TMC News: ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া দরকার’, মমতাকে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ বললেন হুমায়ুন কবীর
Humayun Kabir on Abhishek Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ হুমায়ুন কবীর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা।

কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এবার এমনই দাবি করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়হুন কবীরের। তাঁর দাবি, মমতার আচরণ ছিল ধৃতরাষ্ট্রের মতো। তিনি বার বার বোঝানোর চেষ্টা করলেও কর্ণপাত করেননি তৃণমূলনেত্রী। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ছারখার হয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার এমন দাবি করলেন হুমায়ুন। (Humayun Kabir on Abhishek Banerjee)
এবিপি আনন্দে মুখ খুলেছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন। তাঁর কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে, ভাইপোকে বেশি, অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বানানোয় মুগ্ধ ছিল। আমাদের কোনও কথা শোনেনি। আমি প্রতিবাদী বরাবর। যে দলই করেছি, ৩০ বছর কংগ্রেস করেছি। কংগ্রেসের ভুল-ত্রুটিও সামনে বলেছি, তৃণমূলেও বলেছি। তখন আমাদের কথায় কোনও কর্ণপাত করেনি। আজ তার খেসারত দিচ্ছে। নিজে দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া দরকার। গ্রেফতার করে ওড়িশায় পাঠিয়ে দেওয়া দরকার।" (TMC News)
শুধু তাই নয়, এদিন মমতাকে বিধানসভায় পাঠানোর প্রস্তাবও দেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, "আজকের দিনে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢোকা বা থাকাটা আবশ্যক ছিল। তাঁর থাকা উচিত। সেক্ষেত্রে মমতা যদি বিধানসভায় আসতে চান এই বয়সে, তাহলে আমি বলতে পারি, নন্দীগ্রামে তিনি পারবেন না। রেজিনগরে হুমায়ুন কবীর শেষ কথা বলে। তৃণমূলকে আমি ৮১০০০ ভোটে হারিয়েছি, বিজেপি-কে ৫৯০০০ ভোটে। ওই আসনে আমি আবার নির্দ্বিধায় মানুষের সমর্থনে জিতে আসব। নেত্রী যদি চান, তাঁর প্রতি আমার যে দুর্বলতা...তিনি যদি নিজে থেকে আমাকে ডেকে বলেন আমাকে বিধানসভায় যাওয়ার সুযোগ করে দাও, সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই বিধানসভায় ঢোকার ব্যবস্থা করে দেব।"
আরও পড়ুন: দেশে এবার বিরাট বড় স্ক্যাম! টাকার অঙ্ক বিস্ময়কর, ১,৫১,৫০,০০,০০,০০,০০০, কী বলছে SEBI?
একসময় হুমায়ুনকে রাজ্যের মন্ত্রী করেছিলেন মমতা। তাহলে কি গুরুদক্ষিণা স্বরূপই মমতাকে বিধানসভায় যেতে সাহায্য় করতে চান হুমায়ুন? তাঁর জবাব, "সেটা বলতে পারেন নিশ্চয়ই। তিনি আমার সিনিয়র মোস্ট, গোটা রাজ্যের নেত্রী নন, বাংলার নেত্রী নন, ভারতের একজন উল্লেখযোগ্য নেত্রী। তাঁর এই সময় বিধানসভায় আসা জরুরি ছিল। তিনি ভবানীপুরে হেরে গিয়েছেন। মানুষ হারিয়ে দিয়েছেন। তিনি আসতে চান যদি, আমাকে ব্যক্তিগত স্তরে হুমায়ুন কবীর অবশ্য়ই ব্যাপারটা...।" মমতাকে জেতানোর ব্যাপারে একেবারে নিশ্চিত হুমায়ুন।
আরও পড়ুন: ‘তৃণমূল নামটির উপর বুলডোজার চলা উচিত’, মত দিলীপ ঘোষের, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে নিয়ে বললেন…
বিধানসভা নির্বাচনে এবার রাজ্যে ভরাডুবি ঘটেছে তৃণমূলের। যাও বা ৮০টি আসনে জয় মিলেছিল, বিদ্রোহের আগুনে তাও ছারখার হয়ে গিয়েছে। মমতার হাত থেকে রাশই বেরিয়ে গিয়েছে তৃণমূলের। ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন বিজয়ী বিধায়ক নিজেদের 'আসল' তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। এমতাবস্থায় ফের কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন মমতা? সত্তরোর্ধ্ব বয়সে পৌঁছে ফের কি লড়াইয়ে নামতে পারবেন? প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। আর সেই আবহেই কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন হুমায়ুন। এই বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দলবিরোধী কাজের জন্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর পর নিজের আলাদা দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গড়েন হুমায়ুন। দু'টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি, জেতেনও দু'টি আসনেই। নওদার আসনটি রেখে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।





















