Purba Bardhaman News: নিখোঁজ 'টুনটুনি', শহর জুড়ে পোস্টার, থানায় নিখোঁজ ডায়েরি, খুঁজে দিলে মিলবে পুরষ্কার
Pet Love: ছোট্ট টুনটুনির ঘোরাঘুরি বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বাড়ির ১৫ জন সদস্যের সঙ্গেই থাকা, খাওয়া, ঘুমানো সব। হঠাৎ-ই শুক্রবার সকাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় সে।

কমলকৃষ্ণ দে, পূর্ব বর্ধমান : নিখোঁজ টুনটুনি! খাওয়া, ঘুম ফেলে হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছে দে পরিবার। শহর জুড়ে দেওয়া হয়েছে পোস্টার। নিখোঁজ টুনটুনি-কে কোনও সহৃদয় ব্যক্তি খুঁজে দিতে পারলে মিলবে পুরস্কার। এমনকি পুলিশের দ্বারস্থও হয়েছে দে পরিবার।
ছোট্ট টুনটুনির ঘোরাঘুরি বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বাড়ির ১৫ জন সদস্যের সঙ্গেই থাকা, খাওয়া, ঘুমানো সব। হঠাৎ-ই শুক্রবার সকাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। টুনিটুনিকে হারিয়ে একপ্রকার নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে এ-পাড়া থেকে ও-পাড়া খোঁজাখুঁজি করছেন দে পরিবারের সদস্যরা। তবে বিস্তর খোঁজখুঁজির পরও 'টুনটুনি'-র খোঁজ না পেয়ে এবার থানার দ্বারস্থ হয়েছে দে পরিবার। পুলিশের কাছে, 'টুনটুনি' হারিয়ে যাওয়ার নিখোঁজ ডায়েরি পর্যন্ত করেছেন তাঁরা।
কিন্তু কে এই 'টুনটুনি'? নাম শুনে প্রায় সকলেই হয়তো ভাবছেন 'টুনটুনি' বলতে ছোট্ট একটি পাখির কথাই বলা হচ্ছে। তবে আদতে তা নয়। দে পরিবারের সদস্য 'টুনটুনি' হচ্ছে চল্লিশ দিনের ছোট্ট একটি সারমেয় শাবক। দেশি প্রজাতির সারমেয় হলেও দেখতে অনেকটাই বিদেশি প্রজাতির সারমেয়র মতো।
খাঁজা আনোয়ার বেড় এলাকার বাসিন্দা রাজশ্রী দে-র বাড়ির আরও ১১টি পোষ্য সারমেয়র সঙ্গেই বড় হয়ে উঠছিল টুনটুনি। সর্বকনিষ্ঠ হওয়ায় আদর করে তাঁর নাম রাখা হয়েছিলো 'টুনটুনি'। কিন্ত শুক্রবার সকালে খাওয়া-দাওয়ার পর থেকেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। টুনটুনিকে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে দে পরিবার। এর পাশাপাশি শহর জুড়ে দেওয়া হয়েছে পোস্টার। সেই পোস্টারে টুনটুনির একটি ছবি দেওয়ার পর লেখা হয়েছে, 'সন্ধান চাই, খুঁজে দিতে পারলে পুরস্কার নগদ ১০০০ টাকা। বয়স-৩৮ দিন। শেষ দেখা গিয়েছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি, সময়- সকাল সাতটা। ঠিকানা- খাজা আনোয়ার বেড় চব্বিশ প্রহরতলা।' পোস্টারে দেওয়া হয়েছে যোগাযোগের ফোন নম্বরও।
কোথায় রয়েছে টুনটুনি? ঠিকঠাক ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে তো? ঠিকঠাক খেতে দেওয়া হচ্ছে তো তাকে? দুশ্চিন্তায় গোটা দে পরিবার। তারা চান যত দ্রুত সম্ভব টুনটুনিকে খুঁজে দেওয়া হোক। আর কেউ যদি টুনটুনিকে নিয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে তিনিও যেন ফেরত দিয়ে যান। রাজশ্রী দে-র মা ঝর্না দে বলেন, 'টুনটুনি আমাদের পরিবারের আর পাঁচটা সদস্যর মতই। ওর হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে ঠিক করে খাওয়া দাওয়া করতে পারছি না, ঘুমাতে পারছি না। নিজের সন্তানের মত করেই মানুষ করছিলাম ওকে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ওকে খুঁজে পেতে চাই।'























