Ayatollah Ali Khamenei: ‘ন্যায়বিচার আদায় করে আনব’, আয়াতোল্লার মৃত্যুতে ঘোষণা ইরানের, জানাল, মাথা নোয়ানোর প্রশ্নই নেই
Iran Vows Revenge: শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের।

নয়াদিল্লি: আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু বৃথা যাবে না বলে এবার ঘোষণা করল ইরান। জানিয়ে দিল, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল একযোগে যে হামলা চালিয়েছে, সুদে-আসলে তার মাশুল তুলে তবেই ক্ষান্ত হবে তারা। আর তাতেই প্রমাদ গুনতে শুরু করল আন্তর্জাতিক মহল। কারণ শনিবার থেকে উপসাগরীয় দেশগুলিতে পর পর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। রবিবারও সেই ধারা বজায় থেকেছে। সেই আবহে তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েলও। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ অনিবার্য বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। (Iran Vows Revenge)
শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের। আর রবিবার গোটা বিশ্বকে বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকাল মাসুদকে লক্ষ্য় করেও হামলা চালানো হয়। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তাঁর সাফ বক্তব্য, “গতকাল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান এবং তা লক্ষ্য়ভেদ করেছে। আজ আরও এমন শক্তি প্রয়োগ করব, যা আগে কখনও দেখেনি ওরা।” (Ayatollah Ali Khamenei)
উপসাগরীয় দেশগুলিতে পর পর যে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়েছে ইরান, তাতে নতুন করে তপ্ত হয়ে উঠছে পশ্চিম এশিয়া। ইরানকে যুদ্ধ ছেড়ে আলোচনায় এগিয়ে আসতে আবেদন জানিয়েছে একাধিক দেশই। কিন্তু পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরানের মাটিতে যে অপরাধ ঘটিয়েছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল, তাতে পাল্টা আঘাত হানার সব অধিকার আছে তাদের। তাঁর বক্তব্য, “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি। ইসলামি দুনিয়া আজ বড় পরীক্ষার মুখে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতার হত্যা আসলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধঘোষণা, বিশেষ করে পৃথিবীর সব শিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে। যারা এই ঐতিহাসিক অপরাধ ঘটিয়েছে, তাদের কাছ থেকে ন্যায় আদায় করে আনা, প্রতিশোধ চরিতার্থ করাকে অবশ্যকর্তব্য এবং বৈধ অধিকার বলে মনে করে ইরান, যার জন্য সব শক্তি উজাড় করে দেওয়া হবে।”
The Supreme Leader, Ayatollah Seyyed Ali #Khamenei, lived a pious life, loved #Iran, secured Iran's independence, opposed foreign domination, and worked tirelessly for our country's resilience and fortitude.
— Foreign Ministry, Islamic Republic of Iran (@IRIMFA_EN) March 1, 2026
His last phase of life—an honorable and dignified death as a martyr on… pic.twitter.com/9HL2TC1yJx
ইরানের বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, 'সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা সৈয়দ আলি খামেনেই ধার্মিক জীবনযাপন করতেন। ইরানকে ভালবাসতেন তিনি, ইরানকে স্বাধীন করেছিলেন, বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেছিলেন, দেশের স্থিতিস্থাপকতার জব্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। জীবনের শেষ সময়ে...রমজানের দশম দিনে পৃথিবীর সবেচেয়ে দুর্নীতিপরায়ণ, অপরাধীদের হাতে শহিদ হয়েছেন তিনি, সম্মানজনক এবং মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে এর জন্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি, অনুপ্রেরণা জোগাবেন। হত্যাকারীদের জীবনে দুঃস্বপ্ন হয়ে বিরাজ করবেন তিনি'।
Statement of the Ministry of Foreign Affairs of the Islamic Republic of Iran
— Iran in India (@Iran_in_India) March 1, 2026
On the Occasion of the Martyrdom of the Leader of the Islamic Ummah and the Great Leader of the Islamic Republic of Iran,
His Eminence Ayatollah al-Uzma Khamenei (May His Pure Soul Be Sanctified)… pic.twitter.com/15rsDAmwXL
ভারতে ইরানের দূতাবাসের তরফেও আয়াতোল্লার হত্যার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের পদক্ষেপকে 'সন্ত্রাসবাদ' বলে উল্লেখ করেছে তারা। রাষ্ট্রপুঞ্জকে তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকেও স্বাধীন দেশের সার্বভৌমিকতা, জাতীয় অখণ্ডতার সমর্থনে এগিয়ে আসতে আবেদন জানিয়েছে। গতকাল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলেও হামলা চালায়, যাতে শতাধিক পড়ুয়া মারা গিয়েছে। ভারতে ইরানের দূতাবাসের মতে, অন্য দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নিরীহ নাগরিকদের এভাবে হত্যা করা গেলে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে, নৈরাজ্যের পরিস্থিতি তৈরি হবে, পেশিশক্তির আগ্রাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই প্রত্যেক দেশকে, বিশেষ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য যারা, রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য যারা, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সকলকে একজোট হতে আহ্বান জানিয়েছে ভারতে ইরানের দূতাবাস।
























