সিউড়ি, বীরভূম: বিধানসভা নির্বাচনের আগে হলদিয়া এবং আসানসোলের পাশাপাশি বীরভূমের সিউড়িতেও সভা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিউড়ি থেকে বিজেপির হয়ে লড়বেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এদিন সিউড়ির সভা থেকে নরেন্দ্র মোদির মুখে শোনা গিয়েছে বীরভূমের বগটুইয়ের ঘটনার কথা। এছাড়াও শাসক দলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'এই রাজ্যে বোমা তৈরির কুটির শিল্প চলছে। অলিতে গলিতে বোমা তৈরির কারখানা রয়েছে। কাঁচা বোমা তৈরি হচ্ছে।' এর পাশাপাশি বীরভূমের 'গ্যাং ওয়ার' থেকে 'বালি-পাথর লুঠ', কোনও কিছু নিয়েই বিরোধীদের আক্রমণ করতে ছাড়েননি মোদি।           

সিউড়ির সভা থেকে বৃহস্পতিবার মোদি বলেন, 'এখানে সবার ভবিষ্যতও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আর এ রাজ্যে বোমা ও অস্ত্র ভাণ্ডার বানাচ্ছে তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গে বোমা তৈরির কুটির শিল্প চলছে। প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভর হচ্ছে দেশ, আর বাংলা বোমা তৈরির কুটির শিল্পে। প্রাকৃতিক সম্পদও লুঠ করছে তৃণমূল সরকার।'        

সরাসরি শাসক দলকে নিশানা করে মোদি বলেন, 'তৃণমূলের মহা-জঙ্গলরাজের সাক্ষী বীরভূম। এখানকার বগটুই মানবতার লজ্জা। বীরভূমে গ্যাং-ওয়ার ও বালি-পাথর নিয়ে লুঠ চলছে। তৃণমূল নেতাদের আশীর্বাদেই সব চলছে। বাংলার মাটি দখল করে নিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। তৃণমূলের লোকেরা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল নথি বানিয়ে দিচ্ছে। দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ অনুপ্রবেশকারীরা। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত হবে। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে মদতদাতাদের জেলে ভরা হবে। এটাই মোদির গ্যারান্টি।' 

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর কোচবিহারে প্রথম সভা করেন নরেন্দ্র মোদি। কোচবিহারের রাস মেলার মাঠে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দ্বিতীয় সভার দিন ছিল আজ ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। একসঙ্গে তিন জায়গায় সভা করেন নরেন্দ্র মোদি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদির সভা হোক কিংবা ব্রিগেডের জনসভা, সর্বত্রই নরেন্দ্র মোদির মুখে শোনা গিয়েছে, 'বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে।' তৃণমূল সরকারকে বিদায় করলেই পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণ হবে, উন্নয়ন হবে, একথাও বারংবার শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখে। আগের সভাগুলির মতোই আজকের তিন সভাতেও বিরোধীদের, বলা ভাল তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে নানা বিষয়ে কটাক্ষ করতে, কার্যত তুলোধনা করতে দেখা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে। বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি, পশ্চিমবঙ্গের অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে লুঠ - সব বিষয়েই তৃণমূল সরকারকেই বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মোদি।