TMC News : 'প্রতিবাদ করলেই শাস্তি,' বহিষ্কৃত হয়ে দলের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনলেন সন্দীপন সাহা ?
Sandipan Saha : ' দল অনৈতিকভাবে চলবে, প্রতিবাদ করলেই শাস্তি। তার মানে দল অনৈতিকতাকেই সমর্থন করছে' দল বহিষ্কার করতেই প্রতিক্রিয়া এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহার।

কলকাতা : সোমবার সই জাল বিতর্ক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বড় তথ্য সামনে আনেন। তারপরই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনা প্রকাশ্যে আনতেই ২ বিধায়ককে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। দল বিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এই বিষয় নিয়ে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ককে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষও। তবে বহিষ্কার নিয়ে সন্দীপন সাহা জানান, 'দল অনৈতিকভাবে চলবে, প্রতিবাদ করলেই শাস্তি। তার মানে দল অনৈতিকতাকেই সমর্থন করছে।'
বহিষ্কৃত হওয়ার পর সন্দীপন সাহা কী জানান?
বহিষ্কৃত হওয়ার পর তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, ''অনৈতিক কাজ দল করছে। আর যারা নৈতিকতার কাজ করল, একটা অনৈতিক বিষয়কে, অনিয়মের বিষয়কে সামনে নিয়ে এল, তাদেরকে যদি দল বহিস্কার বা সাসপেন্ড করে, তারমানে ভাবুন দল অনৈতিকতাকেই সমর্থন করছে। আর যারা নৈতিক কাজ করবে, দল তাদের সঙ্গে থাকবে না। একটা অ্যাটেনডেন্স খাতাতে সই করিয়ে সেটাকে রেজুলেশন-এ পরিবর্তন করে সেটা মাননীয় অধ্যক্ষর কাছে জমা দেওয়া হবে, এটা সম্পর্ণ আইন বহির্ভূত। এরকম বিরল ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমরা বিধানসভার সদস্য হিসেবে কোথাও আমাদের মনে হয়েছে যে এই অনিয়মের অংশীদারি হতে চাই না বলেই আমরা এই বিষয়টা তুলে ধরেছি। এটা জালিয়াতি, এতে কোনও দ্বিমত নেই। এবং দল কীভাবে চলেছে, আমরা জানিও না, কারণ আমরা লাস্ট বেঞ্চার ছিলাম। দল যেভাবেই চলুক, মানুষ তার যোগ্য জবাব দিয়ে দিয়েছে। যারা সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তারা অনৈতিক বিষয়কে নিয়ে এগোবার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই আমরা করছি, আবারও করব।''
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয় ঘটে তৃণমূলের। ক্ষমতায় আসে ভারতীয় জনতা পার্টি। ক্ষমতার পালা বদলের পর জেলায় জেলায় বহু কাউন্সিলর ও পার্টির পদে থাকা বহু নেতারা পদত্যাগ করছেন। এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও বেশ কিছুদিন ধরেই বেসুরো ছিলেন। আর এবার জাল সই কাণ্ড স্পষ্ট করে দিল তাঁদের দলের প্রতি বেসুরো থাকার কারণ।
আরও পড়ুন - 'তৃণমূল পার্টিটা প্রায় উঠে যাওয়ার পথে', বহিষ্কৃত হয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন ঋতব্রত
কুণাল ঘোষের মন্তব্য -
কুণাল ঘোষ দুই বিধায়কের বহিষ্কার সম্পর্কে জানান, 'এরা কেউ নির্দলে জেতেনি, এরা তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছে।' 'এতই যদি খারাপ দল হয়, তাহলে কেন ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন?' 'আজ দলটা বিরোধীপক্ষে বসছে বলে দলটা খারাপ হয়ে গেল?' 'দলকে বলার আগে সরকারপক্ষকে বলতে গিয়ে ভাল সাজতে যাওয়া এটা ঠিক না।' 'এতবড় বিশ্বাসঘাতকতা, এটা হতে পারে না,' 'অভিযোগ থাকলে তো আগে দলকে জানাবেন।' 'সরকারপক্ষকে চিঠি এটা সাধারণ মানুষ কীভাবে নেবে বিষয়টা?' 'একটা বৈঠকের পর সঙ্গে সঙ্গে চিঠি?' 'ঋতব্রতকে তৃণমূলই জায়গা করে দিয়েছিল, সাংসদ করেছিল।' 'সবসময়ই ক্ষমতার গুডবুকে থাকতে হবে?' 'দল বিরোধী হয়েছে, শাসকের কাছে ভাল সাজতে হবে?' 'নেত্রীকে চিঠি দিতে পারতেন, চিঠি দিচ্ছেন স্পিকারকে?' 'বদসঙ্গে পড়েছে সন্দীপন সাহা।' 'ঋতব্রতকে সিপিএম বহিষ্কার করে তৃণমূল বহিষ্কার করে', 'এদের বিশ্বাস করবেন না। ঋতব্রতর আগের ভিডিও ছাড়লে দলের নৈতিকতা বেরিয়ে যাবে।'





















