Amit Shah: 'লজ্জাজনক-নজিরবিহীন', রাষ্ট্রপতিকে অসম্মানের অভিযোগে সরব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ; TMC-কে নিশানা
Mamata Banerjee: আজ রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই কার্যত ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীরও আসা উচিত।

Amit Shah: ধর্মতলায় এসআইআর ইস্যুতে ধর্নায় বসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আজ ধর্নার দ্বিতীয় দিন। এদিকে আজই উত্তরবঙ্গে এসেছেন রাষ্ট্রপতি দ্ৰৌপদী মুর্মু। আজ রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই কার্যত ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীরও আসা উচিত। হয়তো কোনও কারণে রাগ করেছেন। আর এই নিয়ে রাজ্যে ভোটের মুখে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
এপ্রসঙ্গে এক্স (X) পোস্ট করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বাংলায় পোস্ট করে তিনি লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার আজ তাদের নৈরাজ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে আরও নিম্নস্তরে নেমে গেল। প্রোটোকলের প্রতি চরম অবহেলা দেখিয়ে তারা ভারতের রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে। এই ঘটনা তৃণমূল সরকারের গভীর অবক্ষয়কে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। যে সরকার ইচ্ছামতো নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে, তারা দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ-রাষ্ট্রপতিকেও অসম্মান করতে পিছপা হয় না। আমাদের জনজাতি ভাইবোনদের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অবমাননা আমাদের জাতি ও সাংবিধানিক গণতন্ত্রের মূল্যবোধের প্রতি অপমান। আজ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রতিটি নাগরিক গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত।'
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার আজ তাদের নৈরাজ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে আরও নিম্নস্তরে নেমে গেল। প্রোটোকলের প্রতি চরম অবহেলা দেখিয়ে তারা ভারতের রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে।
— Amit Shah (@AmitShah) March 7, 2026
এই ঘটনা তৃণমূল সরকারের গভীর অবক্ষয়কে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। যে সরকার ইচ্ছামতো নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন…
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বিজেপি কোথায় নিয়ে গেছে সংবিধানটাকে! আমার বলতে লজ্জা লাগছে। মাননীয় রাষ্ট্রপতি তাঁকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও রাজনীতি বেচতে পাঠানো হয়েছে। বিজেপির এজেন্ডা বেচতে পাঠানো হয়েছে। ক্ষমা করবেন ম্যাডাম। আপনি বিজেপির পলিসির ফাঁদে পড়ে গেছেন। কোনওদিন ইনি আসছেন, কোনওদিন A, কোনওদিন B, কোনওদিন C, কোনওদিন D, কোনওদিন E, আমাদের কি কাজকর্ম নেই না কি? সারাক্ষণ আপনাদের পিছনে পিছনে লেজুর হয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে? নাকি লাটাই নিয়ে ঘুরতে হবে?'
সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও (Narendra Modi)। তিনি লেখেন, 'সব সীমা পার করে গেছে তৃণমূল সরকার। এটা লজ্জাজনক-নজিরবিহীন। গণতন্ত্রের ওপর যাঁদের আস্থা রয়েছে, যাঁরা আদিবাসীদের উন্নয়নের পক্ষে, তাঁরা ব্যথিত। রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে, এর জন্য দায়ী প্রশাসন। সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো বিষয়কে অত্যন্ত হালকাভাবে দেখে রাজ্য প্রশাসন। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে, এর গরিমা রক্ষা করা উচিত। আশা করি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে', ক্ষোভপ্রকাশ করে পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর।
এই একই বিষয় নিয়ে সুর চড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, "আজ দুপুরবেলা একদিকে সংসদ রাজু বিস্তা, একদিকে ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দূর্গা মুর্মুকে নিয়ে মাননীয়া রাষ্ট্রপতি মহোদয়া বলছিলেন আমাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমাকে কর্মসূচি করতে দেওয়া হয় না। আমার উপরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত রাগ কেন!" রাজ্যের বিরোধী দলনেতা যোগ করেন, "রাগ তো থাকবেই। যেদিন আপনি ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা আপনাকে ভোট দেয়নি। আমি, সৌমিত্র খাঁ-রা আপনাকে ভোট দিয়েছিলাম। আমরা আদিবাসীদের সম্মান দিতে জানি। তাই আজকে রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার ঘটনার পরে প্রমাণ হয়ে গেছে তৃণমূল শুধু হিন্দু বিরোধী নয়, শুধু নারীবিরোধী নয়, তৃণমূল আদিবাসী বিরোধী।"
সেরা শিরোনাম























