CPM News : এবার ভোটারদের পরামর্শ মেনে তৈরি হচ্ছে বামেদের ইস্তেহার, 'বাংলা বাঁচাও' নামে নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন
West Bengal Assembly Election 2026 : গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক কৌশল বা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে একাধিক বদল এনেছে সিপিএম। কিন্তু তাও কাটেনি শূন্যের গেরো!

উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় ও সৌমিত্র রায়, কলকাতা : এবার ভোটারদের পরামর্শ মেনে তৈরি হচ্ছে বামেদের ইস্তেহার। 'বাংলা বাঁচাও' নামে নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
নির্বাচনের ময়দানে নবীনদের এগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ব্রিগেড সমাবেশে ভিড় টানতে গান বাঁধা, অথবা ভোটের প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence-এর ব্যবহার। গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক কৌশল বা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে একাধিক বদল এনেছে সিপিএম। কিন্তু তাও কাটেনি শূন্যের গেরো!
২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে এবার ইস্তেহার তৈরি নিয়ে নতুন কৌশল নিতে চলেছে সিপিএম। ভোটারদের পরামর্শ মেনে তৈরি হবে বামেদের ইস্তেহার। তারজন্য 'বাংলা বাঁচাও' নামে নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। সেখানেই সরাসরি মতামত জানাতে পারবেন ভোটাররা।
সম্প্রতি ইস্তেহার নিয়ে ড্রপ বক্সে মানুষের মতামত নিচ্ছে বিজেপি। এই আবহে সিপিএমের এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি ! একই পথে হেঁটেছে তৃণমূলও। তৃণমূলের সোশাল মিডিয়া সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, "২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আমরা দিদিকে বলো কর্মসূচি শুরু করে সরাসরি ফোন লাইন শুরু করেছিলাম। যেখানে সাধারণ মানুষের মতামত আমরা গ্রহণ করেছিলাম। সেটা কপি করে বিজেপি বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মতামত নিচ্ছে ড্রপ বক্সে। এখন সিপিএমও সেটা করতে চাইছে। যে রাজনৈতিক দলটা ৩৪ বছর বাংলা শাসন করেছে, প্রায় ৭টা বিধানসভা নির্বাচন জিতেছে, সেই রাজনৈতিক দলটা আজকে এত বছর পরে এসে তাদের মনে পড়ল সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে ইস্তেহার তৈরি হওয়া দরকার ! তাহলে এতদিন কাদের কথা ভেবে ইস্তেহার তৈরি করেছিলেন ?" বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "বিজেপি তো অনেক আগেই এটা করে দিয়েছে। আমরাও বিভিন্ন মণ্ডলে গিয়ে বক্স ওপেন করেছি। মানুষের মতামত নিয়েছি। আমাদের দেখে যদি কেউ শেখে ক্ষতি কিছু নেই। কিন্তু, সিপিএমকে বলব, এবারেও শূন্য কাটবে না। মহাশূন্যের পথে সিপিএম।"
কয়েক মাসের মধ্যে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। এখন তৃণমূল, বিজেপি এবং কংগ্রেস একা লড়াই করবে ! সিপিএম কাদের সঙ্গে জোট করবে তা নিয়ে বর্তমানে জোর জল্পনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠকে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সিপিএমের কাছে ৪০টি আসন দাবি করেছেন নৌশাদ সিদ্দিকি। সূত্রের আরও খবর, আসন সংখ্যা নিয়ে আপত্তি না থাকলেও কয়েকটি আসন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। তবে তা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে সিপিএমের তরফে। পাশাপাশি, সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজনকে প্রার্থী হিসেবে প্রচারে নামার সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
মহম্মদ সেলিম বলেন, "আমরা আগেও বলেছি, সিপিএম, তারপরে বামফ্রন্ট...যেটা কমরেড বেবি বললেন... আমরা আলাপ-আলোচনা করে ঠিক করি আমাদের কীভাবে বাম শক্তিকে শক্তিশালী করব...আরও বামপন্থী দলগুলিকে নিয়ে আসব। তারপরে যারা গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি আছে তাদের সঙ্গে কথা বলব। আমরা সেই প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে...এখন বাম শক্তিকে সংহত করছি। বামফ্রন্টের বাইরে যে বাম দলগুলি আছে, তাদেরকে নিয়ে এবং বামফ্রন্টকে নিয়ে এই সপ্তাহের মধ্যে আমরা সেগুলোকে শেষ করব... তারপরে আমাদের রাজ্য কমিটির বৈঠক হবে। তারপরে আমরা আরও অন্যান্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলব।"
বুধবার বামফ্রন্টের বৈঠকে আসন সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার পরের দু'দিন সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত হবে প্রার্থী তালিকা।























