Municipal Recruitment Scam: নিতাই দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর দাবি ED-র, কাদের সুপারিশে চাকরি ?
ED On Municipal Recruitment Scam : দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুর নিয়োগ দু্র্নীতি মামলায় চার্জশিট পেশ ইডির।

আবীর দত্ত, কলকাতা: দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট পেশ করল ইডি। কাদের চাকরির সুপারিশ ঠিক করেছিলেন কাউন্সিলররা, দাবি ইডির।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি,’ ২ জন করে নাম সুপারিশ প্রত্যেক কাউন্সিলরের। চাকরির জন্য প্রত্যেক মেয়র পারিষদকে ৫ জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল। ফিরহাদ হাকিমকে বলা হয়েছিল ৬ জনের নাম সুপারিশ করতে। ফিরহাদ হাকিমের সুপারিশ করা ৬ জন চাকরিপ্রার্থীদের দেখে নেওয়ার কথা বলা হয় দক্ষিণ দমদম পুরসভাকে। সুপারিশের তালিকায় 'ববি দা' ও 'সুজিত দা' নাম লেখা রয়েছে। হেল্পার, মজদুর, পিওনের চাকরির জন্য সুপারিশ যারা করেছেন তাঁদের নামও লেখা ছিল তালিকায়। ববি-দার নাম ছিল হেল্পারের তালিকার, সুজিত-দার নাম ছিল মজদুরের চাকরির তালিকায়’, নিতাই দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর দাবি ইডির।
সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে ED। ১৮৬ পাতার চার্জশিটে নাম রয়েছে সুজিত বসু, তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু ও এক আমলার নাম। ED-র দাবি, চাকরির বিক্রির টাকায় সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের নামে কেনা হয়েছে বিপুল সম্পত্তি। পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিয়ে এবার এমনটাই দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
সুজিত বসুর পাশাপাশি, চার্জশিটে নাম রয়েছে, তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু। আমলা জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় এবং ২টি বেসরকারি সংস্থার। ED সূত্রে দাবি, এই দুর্নীতির সময় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের ডিরেক্টরেট অফ লোকাল বডিজ বা DLB-র ডিরেক্টর পদে ছিলেন জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা দেয় ED. ১৮৬ পাতার চার্জশিটের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ পাতার নথি। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, সুজিত বসু একাই ৩৪০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। তার মধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েছেন ২৮৪ জন। প্রার্থী পিছু গড়ে ৬ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। ED-র দাবি, চাকরির বিক্রির টাকায় সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের নামে কেনা হয় বিপুল সম্পত্তি।
২০২৩ সালের ১৯ মার্চ, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত প্রোমোটার অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায় ED। সেখান থেকেই পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি সামনে আসে। ED সূত্রে দাবি করা হয়, প্রোমোটার অয়ন শীলের সংস্থা ABS ইনফোজোনের অফিসের কম্পিউটারের ফোল্ডারে যে নথি পাওয়া যায়, সেখানে ছিল একাধিক প্রভাবশালীর নাম। উল্লেখ করা ছিল চাকরি বিক্রির টাকার অঙ্ক। এরপরই দুর্নীতিতে নাম জড়ায় সুজিত বসুর। ইডির পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে সিবিআই। এই মামলায় আগেই চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। সেই চার্জশিটে CBI দাবি করে, ৮টি পুরসভায় ৬০০-র বেশি বেআইনি চাকরি হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর পুরসভা।






















