মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বুধবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় পতন দেখা গেছে। সেনসেক্স ও নিফটি উভয় সূচকই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
Stock Market Crash : একদিনে বিনিয়োগকারীদের ১০ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি, আজ সেনসেক্স পড়ল ১,১০০ পয়েন্টের বেশি
US Iran Israel War : পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দামই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

US Iran Israel War : বুধবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে কার্যত হাহাকার দেখা গেল। সেনসেক্স - নিফটি—উভয় সূচকই বড়সড় পতনের মুখে পড়েছে। মাত্র এক দিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দামই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজার এক নজরে:
সেনসেক্স: ১,১২৩ পয়েন্ট (১.৪০%) কমে দাঁড়িয়েছে ৭৯,১১৬.১৯-এ।
নিফটি ৫০: ৩৮৫ পয়েন্ট (১.৫৫%) কমে থিতু হয়েছে ২৪,৪৮০.৫০-এ।
মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ: মাঝারি ও ছোট শেয়ারের সূচকও ২.২৪ শতাংশের বেশি পড়েছে।
মার্কেট ক্যাপ: বিএসই-তে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য ৪৪৭ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের দিন ছিল ৪৫৭ লক্ষ কোটি টাকা।
কেন এই ধস ? ৫টি প্রধান কারণ:
১. আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। তেহরান ও বেরুটে নতুন করে হামলার খবর বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন।
২. অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি:
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত তার প্রয়োজনের ৯০ শতাংশেরও বেশি তেল আমদানি করে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি বিল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।
৩. টাকার রেকর্ড পতন
ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম সর্বকালীন তলানিতে ঠেকেছে। বুধবার এক ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯২.১৫ টাকা। টাকার এই দুর্বলতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) ভারত থেকে টাকা তুলে নিতে বাধ্য করছে।
৪. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) শেয়ার বিক্রি:
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লাগাতার শেয়ার বিক্রি করছেন। বুধবারও তারা কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
৫. মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা ও সুদের হার:
তেলের দাম বাড়লে জিনিসের দাম বাড়ে (মুদ্রাস্ফীতি)। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) বা আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমাবে না—এই আশঙ্কাতেই লগ্নিকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মত:
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস-এর ভিকে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, "এই যুদ্ধ কতদিন চলবে বা কতটা ক্ষয়ক্ষতি হবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদি এই সংঘাত ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে না মেটে, তবে কর্পোরেট সংস্থাগুলির মুনাফায় টান পড়বে এবং বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়বে।"
ভয় ও অনিশ্চয়তার সূচক 'India VIX' এক দিনেই ২৩% বেড়ে ২১-এর ঘরে পৌঁছেছে, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে কতটা আতঙ্কে রয়েছেন।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না।)
Frequently Asked Questions
মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারতীয় শেয়ার বাজারে কি প্রভাব পড়েছে?
শেয়ার বাজারের পতনের প্রধান কারণ কী?
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম শেয়ার বাজারের পতনের প্রধান কারণ।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি কেন বাজারের জন্য উদ্বেগের কারণ?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরান ও আমেরিকা-ইসরায়েল সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন।
অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
ভারত তার প্রয়োজনের ৯০ শতাংশের বেশি তেল আমদানি করে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি বিল বেড়ে যায়, যা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা শেয়ার বাজারে কেন আতঙ্ক সৃষ্টি করছে?
তেলের দাম বাড়লে জিনিসের দাম বাড়ে (মুদ্রাস্ফীতি)। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) বা আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমাবে না—এই আশঙ্কাতেই লগ্নিকারীরা আতঙ্কিত।
























