Iran Israel Conflict: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচে বন্ধ হরমুজ প্রণালী, "...কত ভারতীয় আটকে" ? বৈঠক কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রীর
Iran and US Israel conflict Shipping Minister Meet: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচে বন্ধ হরমুজ প্রণালী, জাহাজ মন্ত্রকের বৈঠক।

কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচে বন্ধ হরমুজ প্রণালী, জাহাজ মন্ত্রকের বৈঠক। হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের। পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি জাহাজমন্ত্রীকে জানান ডিরেক্টর জেনারেল অফ শিপিং। 'পারস্য উপসাগরে কত ভারতীয় জাহাজ রয়েছে, কত ভারতীয় আটকে', জাহাজ মন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান ডিরেক্টর জেনারেল অফ শিপিং।
আরও পড়ুন, ভোটের প্রস্তুতিতে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কমিশন
আরও বাড়ল ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের তীব্রতা! আর এর মধ্যেই, স্ট্রেট অফ হরমুজ বা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিল ইরান!গত ৪ দিনে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে! ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ড কর্পস বা IRGC-র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জব্বারি হুমকি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ। এই অঞ্চল দিয়ে জোর করে যেতে চাইলে আমাদের নেভি ও আর্মি জাহাজগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেবে।হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে আসবেন না।আর তারপরেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত খনিজ তৈল সরবরাহের অন্যতম ট্রানজিট রুট হরমুজ প্রণালি!
শুধুমাত্র বন্ধু চিন এবং রাশিয়াকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া খবর, হরমুজ প্রণালির দু'দিকে ৭০০-রও বেশি জাহাজ দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই তেল ভর্তি অবস্থায় রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতের মতো আমদানি নির্ভর দেশের পক্ষে হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়াটা কতটা আশঙ্কার? কেন এটি এতটা গুরুত্বপূর্ণ? একদিকে পারস্য উপসাগর এবং অন্যদিকে ওমান উপসাগর। যে সরু জলপথ এই দুটি উপসাগরকে যুক্ত করেছে তাকেই বলে Strait of Hormuz বা হরমুজ প্রণালি। এর পূর্ব দিকে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, কুয়েত এবং ইরানের মতো দেশ। এই দেশগুলিই হচ্ছে খনিজ তেলের এক একটা বিশাল ভাণ্ডার। এবং এই দেশগুলি থেকে যে অপরোশিধ তেল উত্তোলন করা হয়, তার সিংহভাগই রফতানি হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী, উপকূল থেকে সমুদ্রের দিকে ১২ নটিক্যাল মাইল এলাকার নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট দেশের হাতে থাকে। হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রে হরমুজ এবং লারাক, এই দুটি দ্বীপ ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন।ফলে স্বাভাবিকভাবেই গোটা হরমুজ প্রণালিই কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে।হরমুজ প্রণালির দু'দিকের অংশ লম্বার ৫০ কিলোমিটার হলেও, সবচেয়ে সরু অংশের দৈর্ঘ্য মাত্র ৪০ কিলোমিটার! তথ্য বলছে, বিশ্বের ৫ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ, ২০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। সৌদি আরব ৩৮ শতাংশ ,সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ১৫ শতাংশ, ইরান ১১ শতাংশ,কুয়েত ৯ শতাংশ, কাতারের ৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে!
বর্তমানে যুদ্ধের আবহে ইরান এই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায়, গোটা বিশ্বে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে, শীঘ্রই প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলেন,হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ জ্বালানি আসে। সেক্ষেত্রে রাশিয়া বা অন্য কোনও জায়গা থেকে তেল আনাতে হবে। সেক্ষেত্রে দাম বাড়বে। তেলের দাম বাড়লে সব জিনিসের দাম বাড়বে। টাকার দাম পড়বে। শেয়ারবাজার পড়বে। তেল আমদানির পাশাপাশি ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়েও চিন্তা রয়েছে ভারতের!চাবাহার বন্দরে ভারতের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। এই অবস্থায় সেখানে যদি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বাহিনী হামলা চালায়, তাহলে ক্ষতি হবে ভারতের!























