নয়াদিল্লি: সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে এবার সরাসরি হুঁশিয়ারি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের। রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা না করে, বুলডোজার নীতিতে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধান সংশোধন করতে চাইছে বলে অভিযোগ তুললেন তিনি। স্ট্যালিন জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণের রাজ্যগুলি তো বটেই, অন্য কোনও রাজ্যের স্বার্থ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বিরাট আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। এব্যাপারে অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিই একমত বলে জানিয়েছেন স্ট্যালিন। (Protest Against Delimitation)

১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদে বিশেষ অধিবেশন হতে চলেছে, যেখানে লোকসভার পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলটি পাস করাতে উদ্যোগী কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেব্যাপারে বিরোধী দলগুলির কাছে যেমন সাহায্য় প্রার্থনা করেছে কেন্দ্র, তেমনই ভোটাভুটিতে নিজেদের সব সাংসদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করেই ঘুরপথে লোকসভা এবং বিধানসভার আসন বাড়িয়ে নেওয়ার বিরোধিতা হচ্ছে। (MK Stalin)

আর সেই নিয়েই বার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুঁশিয়ারি দিলেন স্ট্যালিন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এই ভিডিও: তামিলনাড়ুর চৌকাঠে যে ভয়ঙ্কর বিপদ উপস্থিত হয়েছে, তা নিয়ে এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশে পরিষ্কার হুঁশিয়ারি। নির্বাচনের প্রচারের মাঝেও এই দায়িত্ব সরিয়ে রাখা গেল না। কাল বাদ পরশু ১৬ এপ্রিল সংসদে বিশেষ অধিবেশন রয়েছে। আরও ভাল করে বললে, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের মাঝে জোর করে এই অধিবেশন ডাকা হচ্ছে। এই অধিবেশনে কেন্দ্র বুলডোজারের সাহায্য়ে সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধন ঘটাত চায়।”

স্ট্যালিন জানান, তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণের অন্য রাজ্যগুলি এর আগে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং তার মাশুলও গুনতে হচ্ছে। কিন্তু সীমানা পুবর্বিন্য়াসের নামে দক্ষিণের রাজ্য এবং দেশের অন্য কোনও রাজ্যের স্বার্থ আঘাত হানা হলে তামিলনাড়ু চুপ করে থাকবে না। স্ট্যালিন বলেন, “গোড়া থেকে এর বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছি আমরা। মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। শুধু তামিলনাড়ু নয়, ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে দেশের এমন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক দলের নেতাদের একত্রিত করি আমরা, চেন্নাইতে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির বৈঠকও হয়। বিভিন্ন দলের সাংসদরা যাতে দেখা করে উদ্বেগের কথা জানাতে পারেন, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চাওয়া হয়। কিন্তু সেই অনুমতিও মেলেনি। তাড়াহুড়ো করে যেভাবে সীমানার পুনর্বিন্যাস ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে, তাতে গণতন্ত্রের গোড়ায় আঘাত হানছে বিজেপি সরকার। তার চেয়েও বেশি, রাজ্যের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। কী ভাবে এই সীমানা পুনর্বিন্যাস ঘটানো হবে, তা কারও জানা নেই।”

স্ট্যালিন জানিয়েছেন, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চুপ থাকার প্রশ্নই নেই। রাজ্যের অধিকার, স্বার্থের প্রশ্নে কোনও আপস করবেন না। তাঁর বক্তব্য, “আবারও পাঁচ এবং ছয়ের দশকের DMK-কে দেখতে পাবেন। এটাকে হুমকি ভাববেন না, হুঁশিয়ারি। যদি হুমকি বলে মনে হয়, আমাদের কিছু করার নেই। হ্যাঁ, তামিলনাড়ু থেকে হুঁশিয়ারি যাচ্ছে। আমরা আত্মসম্মান সম্পর্কে সচেতন। মূল্যবোধ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, রাজ্যের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। পেরারিগনার আন্না, মুথামিজারিঙ্গার কালাইগনারের আদর্শ বেঁচে আছে আমাদের মধ্যে। যদি ভাবেন তামিলনাড়ুর সঙ্গে অবিচার করে বেরিয়ে যাবে, ভুল করছেন। ”

বাবাসাহেব অম্বেডকরের জন্ম জয়ন্তী নিয়ে স্ট্যালিন বলেন, “সংবিধানের জনক, বাবাসাহেব অম্বেডকরের জন্ম জয়ন্তীতে বলছি, তামিলনাড়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে গোটা দেশকে চোখ তুলে তাকাতে বাধ্য করব আমরা। শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী মোদি, আবারও বলছি, তামিলনাড়ু থেকে ফাইনাল ওয়ার্নিং। তামিলনাড়ু লড়বে, তামিলনাড়ু জিতবে।”

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে লোকসভা পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলটি পেশ করতে চলেছে কেন্দ্র। সেই নিয়ে মঙ্গলবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় মহিলাদের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘২০২৯ সালের লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচন থেকে মহিলাদের সংরক্ষণ সুনিশ্চিতকরণের জন্য মা-বোন-মেয়েরা এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন’। যদিও বিলটিকে তাড়াহুড়োয় বিলটি পাস করানোর চেষ্টা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। প্রশ্ন উঠছে, নতুন জনগণনার ফলাফলের অপেক্ষা না করে, নিজেদের মর্জি মতো লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে, লোকসভা এবং বিধানসভার ৫০ শতাংশ আসন বাড়ানো হচ্ছে কেন? মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে কেন আসন পুনর্বিন্যাস ঘটানো হচ্ছে?  কংগ্রেস গোড়াতেই আপত্তি জানায়। তৃণমূলও জানিয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ, দু’টিকে আলাদা ভাবে দেখা হোক। দলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের প্রশ্ন, ‘বিলটির বিরোধিতা করলে নারী বিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া সহজ হবে বলেই কি দু’টিকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে’? বুধবার সেই নিয়ে দিল্লিতে কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে যোগ দেবে বিরোধী দলগুলি। বৈঠকে থাকবে তৃণমূল, DMK-ও।