Sankar Demise: "ঠান্ডা ঘরে যেন না রাখা হয়", ইচ্ছেকে সম্মান দিয়েই শেষকৃত্য হবে প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকরের
Writer Sankar Demise: 'দেহ যেন ঠাণ্ডা ঘরে না রাখা হয়', শংকরের শেষ ইচ্ছা রেখেই মেয়েকে ছাড়াই শেষকৃত্য সাহিত্যিকের

কলকাতা: শেষের দিকে কথা বলতে পারতেন না ভাল করে। কিন্তু বিছানায় শুয়ে শুয়েও চেয়ে পাঠাতেন তাঁর চিরকালের সঙ্গীকে। কলম। যে কলমে ভর করে একসময় মানুষের মনের, সম্পর্কের ছবি এঁকেছেন পাতা জুড়ে, চিরকালের জন্য সেই কলম থেমে গেল শুক্রবার। ২০ ফেব্রুয়ারি। ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন সাহিত্যিক শংকর। জীবনের শেষ সময়টা বারে বারে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে হয়েছিল তাঁকে। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই, তবে লড়াই জারি ছিল।
সাহিত্যিকের ২ কন্যা, ২ জনেই পাকাপাকিভাবে আমেরিকায় ও লন্ডনে থাকেন। ছোট মেয়ে এখানে থাকলেও, বড় মেয়ে এখনও বাড়ি ফিরতে পারেননি। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই ছুটে আসার কথা তাঁর কন্যার। এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই পরিজন না আসা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয় দেহ। কিন্তু শংকরের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারে আলাদা। জীবনের শেষ কয়েকটা দিন, পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সাহিত্যিক। আজ ফুলে সাজানো গাড়িতে হাসপাতাল থেকে তাঁর শবদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে। সেখানেই ১ থেকে ২ ঘণ্টা শায়িত থাকবে তাঁর মরদেহ। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সাহিত্যিকের গুণমুগ্ধরা।
তবে তাঁর আত্মীয় পরিজনের জন্য মরদেহ সংরক্ষিত করে রাখা হবে না। সাহিত্যিকের শেষ ইচ্ছা ছিল, তাঁর মৃতদেহ যেন ঠাণ্ডাঘরে না রাখা হয়। সংরক্ষণ না করা হয়। তাঁর সেই শেষ ইচ্ছা মেনেই সংরক্ষিত হবে না মৃতদেহ। আজই ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। প্রিয় সাহিত্যিক নেই, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের বাইরে ভিড় জমিয়েছেন অনুরাগীরা। অশ্রুসজল হয়েই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন অনুরাগীরা।
গত ১৫ জানুয়ারি, হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল সাহিত্যিককে। তাঁর কোমরের কিছু চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে কয়েকদিন থাকার পরে, তিনি মাত্র ২ দিনের জন্য বাড়ি যেতে পেরেছিলেন। এরপরে, গত ২৪ জানুয়ারি ফের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল সাহিত্যিককে। ফের হাসপাতালে কয়েকদিন থাকার পরে বাড়ি ফিরতে পারেন তিনি। এরপরে, ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখে ফের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। সংক্রমণ, মস্তিষ্কে টিউমার সহ একাধিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ভেন্টিলেশনে দিতে চাননি। তাঁকে রাখা হয়েছিল ITU-তে। কিন্তু তারপরে আর জীবিত বাড়ি ফেরা হল না সাহিত্যিকের। ফুলের গাড়িতে করে ছুঁয়ে এলেন তাঁর বন্ডেল রোডের বাড়ি। শেষবারের মতো।























