নয়াদিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে অমিত শাহের মুখে ফের পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ। দেশের সংসদে এবার সেই নিয়ে সরব হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  নির্বাচনে এখনও এক বছর বাকি থাকলেও, এখন থেকেই তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সেই আবহে অনুপ্রবেশ সমস্যার পাশাপাশি, সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলায় পদ্ম ফোটানোর ঘোষণাও করে দিলেন শাহ। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালে বাংলায় পদ্ম ফুটবেই। (Amit Shah)


২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বাংলায় প্রচারে নেমেছিল বিজেপি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও বিজেপি নেতাদের মুখে বারংবার বাংলার অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখনও একবছর বাকি থাকলেও, ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় গরমিল, জাল আধার কার্ড ইস্যু জোর পেয়েছে। (West Bengal Assembly Elections 2026)


সেই আবহেই বৃহস্পতিবার লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে মুখ খোলেন শাহ। তিনি বলেন, "সীমান্তে ৪৫০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে সাত বার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তার পরও জমি দেয় না। কাঁটাতার বসাতে গেলে শাসকদলের ক্য়াডাররা ঝামেলা পাকায়, ধর্মীয় স্লোগান তোলেষ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন সরকার অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি দয়াশীল, তার জন্যই কাঁটাতার বসানোর কাজ আটকে আছে। আমার এই ভাষণ শুনে যদি মমতাদি জমি দেন।"



দেশের সর্বত্র যত অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে, তার জন্যও পশ্চিমবঙ্গকে কাঠগড়ায় তোলেন শাহ। তাঁর কথায়, "অনুপ্রবেশকারী, রেহিঙ্গারা দিল্লি পর্যন্ত, একেবারে নাকের ডগায় চলে এসেছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গারা আগে অসম থেকে আসত, যখন কংগ্রেসের সরকার ছিল। এখন আসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে, যেখানে তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে। এদের কে আধার কার্ড দেয়, এরা কোথাকার নাগরিকত্ব পেয়েছে? যত অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে, সব উত্তর ২৪ পরগনায় আধারকার্ড হয়েছে, সেখানকার নাগরিক। আপনাদের দেওয়া আধারকার্ড নিয়ে ওরা দিল্লি পর্যন্ত আসে।"


এসব বেশিদিন চলবে না, বিজেপি ক্ষমতায় এসে সব বন্ধ করে দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, "এসব আর বেশিদিন চলবে না। ২০২৬ সালে নির্বাচন রয়েছে, বাংলায় পদ্ম ফুটবে এবং এসব শেষ হবে।" তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ই সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে দাবি জানিয়েছিলেন সংসদে। সেই নিয়ে জবাব দিতে গিয়েই তৃণমূলকে নিশানা করেন শাহ। 


যদিও শাহের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। দলের সাংসগ সৌগত রায় বলেন, "আমরা বিরোধিতা করেছি। বলছেন পরের বার নির্বাচনে জিতে কাঁটাতার করব। জন্মে জিততে পারবেন না বলে দিয়েছি। এটা বিজেপি-র প্রচার। আর উনি তো বিজেপি-রই প্রচারক। সিএএ করে এখনও ১০০ লোককেও নাগরিকত্ব দিতে পারেনি।" বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানো নিয়ে আগেও তৃণমূল ও বিজেপি-র মধ্যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সময় বিজেপি-র অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।