Bay of Bengal: ভারত মহাসাগরে ড্রাগনের আনাগোনা, জলপথেও বাড়ছে অনুপ্রবেশ, হলদিয়ায় নতুন নৌসেনা ঘাঁটি গড়ার ভাবনা
Indian Navy: কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা সূত্রে এমনই খবর সামনে এসেছে।

নয়াদিল্লি: পড়শি দেশগুলির গতিবিধিতে সন্দেহ বাড়ছে ক্রমশ। সেই আবহেই আবহেই জলভাগে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভারতের। একদিকে চিনের নৌবাহিনীর রক্তচক্ষু, অন্য দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে পরিবর্তিত সমীকরণ, এই দুইয়ের জেরে বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন নৌসেনা ঘাঁটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নয়া নৌসেনা ঘাঁটিটি গড়ে তোলা হবে বলে খবর। (Indian Navy)
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা সূত্রে এমনই খবর সামনে এসেছে। এখনও পর্যন্ত যে খবর পাওয়া গিয়েছে, সেই অনুযায়ী, হলদিয়ায় যে নৌসেনা ঘাঁটি গড়ে তোলা হবে, যা আসলে একটি ‘ডিট্যাচমেন্ট’। অর্থাৎ অল্প সংখ্যক অল্প সংখ্যক কর্মীই মোতায়েন থাকবেন। নিরাপত্তা, পরিবহণ সংক্রান্ত কাজকর্ম খতিয়ে দেখবেন এঁরা। পাশাপাশি, নির্জন স্থানে উপস্থিতি বজায় রাখবেন। নৌবাহিনীর মূল ডিউটি থেকে এঁদের ডিউটি হবে আলাদা। বিশেষ কাজেই নিযুক্ত থাকবেন। (Bay of Bengal)
বঙ্গোপসাগরের উত্তর ভাগে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে, উপকূলীয় নিরাপত্তায় জোর দিতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। কারণ সাগরে যেভাবে সক্রিয় হয়ে উঠছে চিনের নৌবাহিনী, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সখ্য যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছে দিল্লি।
নৌবাহিনীর নতুন যে ঘাঁটি গড়ে তোলা হবে, সেটি হলদিয়া বন্দরকেও কাজে লাগাবে। এর ফলে ন্যূনতম অতিরিক্ত পরিকাঠামো ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধুমাত্র নৌবাহিনীর ব্য়বহারের জন্য একটি জেটি তৈরি করা হবে, পাশাপাশি একটি উপকূলীয় সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। হলদিয়ার ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকবে Fast Interceptor Crafts, ৩০০ টন ওজনের New Water Jet Fast Attack Crafts. অতি দ্রুত ছুটতে সক্ষম ওই জাহাজের গতি ৪০ থেকে ৪৫ knots.
জরুরি পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ ব্যবহারের জন্য ওই সব জাহাজ ব্যবহার করে ভারতীয় নৌবাহিনী। ওই জাহাজগুলি ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হবে, বিপদে উদ্ধারকার্যও চলবে। জাহাজগুলিতে CRN-91 আগ্নেয়াস্ত্র থাকবে। থাকবে ‘নাগাস্ত্র’ প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যে আগাত হানা সম্ভব হবে, পাশাপাশি নজরদারি চালানোয় আরও সুবিধা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের উত্তরে নৌবাহিনীর ঘাঁটি তৈরির এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগরে যেভাবে আনাগোনা বেড়েছে পিপল’স লিবারেশন আর্মি। জলপথে অনুপ্রবেশের ঘটনাও বাড়ছে লাগাতার। সমুদ্রপথে ভারতে অনুপ্রবেশ ঘটছে বাংলাদেশ থেকে। এমন পরিস্থিতিতে হলদিয়া থেকে নজরদারি চালানো অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যে খবর পাওয়া গিয়েছে, সেই অনুযায়ী, ১০০ জন নৌবাহিনীর অফিসার ও কর্মী মোতায়েন থাকতে পারেন সেখানে।






















