Beldanga Incident : বেলডাঙায় NIA তদন্তের বিরোধিতায় রাজ্যের মামলা, হাইকোর্টেই ফেরাল সুপ্রিম কোর্ট !
NIA Investigation : বেলডাঙাকাণ্ডে গত ২৮ জানুয়ারি NIA তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র।

নয়াদিল্লি : বেলডাঙায় NIA তদন্তের বিরোধিতায় রাজ্যের করা মামলায় এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। মামলা কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরাল দেশের শীর্ষ আদালত। বেলডাঙাকাণ্ডে গত ২৮ জানুয়ারি NIA তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। এদিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, 'NIA তদন্তের বিরোধিতায় রাজ্যের করা মামলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট দেবে NIA। মামলায় UAPA আইন যুক্ত করার স্বপক্ষে কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা হাইকোর্টে জানাবে NIA। এই রিপোর্ট দেখে পরবর্তী নির্দেশ দেবে কলকাতা হাইকোর্ট।'
এই মামলায় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, 'সব আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেশের অর্থনীতিকে ভাঙার জন্য হয় না। ২০২৫-এর এপ্রিলে মুর্শিদাবাদে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সময় আমরা দেখেছি কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চুপ ছিল। এখানে তারা সব নথি না দেখেই NIA তদন্ত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল।'
প্রেক্ষাপট
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। সেই ঘটনার তদন্তে রাজ্য় পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলে NIA। ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্য়মৃত্য়ুর প্রতিবাদের নামে দু'দিন ধরে নৈরাজ্যের আগুন জ্বলেছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। গাড়ি ভাঙচুর, বাঁশ, লাঠি হাতে তাণ্ডব। সাংবাদিকদের উপর হামলা। বাদ যায়নি কিছুই।
সেই ঘটনাতেই তদন্তভার হাতে নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA।
গত বৃহস্পতিবার, কলকাতার নগর দায়রা আদালতে ছিল সেই মামলার শুনানি। আদালতে NIA-এর আইনজীবী শ্য়ামল ঘোষ অভিযোগ করেন, বহরমপুর জেল থেকে ৩৬ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। জেল সুপারের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের আদালতে আনার জন্য় পুলিশ পর্যাপ্ত ফোর্স এবং গাড়ি দেয়নি। তাই অভিযুক্তদের পাঠানো যায়নি। ওইদিনই NIA-র তরফে দাবি করা হয়, আদালতের নির্দেশের পরও তাদেরকে কেস ডায়েরি হস্তান্তর করা হয়নি। যার ফলে তারা তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না। NIA-এর আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার তদন্তে কোনও সহযোগিতা করেননি।
এই সমস্ত অভিযোগ শোনার পর, বিচারক সুকুমার রায় প্রশ্ন করেন, কেন কেস ডায়েরি হস্তান্তর করা হয়নি ? মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে ১২ তারিখ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি, রাজ্য় পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিককে সশরীরে আদালতে হাজির হতে বলেন। অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করার জন্য় মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে পুলিশ এসকর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। NIA-এর এসব দাবি প্রসঙ্গে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়, এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য় সরকার। সেই বিষয়ে জেল কর্তৃপক্ষ ও NIA-কে জানানো হয়েছে। যদিও NIA সূত্রে দাবি ছিল, কেস ডায়েরি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। তারপরও পুলিশের তরফে কেস ডায়েরি হস্তান্তর করা হয়নি। এই বিষয়টি তারা আদালতে জানিয়েছে।























