Mysterious Death: সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার তরুণীর দেহ, প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে মারাত্মক পরিণতি
Madhya Pradesh News: ইনস্টাগ্রামে শুরু হয়েছিল প্রেম। পরিণতি খুন। দেহ পাওয়া গিয়েছে সেপটিক ট্যাঙ্কে। অভিযোগের তির তরুণীর বিবাহিত প্রেমিকের দিকে।

Mysterious Death: তরুণীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে একটি পরিত্যক্ত এলাকার সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে। বছর ৩৩- এর এই তরুণীর মৃত্যু ঘিরে ক্রমশ ঘনাচ্ছিল রহস্য। ভোপালের নিশাতপুরা এলাকায় একটি ফাঁকা জায়গা সংলগ্ন সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। তরুণীর দেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর রহস্যমৃত্যুর কিনারা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তরুণীর প্রেমের সম্পর্কে দেখা গিয়েছিল এক অদ্ভুত মোড়। প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছিল বিশ্বাসঘাতকরা, ভয় দেখানোর মতো ব্যাপারে। ইনস্টাগ্রামে শুরু হয়েছিল প্রেম। পরিণতি খুন। দেহ পাওয়া গিয়েছে সেপটিক ট্যাঙ্কে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম আশরাফি। তিনি সিয়া নামেও পরিচিত। মহারাষ্ট্রের গোন্দা জেলার বাসিন্দা ছিলেন তরুণী। সমীর নামে এক বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সিয়ার, এমনটাই খবর পুলিশ সূত্রে। অভিযোগ, সিয়াকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে তাঁর এই প্রেমিকই। আর এই কাছে ওই যুবককে সাহায্য করেছে তার পরিবার। একটি লোহার বাক্সে ভরে সিয়ার দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল ওই সেপটিক ট্যাঙ্কে। ভোপালের নিশাতপুরা এলাকার কমলা নগরের কাছে বাস অভিযুক্ত যুবকের। সিয়াকে খুনের পর বাড়ির কাছেই একটি সেপটিক ট্যাঙ্কে তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরাধের সমস্ত প্রমাণ লোপাটের জন্যই এই কাজ করা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের।
বছর খানেক আগে ইনস্টাগ্রামে আলাপ হয়েছিল সিয়া এবং সমীরের। সাধারণ কথাবার্তা দিয়েই শুরু হয়েছিল সবটা। তবে অল্পদিনেই সম্পর্ক গড়ায় প্রেমের দিকে। প্রেমের টানেই মহারাষ্ট্র থেকে বাড়ি ছেড়ে মাস তিনেক আগে ভোপালে চলে আসেন সিয়া। ঠিক করেছিলেন সমীরের সঙ্গে থাকবেন। নতুন জীবন শুরু করবেন। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই মৃত্যু হল তরুণীর। পুলিশ সূত্রে খবর, সমীর শুধু বিবাহিতই নন, ২ সন্তানের বাবাও তিনি। পুলিশ এও জানিয়েছে সিয়ার থেকে অনেক কিছুই গোপন করেছিলেন সমীর। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, সিয়া কমলা নগর এলাকার বাড়িতে থাকা শুরু করার পরই পরিবারে বাড়তে থাকে অশান্তি। সিয়া এবং সমীরের স্ত্রী'র মধ্যে তীব্র ঝামেলা হয় বলে দাবি করেছেন প্রতিবেশীদের অনেকেই। প্রতিনিয়ত ওই বাড়িতে লেগে থাকত ঝগড়া, চিৎকার, চেঁচামেচি। ক্রমশই অশান্তি বাড়ছিল ওই বাড়িতে।
সমীরকে বিয়ে করার জন্য সম্ভবত চাপ দিচ্ছিলেন সিয়া, এমনটাই অনুমান পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকদের। বিয়ে না করলে সমীরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন সিয়া। এছাড়াও সিয়া ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে খবর পুলিশ সূত্রে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে যাচ্ছিল। অশান্তি সহ্য করতে না পেরে সমীরের স্ত্রী জব্বলপুরে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে যান। এরপরেও গত সোমবার ফের একবার তীব্র ঝগড়া হয় সিয়া এবং সমীরের। তুমুল বাক-বিতণ্ডার মাঝে সমীর শ্বাসরোধ করে সিয়াকে খুন করেন বলে অনুমান পুলিশের। প্রমাণ লোপাটের জন্য সমীর সাহায্য নেন নিজের মা, ভাই এবং বোনের থেকে। একটি লোহার বাক্সে সিয়ার দেহ ভরে তা রাতের দিকে বাড়ির কাছেই একটি ফাঁকা জায়গা সংলগ্ন সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেন সমীর।
ঘটনার কয়েকদিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় খেলা করছিল বাচ্চারা। দুর্গন্ধ আসে তাদের নাকে। সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকেই গন্ধ বেরোচ্ছে বোঝা যায়। এর মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা খেয়াল করেন একটি লোহার বাক্স ভাসছে। দ্রুত খবর দেওয়া হয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ ওই লোহার বাক্স উদ্ধার করে এবং তা খোলার পর ভিতর থেকে বেরোয় সিয়ার পচাগলা দেহ। আঁতকে ওঠেন এলাকাবাসী। খানিকটা চমকে যান পুলিশকর্মীরাও। দেহ পচেগলে যাওয়ায় প্রাথমিক ভাবে আঘাতের চিহ্নগুলি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তরুণীর হাতে আঁকা ট্যাটু এবং একটি তারিখ লেখা দেখে দেহ শনাক্তকরণ সম্ভব হয়। পুলিশ বুঝতে পারে তিন-চারদিন আগে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলা হয়েছিল দেহ।
এরপর তদন্তে নেমে আসল ঘটনা ফাঁস হয় পুলিশে সামনে। মূল অভিযুক্ত সমীর এখনও পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, সমীরের মা, ভাই এবং বোনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নজরে রয়েছেন সমীরের স্ত্রী'ও। পুলিশের অনুমান, সমীরের পরিবারের আরও অনেকেই এই অপরাধের ব্যাপারে জানতেন। অন্যদিকে, তদন্তে নেমে পুলিশ এও জানতে পেরেছে যে সিয়ার অতীতও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। এর আগে তিনবার বিয়ে হয়েছিল সিয়ার। মহারাষ্ট্রে এবং রাজস্থানে। আপাতত দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। হচ্ছে ফরেন্সিক পরীক্ষা নিরীক্ষাও। সব রিপোর্ট পাওয়া গেলে সিয়ার মৃত্যুর ব্যাপারে বাকি তথ্যও প্রকাশ্যে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।























