Asansol News: ধর্মীয় স্থানে মাইকের আওয়াজ কম করতে বলায় পুলিশের ওপর তাণ্ডব, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই গ্রেফতার ২৬ আসানসোলে
26 Arrested in Asansol: আসানসোলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার করা হল ২৬ জনকে।

কৌশিক গাঁতাইত ও পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা: আসানসোলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক ধরপাকড়। ফাঁড়ি ভাঙচুর-সহ তাণ্ডবের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল ২৬ জনকে। ধৃতরা সকলেই আসানসোলের বাসিন্দা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কোনও সরকারি সম্পত্তির ওপর হাত দেবেন না। পুলিশ আহত হলে আমরা ছাড়ব না। আসানসোলে ফাঁড়ি ভাঙচুর, পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় শনিবারই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘটনায় ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন, ট্রেনের কামরায় দাউ দাউ আগুন ! তীব্র আতঙ্ক ফাস্ট প্যাসেঞ্জারে, হুড়োহুড়ি যাত্রীদের মধ্য়ে..
গ্রেফতার করা হয়েছে, মহম্মদ চাঁদ ওরফে রাহুল, মহম্মদ সাহাবুদ্দিন, মহম্মদ মহসিন নাজির, মহম্মদ সলমন, মহম্মদ সাদ্দাম ওরফে কারু, মহম্মদ সুরজ, মহম্মদ জাওয়েদ আনসারি ওরফে ছোটু, মহম্মদ ইরফান, মহম্মদ নৌশাদ, মহম্মদ সালিম, আহমেদ রাজা ওরফে সাদ্দামকে। ধর্মীয় স্থানে মাইকের আওয়াজ কম করতে বলায় শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় একদল উন্মত্ত জনতা। বেলাগাম ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশে ফাঁড়িতে।দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রেহাই পাননি পুলিশকর্মীরাও। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই চরম বার্তা দেন মুখ্য়মন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,যারা ফাঁড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে, তাঁদের পুলিশ হেফাজত, রিমান্ড, জেরা সেসব তো হবেই, সঙ্গে সরকারি সম্পত্তির যে ক্ষতি হয়েছে, সেটাও উশুল করার নির্দেশ আমরা দিয়ে দিয়েছি। শুক্রবারের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিরাট পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে নামাতে হয় RAF-কেও। ধৃতদের বাকিরা হলেন, মহম্মদ সামসাদ ওরফে গোরকা, মহম্মদ ওয়াসিম, মহম্মদ পারভেজ ওরফে বিট্টি রাজা, মহম্মদ হাসনাইন ওরফে ধনরাজ, মহম্মদ আবির ওরফে টাইগার, মহম্মদ হাসান, আকিব খান ওরফে মহম্মদ আহমেদ হুসেন খান, মহম্মদ ইসমাইল খান ওরফে আরিয়ানকে। কলকাতা পুলিশ প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুধু গ্রেফতারি নয়, ধৃতদের থেকে টাকা আদায় করতে হবে। থানা জ্বালাবে তোমাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে টাকা নেওয়া হবে। আইন তো আছেই।
গতবছরের এপ্রিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ওয়াকফ বিক্ষোভের নামে এভাবেই অশান্তির আগুন ছড়িয়েছিল মুর্শিদাবাদের নানা জায়গায়। অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান সহ একাধিক এলাকা। কোথাও দাউদাউ করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়ি। কোথাও পুলিশকে লক্ষ্য উড়ে আসে ইট। এমনকী, হামলাকারীদের ভয়ে পুলিশের দোকানে লুকোনোর ছবিও সামনে আসে। প্রশ্ন উঠছে, তখন যদি পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করত, তাহলে আসানসোলে এই ঘটনা ঘটাতে কেউ সাহস পেত?
কলকাতা পুলিশ সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার বলেন, এর আগে একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান, এগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা তৃণমূল সরকার নিলে এরকম আর হত না। আসানসোলের ঘটনায় ধৃতদের মধ্যে বাকিরা হলেন, মহম্মদ ইরশাদ ওরফে কালমা, মহম্মদ আসলাম, শাহনাজ হোসেন, মহম্মদ জাবিদ শাহ, মহম্মদ সোনু এবং মহম্মদ সরফরাজ। ধৃতরা সকলেই আসানসোলের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।





















