নয়াদিল্লি: পাকাপাকি ভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর একই সঙ্গে চিনকে কাছে টানার চেষ্টা করতে দেখা গেল তাঁকে। তাঁর এই সিদ্ধান্তে চিন যারপরনাই খুশি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। দেখা হলে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে যাতে আলিঙ্গন করতে না ভোলেন, সেই বার্তাও দিলেন। (Donald Trump on Hormuz)

সোশ্য়াল মিডিয়ায় পাকাপাকি ভাবে হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। উল্লেখযোগ্য ভাবে সেই পোস্টে চিনকে কার্যত বন্দনা করতে দেখা গেল তাঁকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, 'চিন অত্যন্ত খুশি যে আমি পাকাপাকি ভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিচ্ছি। আমি এটা ওদের জন্যও করছি, বাকি দুনিয়ার জন্যও। এই পরিস্থিতি আর কখনও তৈরি হবে না। ওরাও রাজি হয়েছে যে ইরানকে অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করবে না। প্রেসিডেন্ট শি, কয়েক সপ্তাহ পর যখন দেখা হবে, আমাকে দৃঢ় আলিঙ্গন করবেন'। (US-China Relations)

ট্রাম্প আরও লেখেন, 'একসঙ্গে, বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করছি আমরা। কাজ ভাল এগোচ্ছেও। লড়াইয়ের চেয়ে এটা ভাল নয় কি? কিন্তু মনে রাখা দরকার, আমরা লড়াই করতেও দক্ষ। বেশ ভাল লড়াই করি। প্রয়োজন পড়লে বাকি সকলকে ছাপিয়ে যেতে পারি'।

বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। আর তার কিছু ক্ষণ আগেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসমাপ্তির ইঙ্গিত দেন তিনি। আমেরিকার Fox News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা সামরিক ভাবে ওদের সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত করেছি। আমার মনে হয় সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে (যুদ্ধ)। শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি…আমি যদি এখন বড় সিদ্ধান্ত নিই, নতুন করে দেশকে দাঁড় করাতে ২০ বছর  সময় লাগবে ওদের। আমার শেষ হয়ে যাইনি।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি চিন। তবে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ গোড়া থেকেই অস্বীকার করে এসেছে বেজিং। যদিও আমেরিকার দাবি, চিনকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সাহায্য় করে চিন। আগামী ১৪ এবং ১৫ মে বেজিং সফরে যাওয়ার কথা ট্রাম্পের। সেখানে দু'জনের মধ্যে ইরান নিয়ে কী আলোচনা হয়, সেদিকেও তাকিয়ে সকলে। 

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে গোড়া থেকেই প্রতিবাদে সরব ছিল চিন। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল বিনা প্ররোচনায় হামলা চালিয়েছে, তাদের আচরণ দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করে চিন। এমনকি ইসলামাবাদে 'শান্তি বৈঠক' ভেস্তে যাওয়ার পর আমেরিকা হরমুজ অবরোধ করতে গেলেও নিন্দায় সরব হয় চিন। আমেরিকার পদক্ষেপ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মন্তব্য করে তারা। এদিন হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা করতে গিয়ে সেই চিনের মন পাওয়ার চেষ্টা করতেই দেখা গেল ট্রাম্পকে।