Mamata Banerjee: তৃণমূল হাতছাড়া, জোড়াফুল প্রতীকও হারাতে হবে মমতাকে? নাকি রাজনীতি থেকে মুছেই যাবে ঘাসফুল চিহ্ন?
TMC Election Symbol: তৃণমূল হাতছাড়া মমতার। 'জোড়াফুল' প্রতীকচিহ্নও কি হাতছাড়া হবে? জোর জল্পনা।

সন্দীপ সরকার ও সৌভিক মজুমদার: তৃণমূলের প্রতীক মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বেহাত হওয়া কি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা? কারণ, বুধবারই বিদ্রোহী বিধায়করা স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। এবার কি তাঁরা 'ঘাসফুল'কে নিজেদের প্রতীক বলে দাবি করতে পারে? জোরাল হচ্ছে সেই জল্পনা। (TMC Election Symbol)
সরকার গিয়েছে, গিয়েছে ক্ষমতা। চলে গিয়েছে চেয়ার। এবার কি প্রতীকচিহ্ণের পালা? তৃণমূলের প্রতীকচিহ্ন 'ঘাসফুল' কি মমতার হাতছাড়া হওয়া কি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা? রাজ্য় রাজনীতিতে তোলপাড়ের মধ্য়ে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন এটাই। দলের রাশ ইতিমধ্য়ে মমতার হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের প্রতীকচিহ্নে জয়ী ৮০ জনের মধ্য়ে ৬০ জনই এখন বিদ্রোহী। বিদ্রোহীরা বুধবার বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছি।" (Mamata Banerjee)
এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, বিদ্রোহীদের এই 'আসল তৃণমূল' কি এবার 'ঘাসফুল'কে নিজেদের প্রতীক বলে দাবি করবে? ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে
উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ছেড়ে বেরিয়ে গেছিলেন দুই তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক। আবেদনের ভিত্তিতে তদানীন্তন ওই বিদ্রোহী শিবিরকেই আসল শিবসেনা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। শিবসেনার 'তির-ধনুক' প্রতীকচিহ্নও পায় শিন্ডের আসল শিবসেনাই। বালাসাহেব ঠাকরের তৈরি দল এবং সেই দলের প্রতীকচিহ্ন, দু'টিই হাতছাড়া হয় ঠাকরে পরিবারের।
আরও পড়ুন: বিদ্রোহী বিধায়কদের জোর ধাক্কায় এবার বেসামাল TMC, দলের রাশ হাতছাড়া মমতার; অনাস্থা অভিষেকেই?
একইভাবে অজিত পাওয়ার অধিকাংশ বিধায়ককে নিয়ে দল ছাড়ায় দলের নাম এবং প্রতীক হারিয়েছিলেন মারাঠা স্ট্রংম্য়ান শরদ পাওয়ার। এবার এ পশ্চিমবঙ্গেও তেমনটাই ঘটতে চলেছে? এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত বলেন, "এখানে যদি দু'টি গোষ্ঠীর দাবি থাকে, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ যে গোষ্ঠী, তার কাছে দলীয় প্রতীক চলে যাবে। আর দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী যদি নতুন কোনও প্রতীকচিহ্ন নিয়ে আসে, তাও পেতে পারে তারা। কমিশনের অধিকার রয়েছে প্রতীকচিহ্নটি কাউকে না দিয়ে ফ্রিজ করে দেওয়ার, অথবা দুই গোষ্ঠীকেও নতুন প্রতীকচিহ্ন দেওয়ার।"
আবার প্রাক্তন মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারি দেবাশিস সেন বলেন, "নতুন গোষ্ঠী যদি দলের সম্পত্তি, প্রতীকচিহ্ন, সবকিছু দাবি করেন, এর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে যেতে হবে। দলের সংগঠনের সংবিধান দেখা হয়। সর্বোপরি দেখা হয়, কতজন বিধায়ক দাবিকে সমর্থন করছে। আদালতের তত্ত্বাবধানেরক বিষয়ও রয়েছে। এটা আইনি লড়াইয়ে যাবে, সেই নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।" তৃণমূলত্যাগী নেতা তথা মিজোরামের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব বলেন, "মাননীয় স্পিকার যদি স্বীকৃতি দেয় বিরোধী দলের, তারা যদি নির্বাচন কমিশনকে দেখাতে পারে, অধিকাংশ বিধায়ক তাদের সঙ্গে, তাহলে কিন্তু প্রতীকচিহ্ন পাবে এরাই। ঋতব্রত প্রতীকচিহ্ন পাবে, মমতাকে জোড়াফুল চিহ্ন হারাতে হবে। জোড়াফুল প্রতীকচিহ্ন আর তাঁর থাকবে না।"
আরও পড়ুন: সব কমিটি, শাখা সংগঠন ভেঙে দিলেন মমতা, ভোটের একমাসের মধ্যেই চুরমার তৃণমূল, নতুন করে দলগঠনের ভাবনা?
১৯৭৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর ইন্দিরা গাঁধী নতুল দল তৈরি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে গাই-বাছুর প্রতীকচিহ্ন চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, ওই প্রতীকচিহ্ন কংগ্রেসের কোনও গোষ্ঠীকেই দেওয়া হবে না। ইন্দিরা সুপ্রিম কোর্টেও যান। কিন্তু তারা শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি। অবশেষে ১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ইন্দিরা-গোষ্ঠীকে অফিশিয়ালি, ইন্ডিয়ান ন্য়াশনাল কংগ্রেস (আই) হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং দলের নতুন প্রতীকচিহ্ন হয় 'হাত।' অর্থাৎ 'গাই বাছুর' প্রতীকের অস্তিত্ব মুছে যায়। এখন তৃণমূলের 'জোড়াফুল' প্রতীকের হালও কি সেরকমই হবে? ভোট-রাজনীতি থেকে 'ঘাসফুল' প্রতীকচিহ্নটি চিরতরে মুছে যাবে? এই পরিস্থিতিতে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা জোর পেয়েছে। পাশাপাশি জোড়াফুল চিহ্নের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নের শেষ নেই।





















