Lakshmir Bhandar : 'পুরুষ লক্ষ্মী'দের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা, গ্রেফতার পঞ্চায়েত প্রধান, কীভাবে চলত এই স্ক্যাম ?
Bardhaman News : মহিলাদের জন্য চালু সরকারি প্রকল্পের টাকা বছরের পর বছর পুরুষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। কীভাবে সম্ভব ? সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে আছে?

কলকাতা : পুরুষদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা 'আত্মসাৎ'। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ কাটোয়ায়। গ্রেফতার আলমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে দুর্নীতির অভিযোগও আছে। বেপাত্তা আরেক অভিযুক্ত কাটোয়া-১ বিডিও অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মী কার্তিক মণ্ডল। বিজেপির অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দ টাকা দেওয়ার বদলে উপভোক্তাদের থেকে প্রতি মাসে নেওয়া হত টাকা। প্রতি পুরুষের কাছ থেকে প্রকল্পে নাম তোলার জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হত। এমনই ভয়ঙ্কর দাবি বিজেপির তরফ থেকে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছে পুরুষেরা। এক-দু'জন নয়, বছরের পর বছর ধরে একাধিক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে পঞ্চায়েত প্রধান এর মদতে। প্রধানকে গ্রেফতার করার পরেই পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। কোথাও অবিবাহিত পুরুষরা পেয়েছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা, কোথাও আবার একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দু'জনের অ্যাকাউন্টেই এসেছে প্রকল্পের টাকা। এমনকি বাইরে কর্মরত পুরুষের অ্যাকাউন্টেও নিয়মিত জমা পড়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। বিজেপির অভিযোগ, কারচুপি ও যোগসাজশের মাধ্যমেই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল পুরুষদের। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন এক তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান। মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক। কীভাবে বছরের পর বছর এই অনিয়ম চলল, সেই নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ।
কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের আলমপুর পঞ্চায়েতের এক বাসিন্দা দিনেশ অধিকারী কাটোয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আলমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নজরুল ইসলাম (বাবলু মোল্লা) ও কার্তিক মণ্ডল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক। পাশাপাশি কাটোয়া-১ বিডিও অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মী কার্তিক মণ্ডল। এই দুজন মিলে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ও কৃষক বন্ধুর টাকা দিয়ে তা আত্মসাৎ করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কাটোয়া থানার পুলিশ পঞ্চায়েত প্রধান নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।
বিজেপির অভিযোগ কার্ত্তিক মন্ডল ও পঞ্চায়েত প্রধান বাবলু মোল্লার যোগসাজসে বহু পুরুষের নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদন অনুমোদন করানো হত। পাইয়ে দেওয়া হতো প্রকল্পের বরাদ্দ ১২০০ টাকা। পরিবর্তে, উপভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন গ্রামের এক যুবক। একই সঙ্গে এক মহিলা উপভোক্তা জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই এই প্রকল্পের টাকা আসত। অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত কার্তিক মণ্ডল তাদের ভুল বুঝিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে তাঁদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাইয়ে দিত। যদিও তাঁদের দাবি, কিসের টাকা তা তারা জানতেন না।
অভিযুক্ত কার্তিক মণ্ডলের স্ত্রীর বক্তব্য, আমার স্বামী ভুল করেছে, ঠিকই। কিন্তু সে একা টাকা নেয়নি। যাদের নামে টাকা ঢুকত, তারাও সেই টাকা পেত। ইতিমধ্যে পঞ্চায়েতের প্রধান গ্রেপ্তার হলেও মূল অভিযুক্ত পলাতক। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য চালু সরকারি প্রকল্পের টাকা বছরের পর বছর কীভাবে পুরুষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছল? এতদিন ধরে এই অনিয়ম প্রশাসনের নজরে এল না কেন? তাহলে কি সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে আছে?























