Iran-Israel war : জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া ! বিশ্ব তোলপাড়, কোন দেশ আমেরিকা-ইজরায়েলের পাশে? কারা ইরানের সঙ্গে?
যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। বিপন্ন হচ্ছে প্রাণ। ইরানের পাশে ? নাকি ইজরায়েলের পাশে ? নাকি যুদ্ধের বিরুদ্ধে ? এ

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ঘিরে ফুটছে গোটা বিশ্ব। এর মধ্য়ে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত পূর্বাভাস দিয়েছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে। কিন্তু যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। বিপন্ন হচ্ছে প্রাণ। ইরানের পাশে ? নাকি ইজরায়েলের পাশে ? নাকি যুদ্ধের বিরুদ্ধে ? এ নিয়ে বিভিন্ন দেশগুলো আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেছে। স্রেফ আত্মরক্ষার জন্য় আমেরিকাকে তাদের সেনা ঘাঁটি ব্য়বহারের অনুমতি দিয়েছে ব্রিটেন। ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন ও রাশিয়া। এদিকে আবার আমেরিকা-ইজরায়েলকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে জার্মানি।
চলুক যুদ্ধ ! ঘোষণা ট্রাম্পের
একদিকে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। একদিকে ইরান। ৩ দিনের যুদ্ধ কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। আর এই যুদ্ধ যে এখানেই থামবে না, তা-ও পরিষ্কার হয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, 'শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম ৪-৫ সপ্তাহ লাগবে। তার থেকে বেশি সময় লাগলেও, আমরা তৈরি। আজই একজন বলছিল, প্রেসিডেন্ট খুব তাড়াতাড়ি কাজ সেরে ফেলতে চাইছেন। তারপর তিনি বিরক্ত হয়ে পড়বেন। কিন্তু, এখানে বিরক্ত হওয়ার কোনও ব্য়াপারই নেই। সংবাদমাধ্য়মের কেউ কেউ বলছিল, আমি এক-দু'সপ্তাহে বিরক্ত হয়ে পড়ব। আমি বিরক্ত হই না। তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম না। আমি গ্য়ারান্টি দিচ্ছি, আমাকে যা করতে হবে, আমি তাই করব। আমরা লক্ষ্য়স্থির করেছিলাম, এই মিলিটারি শাসককে সরাতে ৪ সপ্তাহ লাগবে। সেটা একঘণ্টায় হয়ে গেছে। আমরা অনেক এগিয়ে আছি।'
ইরানও পিছু হটছে না
অন্য়দিকে দুর্বল হলেও, ইরানও বুঝিয়ে দিয়েছে, তারাও না লড়ে কোনওমতেই নতিস্বীকার করবে না। উল্টে সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আঘাত হানতে না পেরে, খামেনেই হত্য়ার বদলা নিতে আমেরিকার মিত্র-দেশগুলোকে টার্গেট করে মিসাইল ছুড়তে শুরু করেছে ইরান। ১০ হাজার ২২৯ কিলোমিটার দূরে থাকা ওয়াশিংটন, তেহরানের নাগালের বাইরে। সদ্য় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে তুমুল অস্থির পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে গোটা বিশ্ব। সেই রেশ কাটার আগেই এবার আরও একটা যুদ্ধ। আর যুদ্ধ মানে তো শুধু দু-তিনটে দেশের ব্য়াপার নয়। তার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন শিবিরে আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেছে দেশগুলো।
কোন দেশ কার পাশে
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গত ২দিনে ইরান হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি অত্য়ন্ত ভয়াবহ। ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকেছে। তবে এই সংঘর্ষ ঠেকাতে গোড়াতেই মিসাইলগুলোকে শেষ করতে হবে। শুধু সেই কারণে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্য়বহারের অনুমতি চেয়েছে আমেরিকা। আমরা আমেরিকার অনুরোধ রাখব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
ফ্রান্স এবং জার্মানি ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে তৈরি। পাল্টা এই যুদ্ধের জন্য় আমেরিকার পদক্ষেপকে দায়ী করেছে রাশিয়া। ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে সওয়াল করে সেনা অভিযান থামানোর দাবি জানিয়েছে চিন।
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েলকে সমর্থন জানিয়েছে জার্মানি। জার্মান চ্যান্সেলর জানিয়েছেন, আমেরিকা-ইজরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর কথা আমরা আগেও বলেছি। ইরানের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদের শাসন থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ফের ঘোষণা করেছে জার্মানি।
এদিকে, ভারত জানিয়েছে সরকার সবসময়ই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। জাতীয় স্বার্থে প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত নেবে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে,'২৮ তারিখ থেকে ভারত উদ্বেগপ্রকাশ করেছিল। সেইসময় ভারত শক্তি প্রদর্শন, যুদ্ধ করতে বারণ করেছিল। নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা প্রথম থেকে বলেছিল ভারত। প্রথম থেকে এটা করলে আজ এই দিনটা আসত না। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে'। ভারত আরও বলেছে, 'আমাদের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলও এই ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে যায়। যেকোনও বড় ব্যাঘাত ভারতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনে। ভারত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপর আক্রমণেরও দৃঢ় বিরোধিতা করে। গত কয়েকদিনে এই ধরণের আক্রমণের ফলে ইতিমধ্যেই কিছু ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা যুদ্ধের দ্রুত অবসানের পক্ষে আমাদের আওয়াজ তুলেছি'
এখন দেখার এই যুদ্ধ কবে শেষ হয় !























