রাহুল আমাদের ছেড়ে কোনওদিন কোথাও যেতে পারবে না। কোনও তালসারির জলস্রোতের সাধ্য নেই রাহুলকে কেড়ে নেয়।&lt;/p&gt;
&lt;p&gt;বাঙালির শব্দে, বাঙালির ছবিতে - রাহুল ছিল, আছে, থাকবে । যে হাসিটা চির অমলিন...&lt;/p&gt;]]></description><slash:comments>0</slash:comments><media:thumbnail url="https://feeds.abplive.com/onecms/images/uploaded-images/2026/03/29/ef1d81e2882eb777789f702e52346bbf177480456906664_original.jpg" width="220"/></item></channel></rss>