Shieladitya Moulik: 'বাবার সঙ্গে আমার শেষ কাজ, ছবিটা দেখে যেতে পারলেন না..', নতুন ছবি মুক্তির খবরেও আক্ষেপ শিলাদিত্যর
Charak Release: ছবিটির গল্প এগিয়ে যায়, কয়েকটি গ্রামের পরিবারের জড়ানো জীবন, এক শহুরে দম্পতির আগমন এবং বিশ্বাস, আশা ও সামাজিক চাপে চলা এক সমাজকে নিয়ে

কলকাতা: সামনেই মুক্তি পাচ্ছে শিলাদিত্য মৌলিক (Shieladitya Moulik) পরিচালিত সিনেমা, 'চড়ক'। বাংলার লোকসংস্কৃতি আর উৎসবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য নিয়ে বড়পর্দায় ফিরছেন পরিচালক শিলাদিত্য। পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রামের গল্প বলবে এই সিনেমা। চড়ক উৎসবের কঠোর আচার-অনুষ্ঠান, রঙিন ভক্তি আর লোককথার মোড়কে তৈরি হয়েছে এই সিনেমা। সদ্যই মুক্তি পেয়েছে ছবিটির ট্রেলার। বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে এই সিনেমা।
ছবিটির গল্প এগিয়ে যায়, কয়েকটি গ্রামের পরিবারের জড়ানো জীবন, এক শহুরে দম্পতির আগমন এবং বিশ্বাস, আশা ও সামাজিক চাপে চলা এক সমাজকে নিয়ে। উৎসব যত কাছে আসে, কিছু রহস্যময় ঘটনা গ্রামের শান্ত ছন্দকে নাড়া দেয়। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়, বিশ্বাস আর ভয় মানুষকে কত অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। লোককথা, বাস্তবতা এবং মানসিক টানাপোড়েনের মিশেলে 'চড়ক' ছবিটি তুলে ধরে ভক্তি আর অন্ধ আসক্তির মাঝের সূক্ষ্ম সীমা, প্রথা আর তার ফলের সম্পর্ক। আবহময়, আবেগভরা ও হালকা শিহরণ জাগানো এই চলচ্চিত্র এক সমাজের ছবি তুলে ধরে, যারা বিশ্বাস আর যুক্তির মোড়ে দাঁড়িয়ে। এখানে প্রতিটি আচার যেন কিছু বলতে চায়, আর প্রতিটি নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটি অজানা গল্প।
এই সিনেমাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক শিলাদিত্য বলছেন, 'আমার কাছে এটা খুব ব্যক্তিগত একটা কাজ। এই ছবিটি আমার বাবার উপস্থাপনায় শেষ কাজ। উনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন গত নভেম্বর মাসে। ছবিটার শুরু থেকে বাবা ভীষণ বিশ্বাস নিয়ে পাশে ছিলেন। আমার একটাই আক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত তিনি ছবিটা দেখে যেতে পারলেন না। আজ ছবির প্রতিটি ফ্রেমে আমি তাঁর অনুপস্থিতি টের পাই। এই চলচ্চিত্রটা তাঁর সাহস, ভরসা আর নীরব দিক নির্দেশনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা।
এই ছবিটি আমার হিন্দি ভাষায় দ্বিতীয় কাজ। আমার প্রথম হিন্দি ছবি ছিল 'Mrs Scooter'। আবার হিন্দিতে ফেরা একদিকে কঠিন, আবার অন্যদিকে খুবই তৃপ্তির। প্রতিটি ছবি আমাকে কিছু না কিছু নতুন শেখায়। শুধু সিনেমা বানানোর কৌশল নয়, একজন গল্পকার হিসেবে নিজেকেও নতুন করে বুঝতে সাহায্য করে। 'চড়ক' ছবিটি তৈরির সময় আমার ইচ্ছে ছিল এমন একটা আবহ তৈরি করা, যাতে দর্শক শুধু গল্পটা দেখবেন না, বরং সেই জায়গাটাকে অনুভব করতে পারেন। আমি সবসময় মনে করি, সিনেমা তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয় যখন সেটা মানুষকে ভাবায় এবং কথা বলার সুযোগ করে দেয়। আশা করি এই ছবি দর্শকের সঙ্গে মানবিক আর আবেগের স্তরে একটা সত্যিকারের যোগ তৈরি করতে পারবে।























