Malda Mothabari News: মোথাবাড়িকাণ্ডে সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ, সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে হবে NIA- র তদন্ত
West Bengal SIR News: কেস ডায়েরি-সহ সমস্ত নথি NIA-কে হস্তান্তর করবে রাজ্য পুলিশ, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। NIA-কে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে রাজ্য পুলিশকে, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

Malda Mothabari Incident: মোথাবাড়িকাণ্ডে নজিরবিহীন পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের। SIR মামলার পর মোথাবাড়িকাণ্ডে ফের সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ। সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে NIA-কে তদন্তভার সুপ্রিম কোর্টের। মোথাবাড়িকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে হবে NIA-এর তদন্ত। নির্দিষ্ট সময় অন্তর NIA-কে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টে। কলকাতার NIA কোর্টে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলবে। কেস ডায়েরি-সহ সমস্ত নথি NIA-কে হস্তান্তর করবে রাজ্য পুলিশ, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। NIA-কে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে রাজ্য পুলিশকে, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন মুখ্যসচিব ও DGP, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের ব্রহ্মাস্ত্র বলা হয় সংবিধানের এই ১৪২ ধারা-কে। যখন আইনের আওতায় দেখা যায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে কোনও অপশন নেই, সেক্ষেত্রে কোনও ব্যাপারে পূর্ণ বিচার দিতে হলে, সুপ্রিম কোর্টকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ভারতীয় সংবিধানের ১৪২ ধারা অনুসারে কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্দেশ দিতে পারবে। অর্থাৎ কোনও ঘটনার ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থায় যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া না যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে সংবিধানের এই ১৪২ ধারা অনুসারে সুপ্রিম কোর্ট নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে যে ওই বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে কী করণীয়, আর কী করণীয় নয়। বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট তার এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন গত দেড় মাসে সুপ্রিম কোর্ট ২ বার তার এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারধীন যাঁদের নাম রয়েছে, তা যাচাইয়ের কাজের জন্য জুডিশিয়াল অফিসারদের দায়িত্ব দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সময় একবার সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করেছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এসআইআর- এর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীনদের নাম যাচাইয়ের কাজ সাধারণত করতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তবে সেই দায়িত্বই সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে জুডিশিয়াল অফিসারদের হাতে তুলে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ঠিক দেড় মাস পর মালদার মোথাবাড়ির ঘটনার তদন্তের ক্ষেত্রে ফের সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। মালদার মোথাবাড়ির বিডিও অফিসে এসআইআর- এর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন থাকা ব্যক্তিদের নথি যাচাইয়ের কাজে গিয়েছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। সেখানেই ৭ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত আটকে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। ওই ৭ জনের মধ্যে ছিলেন ৩ জন মহিলাও। এমনকি রাতে এই ৭ জনকে উদ্ধারের সময়েও তাঁদের উপর হামলা হয়। মোথাবাড়িকাণ্ডের ভয়াবহ ঘটনার ভয়ঙ্কর সিসিটিভি ফুটেজও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।
মোথাবাড়ির এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ- কে আগেই দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করেছে দেশে সর্বোচ্চ আদালত। সাধারণত জঙ্গি-সন্ত্রাস, এই সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত করে এনআইএ। সেই বিশেষ ক্ষমতা দিয়েই তৈরি হয়েছিল এনআইএ। ফলত নিয়ম অনুসারে, যে যে ধরনের তদন্ত এনআইএ করতে পারে সেই তালিকায় মোথাবাড়িকাণ্ড পড়ে না। সেক্ষেত্রেই সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট এনআইএ- কে মোথাবাড়িকাণ্ডের তদন্তভার দিয়েছে। ইতিমধ্যেই একদফা তদন্ত করে প্রাথমিক রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছে এনআইএ। এরপর এনআইএ- কে মোথাবাড়িকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার নিতে বলা হয়। সেক্ষেত্রে এনআইএ- এর তরফে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয় যে তাদের তদন্ত করার যা নিয়মাবলী রয়েছে তার আওতায় মোথাবাড়িকাণ্ডের মতো ঘটনা পড়ে না। এরপর সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে তারা সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে এই তদন্ত করার দায়িত্ব এনআইএ-কে দিচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া এমনই পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে, গত দেড় মাসে সুপ্রিম কোর্টকে তাঁর ব্রহ্মাস্ত্র ২ বার প্রয়োগ করতে হয়েছে। একবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় থাকা বিচারাধীনদের নথি যাচাইয়ের কাজের জন্য জুডিশিয়াল অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া সময়। আর দ্বিতীয়বার মোথাবাড়িতে জুডিশিয়াল অফিসারদের কার্যত পণবন্দি করে রাখার ঘটনার তদন্ত করার ক্ষেত্রে। মালদার মোথাবাড়িতে জুডিশিয়াল অফিসারদের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছিলেন যে, এই আক্রমণ কার্যত তাঁদের উপরেই হয়েছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে, মোথাবাড়িকাণ্ডের তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখছে সুপ্রিম কোর্ট। এনআইএ তদন্ত করলেও, সবটাই হবে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে, জানিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।





















