BJP TMC News: তৃণমূলের আমলে ঘরছাড়া সংখ্যালঘু পরিবার, শামিম আখতারদের ঘর ফিরিয়ে দিলেন বিজেপি বিধায়ক
তৃণমূলের আমলে ঘরছাড়া হয়েছিলেন। সেই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা ঘরে ফিরলেন বিজেপির আমলে, একজন বিজেপি বিধায়কের উদ্যোগে

সুদীপ চক্রবর্তী, উত্তর দিনাপুর: তৃণমূল আমলে জমি মাফিয়ার দৌরাত্ম্যে ২০২৩ থেকে ঘরছাড়া ছিল উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির সংখ্যালঘু পরিবার। পালাবদলের পর বিজেপি বিধায়কের উদ্যোগে ঘরে ফিরতে পারলেন তাঁরা। 'শুভেনদু অধিকারীর রাজত্বে অবশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে', নিজের ঠিকানায় ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন করণদিঘির বাসিন্দা।
তৃণমূলের আমলে ঘরছাড়া হয়েছিলেন। সেই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা ঘরে ফিরলেন বিজেপির আমলে, একজন বিজেপি বিধায়কের উদ্যোগে। জমি মাফিয়ার দৌরাত্ম্যে ২০২৩ থেকে বাড়িছাড়া ছিলেন উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা শামিম আখতার ও পরিবারের অন্যান্যরা। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ৩ বছর থাকতে পারেননি নিজের ঠিকানায়।
রাজ্যে পালাবদলের পর অবশেষে বাড়ি ফিরতে পারল উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির এই সংখ্যালঘু পরিবার। আলতাপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শামিম আখতার ও তাঁর পরিবারকে ঘরে ফেরালেন করণদিঘির বিজেপি বিধায়ক। শামিম আখতার বলেন, 'জমি মাফিয়ার অত্যাচারে বাড়িছাড়া ছিলাম। আজকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে আজকে সাহস পেয়েছি। মাননীয় শুভেনদু অধিকারী মহাশয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ। বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস মহাশয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ।'
ঘটনার সূত্রপাত বছর তিনেক আগে। করণদিঘির বাসিন্দা সামিম আখতারের অভিযোগ, তাঁর বাড়ি-সহ ৬০ কাঠা জমি হাতাতে চেয়ে খুনের হুমকি দিচ্ছিল একদল জমি মাফিয়া। ঘরছাড়া করতে কেটে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও জলের লাইন। দুষ্কৃতীদের অত্যাচারে বাধ্য হয়ে বাড়ি ছাড়তে হয় তাঁদের।
আরও পড়ুন, স্টেশনের বাইরে উচ্ছেদ অভিযান, রেলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন যাত্রীরা?
এমনকী কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘরে ফিরলেও, সেখানে থাকতে পারেননি। তৃণমূল জমানা শেষ হওয়ার পর অবশেষে ফিরতে পারলেন নিজের বাড়িতে। ওই বাসিন্দা বলেন, 'মাননীয় বিচারপতি রাজশেখর মান্থার অর্ডারে আমি এসেছিলাম। আমার বাড়ি পুরো তছনছ। আমার টয়লেট সিল করে দেওয়া হয়েছে। জলের লাইন কেটে দিয়েছে। ট্য়াঙ্ক ফাটিয়ে, টিউবঅয়েল নষ্ট করে, ইলেক্ট্রিসিটি কেটে দিয়ে... যেন আমি একটা দিনও এখানে না থাকতে পারি। ওপেন থ্রেট... পুলিশের সামনেই আমাকে থ্রেট... ক'দিন পুলিশ থাকবে, তারপর কে বাঁচাবে তোদের? জায়গা জমি বিক্রি করে চলে যা এখান থেকে।'
করণদিঘির বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস বলেন, 'আমরা বলেছিলাম আইনের শাসন আমরা নিয়ে আসব। সেটাই একটা প্রথম ধাপ। দুষ্কৃতীরা পূর্বের যে বিধায়ক ছিল, তাঁরই নেতৃত্বাধীনে এই জমিটা দখল করতে এসেছিল। প্রথমে হুমকি-চমকি দেয় পরিবারকে জানে মেরে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমরা আজ এই দাদাদের বাড়িতে আবার ফিরিয়ে দিলাম। তাঁদের জমি তাঁদেরই এটা, তাঁদের অধিকার এটা। মাফিয়ার শাসন চলবে না। এবার টোকা দিয়ে দেখুক, আমরাও দেখে নেব।'
তৃণমূল আমলে জমি মাফিয়ার দৌরাত্ম্য নিয়ে, করণদিঘির সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক গৌতম পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, ফোন ধরেননি তিনি। কিন্তু, যে সংখ্যালঘুরা তৃণমূলের অন্যতম ভোটব্যাঙ্ক, জোড়াফুলের আমলে তাঁদেরই এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কেন?





















