Milk Made with Detergent and Urea: ডিটারজেন্ট, ইউরিয়া মিশিয়ে নকল দুধের কারবার, পাঁচ বছরেই ফুলেফেঁপে ওঠে ব্যবসা, এতদিনে ধরা গেল
Adulterated Milk: গুজরাতের মেহসানা জেলার সবরকাঁথার হিম্মতনগর থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে।

নয়াদিল্লি: ডিটারজেন্ট পাওডার, ইউরিয়া সার, শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক মিশিয়ে নকল দুধ উৎপাদন। পাঁচ বছর ধরে ফুলেফেঁপে উঠেছিল নকল দুধের ব্যবসা। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নজরে এল খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের। কারখানায় হানা দিয়ে নকল দুধের ব্যবসার পর্দাফাঁস করা সম্ভব হল। (Adulterated Milk)
গুজরাতের মেহসানা জেলার সবরকাঁথার হিম্মতনগর থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। গত পাঁচ বছর ধরে কারখানায় উৎপন্ন ওই নকল দুধ, মাখন, ঘোল খেয়ে এসেছেন আশপাশের মানুষ। এমনকি মেহসানার বাইরেও ওই কারখানার পণ্য গিয়েছে বলে খবর। পুলিশ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় এতদিন কী করে নকল দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্য়বসা চলছিল, উঠছে প্রশ্ন। (Milk Made with Detergent and Urea)
গত শুক্রবার সবরকাঁথার স্থানীয় অপরাধ দমন শাখা ‘শ্রী সত্য ডেয়ারি প্রডাক্টস’ নামের ওই কারখানায় হানা দেয়। ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরাও উপস্থিত হন সেখানে। ওই কারখানায় ঢুকে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার উপক্রম হয় সকলের।
🚨 Gujarat | Major Action 🥛❌
— Medlarge (@medlarge) February 9, 2026
A major joint raid in Himatnagar, Gujarat, has exposed a dairy unit producing fake milk using urea and palm oil, officials said. The operation was carried out by the Gujarat Food Safety Department.
🔒 The dairy unit has been shut down immediately
🔍… pic.twitter.com/DQHK6Tu3Wr
ঘটনাস্থল থেকে যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, বড় অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে সাদা রংয়ের কিছু রাখা আছে। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে সারের বস্তা, ডিটারজেন্টের প্যাকেট এবং আরও নানাবিধ জিনিস, তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মূলত গ্রামের মানুষকেই নকল পণ্য সরবরাহ করা হতো বলে দাবি তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ন্যূনতম আসল দুুধ ব্যবহার করা হতো নকল দুধ তৈরি করতে। ৩০০ লিটার আসল দুধের সঙ্গে সার, রাসায়নিক মিশিয়ে ১৭০০-১৮০০ লিটার নকল দুধ উৎপাদন করা হতো প্রতিদিন। রাসায়নিকের দৌলতেই নকল দুধ ঘন করা হতো, তাতে ফেনা তৈরি করা হতো। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ৪৫০ কেজি প্রোটিন পাওডার, ৬৫০ কেজি স্কিমড মিল্ক পাওডার, ৩০০ কেজি প্রিমিয়াম SMP পাওডার, ইউরিয়া সার, কস্টিক সোডা, ডিটারজেন্ট পাওডার, সয়াবিন অয়েল, পাম অয়েল মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছিল। ১৯৬২ লিটার নকল দুধ এবং ১১৮০ লিটার নকল ঘোল বাজেয়াপ্তও করা হয়েছে। প্যাকেটবন্দি করে সেগুলি বাজারে পাঠানোর তোড়জোড় চলছিল।
FSSAI জানিয়েছে, ওই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এই মুহূর্তে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ১৩৭০ লিটার বিপজ্জনক দুধ নষ্ট করে দেওয়া হয় ঘটনাস্থলেই। ওই কারখানার অপারেটর জিতেন্দ্র পটেল, সচিন মাকওয়ানা, কর্ণ পারমার এবং অজয়সিং পারমার নামের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এক নাবালক কর্মীকে আটক করা হয়েছে পৃথক ভাবে। ওই কারখানার মালিক রাকেশ ওরফে ধামো পটেল সালালের বাসিন্দা। বর্তমানে হিম্মতনগরের বাসিন্দা। তিনি পলাতক। তাঁর খোজ চলছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং খাদ্য সুরক্ষা আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কারণ সম্প্রতি সর্বভারতীয় দুগ্ধ সংস্থার পণ্য নিয়েও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, Amul, Mother Dairy, Country Delight-এর মতো বড় সংস্থার দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গিয়েছে। স্বাধীন ভাবে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করাতে পাঠানো হয়েছিল ওই সব সংস্থার দুধের নমুনা। দেখা গিয়েছে, Amul Taaza, Amul Gold, Mother Dairy Cow Milk, Country Delight Cow Milk দুধে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, Amul Taaza এবং Amul Gold-য় কলিফর্মের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। Mother Dairy Cow Milk-এ টোটাল প্লেট কাউন্ট ৮-এর বেশি, যা নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি। Country Delight Cow Milk-এ TPC-র মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। Amul Tetra Pack শুধুমাত্র পরীক্ষায় উতরোতে সফল হয়।
যতই দুধ ফুটিয়ে খাওয়া হোক না কেন, ক্ষতিকর উপাদানগুলি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না বলে দাবি অভিযোগকারীর। তিনি জানান, বরং ওই সব দুধ থেকে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী মহিলাদের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে দাবি।
























