Prabhat Roy Film: 'জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার', ১১ বছর পরে 'অ্যাকশন-কাট' বলবেন প্রভাত রায়! অভিনয়ে কারা?
Prabhat Roy New Film: সিনেমার মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে, কৌশিক সেন, অনুজয় চট্টোপাধ্যায়, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় ও ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়কে

- প্রখ্যাত পরিচালক প্রভাত রায় রবীন্দ্রনাথের 'বলাই' গল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন।
- এই সিনেমায় কৌশিক সেন, অনুজয় চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য অভিনেতারা অভিনয় করবেন।
- পরিচালকের মেয়ে একতা ভট্টাচার্যের চিত্রনাট্যে এই ছবিটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
- ৮২ বছর বয়সে, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে এটি পরিচালকের শেষ কাজ হতে পারে।
কলকাতা: বর্ষীয়ান পরিচালক প্রভাত রায় (Prabhat Roy) যে শ্যুটিং ফ্লোরে ফিরছেন, সেই ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। আর শুক্রবার হল তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) ছোটগল্প 'বলাই'-কেই এবার বড়পর্দায় তুলে আনবেন পরিচালক। অনেকেই 'বলাই' গল্পটি পড়েছেন তাঁদের পাঠ্যে, অনেকে আবার নিছক পড়েছেন গল্প হিসেবেই। এক বালক আর একটি গাছের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে নিয়েই এগিয়ে গিয়েছে এই গল্প। ১১ বছর পরে শ্যুটিং ফ্লোরে ফিরে সেই গল্পকেই নতুন মোড়কে বলবেন পরিচালক।
সিনেমার মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে, কৌশিক সেন, অনুজয় চট্টোপাধ্যায়, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় ও ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়কে। ছবিটির প্রযোজনা করছেন, MRJ Films এর ড. মনোরঞ্জন জেনা। ছবির সঙ্গীতের দায়িত্ব রয়েছে, বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমনের ওপর। ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ ও কাস্টিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, একতা ভট্টাচার্য। পোশাক পরিকল্পনায় সাবর্ণী দাস এবং শিল্প নির্দেশনায় রয়েছেন, তন্ময় চক্রবর্তী।
ছবিটি নিয়ে বর্ষীয়ান পরিচালক প্রভাত রায় বলছেন, '৮২ বছর বয়সে এসে আমি এমন একটি গল্প নিয়ে ছবি করতে চাইছিলাম, যার সঙ্গে মানুষ সহজেই নিজেকে যুক্ত করতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বলাই” এমনই একটি গল্প, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। বহু বছর ধরে এটি স্কুলের পাঠ্যসূচিরও অংশ। বলাই ছবিটি করার পেছনে আরেকটি কারণও বেশ মজার। একদিন আমি আমার মেয়ে একতার সঙ্গে কফি খেতে খেতে গল্প করছিলাম। কথার ফাঁকে সে আমাকে সংক্ষেপে গল্পটি শোনায় এবং বলে যে এটি একটি খুব সুন্দর সিনেমা হতে পারে। প্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমি ওকে বলেছিলাম— “তুমি স্ক্রিপ্টটা লেখো এবং সবকিছু ব্যবস্থা করে দাও, আমি ছবিটি পরিচালনা করবো।” যেহেতু এটি মেয়ের সবচেয়ে প্রিয় গল্প, ও ভীষণ খুশি হয়েছিল এবং সেই মুহূর্ত থেকেই ও খুব মন দিয়ে স্ক্রিপ্টটা লিখেছে। "বলাই" অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি গল্প।'
প্রভাত রায় আরও বলছেন, 'তারপর থেকেই আমরা প্রায় প্রত্যেকদিনই ছবির সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করে চলেছি। নতুন প্রজন্মের অনেক অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ভাবে পরিচয় নেই, কিন্তু একতা আমাকে তাদের অনেকের সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি সত্যিই খুব উদগ্রীব। আমরা মূল গল্পটির সারমর্ম অক্ষুণ্ণ রেখে সেটিকেই অবলম্বন করছি, শুধু চরিত্রগুলোর আবেগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন করা হয়েছে। তিন বছর আগে যখন আমার শারীরিক অবস্থা যা হয়েছিল, মনে হয়েছিল আর বেশিদিন বাঁচবো না। কিন্তু একতা আমার জীবনে সন্তান রূপে আশীর্বাদের মতো এসে যেন সবকিছু বদলে দিল। ঠিক যেমন ছোট্ট বলাইয়ের জীবনে হঠাৎ করে শিমুল গাছটি উপস্থিত হয় একটি সতেজ বাতাসের মতো, যা তাকে দেয় সান্ত্বনা, বন্ধুত্ত আর সঙ্গ। এই তিন বছরে একতা আমার অনেক ইচ্ছা ও স্বপ্ন পূরণ করেছে। তবু কোথাও না কোথাও আমার মনে আবারও সেটে ফিরে যাওয়ার একটি ইচ্ছা রয়ে গিয়েছিল। আমার শেষ বার ছবি করেছিলাম এগারো বছর আগে, আর এখন আমার মেয়ে আবার সেই স্বপ্ন পূরণে আমাকে সাহায্য করছে। আমার কাছে এটি যেন জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার।'
প্রভাত রায় আরও বলছেন, 'আমি খুব চেয়েছিলাম একতা আমার সঙ্গে এই ছবির সহ-পরিচালক হোক, তার নাম আমার নামের পাশে পরিচালকের তালিকায় থাকুক। কিন্তু সে তাতে রাজি হয়নি। সে ছবির প্রতিটি বিষয় এত সুন্দরভাবে গুছিয়ে দিচ্ছে যেমনভাবে ও আমার আত্মজীবনী “Clapstick” বইটির সময় করেছিল। এই একটি আফসোস হয়তো আমার থেকে যাবে। ছবিটি বর্তমানে প্রি-প্রোডাকশনের পর্যায়ে রয়েছে, আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি আমাকে সেই পুরোনো দিনের কাজ করার স্মৃতিগুলো আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমার বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে আমি এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বদলে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি হিসেবে নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হয়তো এটিই আমার শেষ চলচ্চিত্র হতে পারে, তাই আমি এটিকে যতটা সম্ভব ভালোভাবে করার চেষ্টা করতে চাই।'























