চেন্নাই:বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণার পর তিন দিন অতিক্রান্ত। কিন্তু তামিলনাড়ুতে নয়া সরকার গড়া নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। প্রায় ছ’দশক ধরে চলে আসা দ্বিদলীয় রাজনীতির রীতি ভেঙে এবার জয়ী হয়েছেন অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয়। তাঁর দল TVK ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টিতেই জয়ী হয়েছে। ম্যাজিক সংখ্যা ১১৮ না পলেও, কংগ্রেসকে জোটের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিজয়। কিন্তু সরকার গড়ার দাবি জানাতে গিয়ে ধাক্কা খেতে হল বিজয়কে। ১১৮টি সই নিয়ে তবেই তাঁকে আসতে বললেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর। আর সেই নিয়েই টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। (Thalapathy Vijay)

সরকার গড়ার দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় বারের জন্য রাজ্যপাল আরলেকরের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। কিন্তু এদিনও তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন পেলে, তবেই সরকার গঠনের দাবি নিয়ে লোকভবনে আসতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে বিজয়কে। তবেই শপথগ্রহণের দিকে এগনো সম্ভব বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল আরলেকর। সূত্রের খবর, বিজয়কে রাজ্যপাল বলেন, “১১৮ সই নিয়ে আসুন। দেখাব TVK সংখ্যাগরিষ্ঠ। কবেই শপথগ্রহণ হবে।” সরকার যাতে ভেঙে না পড়ে, সরকার যাতেস্থিতিশীল থাকে, তার জন্য ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন প্রয়োজন বলেও জানানো হয়। (Tamil Nadu Governor)

আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথ খুনে মিলল ক্লু? শুভেন্দু বললেন, ‘ঠিক লাইনে এগোচ্ছে পুলিশ’

বিজয়কে আরলেকর জানান, তিনি সই নিয়ে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও দলকে সরকার গড়তে ডাকবেন না তিনি। আগামী ৯ মে তামিলনাড়ু বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আরলেকরকে। একদিন আগেও ১১২ জনের সমর্থন নিয়ে বিজয় তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ও তাঁকে ফিরিয়ে দেন আরলেকর। 

তামিলনাড়ুতে বিজয়ের দল TVK ১০৮টি আসনে জয়ী হয়েছে। একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে তারা। কিন্তু ম্যাজিক সংখ্যা ১১৮ ছোঁয়া যায়নি। কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন যোগ করেও ১১৩ জনে পৌঁছেছেন। রাজ্য়পালের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেত পারলে তবেই সরকার গড়তে পারবেন বিজয়।  যদিও বিজয় এবং অন্যদের, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করাই দস্তুর। এমন পরিস্থিতিতে অন্য বিরোধীরা পর্যন্ত বিজয়ের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। কমল হাসনের বক্তব্য, “বিজয়কে সরকার গড়তে আমন্ত্রণ  না জানিয়ে জনাদেশকে অসম্মান করছেন রাজ্যপাল।” তিনি আরও লেখেন, ‘এমকে স্ট্য়ালিন জানিয়েছেন, জনাদেশকে সম্মান জানিয়ে বিরোধীর ভূমিকায় থাকবেন তাঁরা। আমি ওঁর রাজনৈতিক পরিপক্কতাকে সম্মান করি। সাংবিধানিক পদে থাকা মানুষকেও তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এটা কোনও দাবি নয়, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। বিজয়ের নেতৃত্বে TVK ১০৮ আসনে জয়ী হয়েছে। ওঁকে সরকার গড়তে আহ্বান না জানিয়ে জনাদেশকে অপমান করা হচ্ছে। রাজ্য এবং গণতন্ত্রের অপমান’।

আরও পড়ুন: আটলান্টিক মহাসাগরে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ, প্রমোদতরীতে মৃত্যু ৩ জনের, সংক্রমিত আরও

VCK প্রধান থোল তিরুমাভলাভনের মতে, বিজয়কে শপথ নিতে দেওয়া উচিত। রাজ্যপালের এই অবস্থান কাম্য় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জানান, লোকভবনে নয়, বিজয়কে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ করাই দস্তুর। এমনকি ক্ষমতাচ্যুত DMK-র নেতা এ সর্বাননও বিজয়কে সমর্থন করেন। তাঁর বক্তব্য, “ভোটপূর্ব কোনও জোট যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, সেক্ষেত্রে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে বেছে নেওয়াই রীতি। ভোট পরবর্তী জোটের ক্ষেত্রে সেটি চতুর্থ বিবেচ্য বিষয়। তামিলনাড়ুতে ভোটপূর্ব কোনও জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। আর কেউ সরকার গড়ার দাবি জানায়নি। বিজয়ের দল TVK একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। তারা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ার দাবি জানিয়েছে। ১১৩ জন ইতিমধ্যেই সমর্থন জানিয়েছেন তাঁদের।”

CPI-এর রাজ্য সম্পাদক এম বীরাপান্ডিয়ানের মতে, রাজ্যপালের উচিত বিজয়কে সরকার গড়তে দেওয়া। বিধানসভায় সংখ্য়াগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন বিজয়। তাঁর কথায়, “শপথগ্রহণের আগে বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলা রাজ্যপালের জন্য শোভনীয় নয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে TVK-কে সুযোগ দিতে হবে। সংবিধানে এমন বিধান রয়েছে।”

যদিও বিজেপি-র দাবি, TVK সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তাই সরকার গড়ার দাবিদার নয় তারা। দলের নেতা নারায়ণ তিরুপতির বক্তব্য, “জনাদেশ বিভাজিত। TVK-র কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ওদের প্রমাণ দিতে হবে। বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করলে রাজ্যপাল মেনে নেবেন।” 

TVK সূত্রে জানা যাচ্ছে, গতকালের পর আজও লোকভবনে যান বিজয়। জানান, বামপন্থী দুই দলের ছয় আসন এবং একটি আঞ্চলিক দলের দু’টি আসনও রয়েছে তাঁর সমর্থনে। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে প্রস্তুত তিনি। কিন্তু রাজ্যপাল আগে সংখ্যা প্রমাণ করতে বলেন তাঁকে। CPM, CPI এবং VCK-র সমর্থন রয়েছে বিজয়ের কাছে। পাশাপাশি, পাত্তালি মক্কল কাৎচি নামের একটি দলের চার বিধায়কও তাঁকে সমর্থন দিতে রাজি।