Swasthya Sathi-Ayushman Bharat: ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড থাকলে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র সুবিধা মিলবে কি? নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর
Suvendu Adhikari: আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর। কারা পাবেন, কাদের ক্ষেত্রে সময় লাগবে? জানালেন নবান্ন থেকে।

কলকাতা: জুলাই মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গে চালু হচ্ছে 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্প। শনিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, আগামী জুলাই থেকে রাজ্যে 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্প চালু হচ্ছে। নাম নথিভুক্তিকরণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। জুলাই মাস থেকেই 'আয়ুষ্মান ভারত কার্ড' বিতরণ করা সম্ভব হবে। এই মুহূর্তে যাঁরা 'স্বাস্থ্যসাথী' প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরাও 'আয়ুষ্মান ভারতে'র সুবিধা পাবেন। তবে ধাপে ধাপে এগোবে গোটা প্রক্রিয়া। (Suvendu Adhikari)
শনিবার নবান্ন থেকে শুভেন্দু বলেন, "আয়ুষ্মান ভারতে নাম নথিভুক্তিকরণের কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস জুলাই মাস থেকে আমরা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড দিতে পারব এবং তার বেনিফিট পাবেন কার্ড হোল্ডাররা। আশা করছি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সঙ্গে যুক্ত এমন ৬ কোটিরও বেশি কার্ড হোল্ডারকে এখনই আয়ুষ্মান ভারতে নিয়ে যেকে পারব। পরে পরে এই সংখ্য়া আরও বৃদ্ধি পাবেন।" (Swasthya Sathi-Ayushman Bharat)
আরও পড়ুন: সরকারি পরীক্ষায় মৌখিকের গুরুত্ব কমবে? রাজ্যে নতুন নিয়োগ আইন, জানালেন শুভেন্দু অধিকারী
যাঁদের 'স্বাস্থ্যসাথী' কার্ড নেই, তাঁদের জন্যও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, "যাঁরা নতুন আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হতে চান, স্বাস্থ্যসাথীতে যুক্ত হননি, তাঁদেরও সুযোগ থাকছে। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দিল্লিতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং ভারত সরকারের মন্ত্রী, আধিকারিকদের উপস্থিতিতে আমরা এটা করব। আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের বেনিফিট শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে থাকা স্থায়ী বাসিন্দারা নন, কর্মসূত্রে বা শিক্ষার জন্য বাইরের রাজ্যে থাকা মানুষও পাবেন।"
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে তীব্র বিস্ফোরণ, বিধ্বংসী আগুন গিলে খেল চারপাশ, ছিন্নভিন্ন প্রকাণ্ড রকেট
শুভেন্দু এদিন জানিয়েছেন, রাজ্যে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণও শুরু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৭ লক্ষের বেশি ডোজ় দিতে চায় কেন্দ্র। ১৪-১৫ বয়সি মেয়েদের টিকা দেওয়া হবে। আগামী ৩০ মে পশ্চিমবঙ্গে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণ শুরু হচ্ছে। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে ওই দিন উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দু এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা। আর ৩০ মে-ই TB মুক্ত ভারতের ওয়র্কশপ শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে নবনির্বাচিত বিধায়ক এবং লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা থাকবেন ওই ওয়র্কশপে।
পাশাপাশি, শুভেন্দু জানিয়েছেন, রাজ্যে ১১৭টি প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্র চলছে। সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৬৯টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মহকুমা ও জেলা হাসপাতালেও যাকবে। ডায়বিটিস, হাইপার টেনশনের মতো ওষুধও সেখান থেকে পাওয়া যাবে এতে। ২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকায় কেনা যাবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। 'অমৃত প্রকল্পে' আবার ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ, দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রও থাকবে।
শিশুমৃত্যু রুখতে বিগত সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, নজরদারি যথেষ্ট না থাকায় নবজাতক শিশু, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্য়ুর হার অনেক বেশি। বিশেষ করে কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম এবং মালদার রিপোর্ট যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তাই রাজ্যের নতুন সরকার নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যের সাত জেলায় কুষ্ঠ রোগের হার জাতীয় হারের চেয়ে বেশি বলে জানান শুভেন্দু। বাঁকুড়া, বীরভূম, কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, উত্তরদিনাজপুর-এই জেলাগুলিতে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।





















