BJP Trinamool: জামাই বিজেপির বিধায়ক আর শ্বশুর তৃণমূলের উপপ্রধান, ভাতারের সৌমেন কার্ফার গল্প জানেন?
BJP MLA Soumen Karfa: সৌমেন কার্ফার বিয়ে নিয়েও রয়েছে রাজনৈতিক বৈপরীত্যের গল্প। স্ত্রীর পরিবার বরাবর তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। আর তিনি একসময় ছিলেন সক্রিয় বাম কর্মী। তারপর যোগ দেন তৃণমূলে।

কমলকৃষ্ণ দে, পূর্ব বর্ধমান: ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে অন্যতম আলোচিত নাম। তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ারকে ৬ হাজার ৫২৮ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন তিনি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই ভাতারের বিধায়ক হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: আগামিকাল বিশেষ বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী, নবান্নের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন পুলিশ কমিশনার
রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পরিবার বহুদিন যুক্ত। সৌমেনের দাদু ছিলেন প্রধান শিক্ষক এবং কংগ্রেসের শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য স্তরের নেতা। পরবর্তীতে তাঁর বাবা সিপিএমে যোগ দেন এবং ১৯৮২ সালে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হন। সেই বামপন্থী রাজনৈতিক আবহেই বড় হয়ে ওঠেন সৌমেন।
স্কুল জীবন থেকেই সৌমেন SFI -এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি মাধ্যমিক এবং ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন ভাতার মাধব পাবলিক হাইস্কুল থেকে। পরে চন্দ্রপুর কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স নিয়ে স্নাতক এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিএডও পাস করেন তিনি।
২০১২ সালে অবিভক্ত বর্ধমান জেলার SFI -এর সহ-সম্পাদক হন সৌমেন। পাশাপাশি DYFI -এর সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে মতবিরোধের জেরে বাম শিবির ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং শুভেন্দুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হন সৌমেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে ভাতার থেকে প্রার্থী করে। শেষ পর্যন্ত জয়ীও হন তিনি।
জয়ের পর ভাতারের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সৌমেন কার্ফা। পাশাপাশি প্রাক্তন বিধায়ক ভোলা সেনের অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মন্ত্রিসভায় পূর্তমন্ত্রী ছিলেন ভোলা সেন। ভাতারে ফায়ার ব্রিগেড তৈরি করার মতো বহু উন্নয়নমূলক কাজ আজও মানুষের মনে রয়েছে।
রাজনীতির বাইরেও সৌমেনের ব্যক্তিগত জীবনও বেশ চর্চিত। স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে ছয়জনের সংসার তাঁর। বর্তমানে একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি একটি পেট্রোল পাম্পও পরিচালনা করেন।
তাঁর বিবাহ নিয়েও রয়েছে রাজনৈতিক বৈপরীত্যের গল্প। স্ত্রীর পরিবার বরাবর তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। তাঁর শ্বশুর ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভাতার পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন এবং বর্তমানে বনপাস গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। অন্যদিকে সৌমেনের পরিবার বামপন্থী থেকে পরে বিজেপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় প্রথমে এই বিয়ে নিয়ে আপত্তি ছিল মেয়ের পরিবারের। পরে সব মতভেদ মিটিয়ে ২০২২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। ৩৩ বছরের তরুণ এই বিধায়ক আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নে কী ভূমিকা নেন, সেদিকেই এখন নজর ভাতারের সাধারণ মানুষের।





















