নয়াদিল্লি: জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার পরিসংখ্য়ান বলছে, ভারতের বিপুল সংখ্য়ক শিশু এখনও অপুষ্টিতে ভুগছে। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির জেরে বৃদ্ধি ব্য়াহত হয়েছে ৩৫.৫ শতাংশের। কৃশকায় হয়ে রয়েছে ১৯.৩ শতাংশ শিশু। স্বাভাবিকের চেয়ে ওজন কম ৩২.১ শতাংশের। অন্য দিকে, ২০২৪ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক বলছে, ভারতের ১৯ থেকে ২২,.৪ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন। কিন্তু এই পরিসংখ্যান আর কতজনকেই বিচলিত করে তোলে? সংখ্যাটা যে খুবই কম, তা বোঝা গেল। কারণ এবার হৃদয়বিদারক ছবি উঠে এল মধ্যপ্রদেশ থেকে। পুণ্যলাভের আশায় ১১০০০ লিটার দুধ নদীতে ঢেলে নষ্ট করা হল। ( Milk Poured into Narmada River)

মধ্যপ্রদেশের  সতদেবের সিহোর থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। চৈত্র নবরাত্রি উপলক্ষে সেখানে পাতালেশ্বর মহাদেব মন্দিরে ২১ দিন ব্যাপী মহাযজ্ঞ চলছিল। মা নর্মদার অভিষেক করে ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আর তাতেই মন্ত্রপাঠ-সহ ট্যাঙ্কার ভর্তি দুধ এনে পাইপের সাহায্য়ে নদীতে ঢালা হয়। নদীর সবুজ জলের উপর সাদা দুধ চোখে পড়ছিল বহু দূর থেকেও। সেই দুধ মেশানো জলে দাঁড়িয়েই পুণ্য অর্জনের চেষ্টা চালান অনেকে। (Pataleshwar Mahadev Temple)

বরাবরই সেখানে এই রীতি। ২১ দিনের ধর্মীয় উৎসবে যোগ দিতে বহু দূর থেকে মানুষজন ছুটে আসেন। মন্দিরে পুরোহিতদের সান্নিধ্যে এসে ভক্তিভাবে একেবারে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে তাঁদের মন। এবারে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল উৎসব। রোজ মহাযজ্ঞ চলে। প্রতিদিন প্রায় ২১ কুইন্টাল সামগ্রীর প্রয়োজন পড়ে তাতে। ভেষজ এবং অন্যান্য সামগ্রী ছিল প্রায় ৪১ টন। যজ্ঞের পবিত্র আগুনে সোনা-রুপোও অর্পণ করেন অনেকে। 

মধ্যপ্রদেশের সতদেব অঞ্চল গভীর ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ বহন করে। ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস, সেটিই আসলে সপ্ত ঋষির তপোভূমি। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সেখানেই সাত ঋষি কঠোর তপস্যা করেন, যার ফলস্বরূপ ‘পাতালেশ্বর মহাদেব’ রূপে তাঁদের সামনে হাজির হন ভগবান শিব। ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে জায়গাটির। অহল্যাবাই হোলকারের শাসনকালে সেটি আধ্য়াত্মিকতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। 

তবে নর্মদা নদীতে ১১০০০ লিটার দুধ ঢেলে নষ্ট করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া উঠে আসছে নেটদুনিয়া থেকে। যে দেশে শিশুরা সুষম আহার পায় না, সেখানে দুধ নষ্ট করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ধর্মবিশ্বাস, সংস্কার বাস্তবকে উপেক্ষা করে কী করে, অনেকেই বুঝতে পারেননি। পাশাপাশি, পরিবেশবিদরাও গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত। নদীর জলে দুধ মেশানোয় জলের অক্সিজেন ধারণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।