Doraemon: হারিয়ে গেল আরও এক ছোটবেলার সাক্ষী! চিরকালের মতো বন্ধ হয়ে গেল 'ডোরেমন'-এর সম্প্রচার
Doraemon News: গোটা বিশ্বে 'ডোরেমন' জনপ্রিয়তা পেলেও, এই কার্টুন চরিত্রের জন্ম হয়েছিল জাপানে। টিভি আসাহি-তে প্রথম সম্প্রচার হয় 'ডোরেমন'।

কলকাতা: একটা গোটা প্রজন্মের জন্য মনখারাপের খবর। থেমে গেল, ৩৫ বছরের সফর। যে চরিত্রকে দেখলেই মনে হত, এ বোধহয় তুড়ি মেরে সমস্ত সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে। ওমন একখানা 'ম্যাজিক পকেট' থাকলে বোধহয় দুনিয়ার সব দুঃখ শেষ করে দেওয়া যায়। আর সেই 'ম্যাজিক পকেট' যার... যে কার্টুন চরিত্র ৩৫ বছর ধরে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে যুবক যুবতীদেরও মনোরঞ্জন করে এসেছে.. তার সফর থামল এবার। বন্ধ হয়ে গেল 'ডোরেমন' (Doraemon)-এর সম্প্রচার।
গোটা বিশ্বে 'ডোরেমন' জনপ্রিয়তা পেলেও, এই কার্টুন চরিত্রের জন্ম হয়েছিল জাপানে। টিভি আসাহি-তে প্রথম সম্প্রচার হয় 'ডোরেমন'। এই অ্যানিমেশন গল্পের চরিত্ররা হাতে গোনা। মূল চরিত্র নোবিতা আর তার রোবট বেড়াল, ডোরেমন। সেই রোবট নীল বেড়াল ডোরেমনের রয়েছে একটি স্পেয়ার পকেট। সেই পকেট থেকে প্রয়োজন মতো বেরিয়ে আসে যাবতীয় অদ্ভুত সব জিনিস। সব সমস্যার সমাধান করতে। 'এনিহোয়্যার ডোর' থেকে শুরু করে 'ব্যাম্পু কপ্টার'... অনেক চমকপ্রদ জিনিসই বেরত ডোরেমনের সেই স্পেয়ার পকেট থেকে। কিন্তু সেই গল্প আর শোনা যাবে না।
ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল RCTI-র পর্দায় আর সম্প্রচারিত হবে না 'ডোরেমন'। ২০২৫ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত হওয়া RCTI-এর অনুষ্ঠান সূচিতে ছিল না 'ডোরেমন'-এর নাম। এর পরে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি জানা যায়, আর সম্প্রচারিত হবে না ডোরেমনের নতুন এপিসোড। খবর ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যে কার্টুন ছোটবেলার জীবন্ত সাক্ষী, সেই কার্টুন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে মনখারাপ সোশ্যাল মিডিয়ার। গোটা দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই স্মৃতিচারণা করেছেন, বলেছেন 'ডোরেমন' কীভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁদের স্মৃতির সঙ্গে, ছোটবেলার সঙ্গে।
ইন্দোনেশিয়ার সিনেমা সংক্রান্ত একটি সংস্থার তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে যে,চিরকালের মতো বন্ধ হয়ে গিয়েছে, গোটা দেশের জনপ্রিয় কার্টুন, 'ডোরেমন'। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, RCTI চ্যানেলের শিডিউলের তালিকা থেকেই উধাও ডোরেমন। তবে কেন এই চূড়ান্ত জনপ্রিয় শো হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হল, সেই নিয়ে চ্যানেলের তরফ থেকে কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে 'ডোরেমন'-এর নতুন এপিসোড দেখা না গেলেও, পুরনো অনেক এপিসোডই ইন্টারনেটে রয়েছে। অনুরাগীরা ইচ্ছা করলেই দেখতা পারেন সেগুলি। ভারত সহ একাধিক দেশে এখনও 'ডোরেমন' সম্প্রচারিত হয়।
শোনা যায়, স্যার আর্থার কোনান ডয়েল তাঁর বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমসের মৃত্যু নিয়ে একটি গল্প লিখেছিলেন। কিন্তু সেই বই মুক্তি পাওয়ার পরেই অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া। অনেকে আবার, শোক জানাতে মাথায় কালো কাপড় বেঁধে ঘোরা শুরু করেন। শার্লক হোমসের মৃত্যু এতটাই প্রভাব বিস্তার করে অনুরাগীদের ওপর যে, অনুরাগীদের কথা মাথায় রেখেই লেখক ফের ফিরিয়ে আনেন শার্লক হোমসকে। 'ডোরেমন'-এর ক্ষেত্রেও কি সেই একই ঘটনা ঘটবে? বলবে সময়।






















