US-Pakistan Relation : 'পাকিস্তানকে টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপভাবে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলেছে আমেরিকা', সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন পাক-মন্ত্রীই !
Pakistan News: আমেরিকা-পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে সে দেশের সংসদ দাঁড়িয়েই এবার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ।

ইসলামাবাদ : 'অপারেশন সিঁদুরের' পর আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে তৎপর হতে দেখা গেছে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে। যদিও আমেরিকা-পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে সে দেশের সংসদ দাঁড়িয়েই এবার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ। কৌশলগত স্বার্থে আমেরিকা ইসলামাবাদকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এবং তারপর "টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপ" বলে তা প্রত্যাখ্যান করার মতো তুলনাও টেনে আনেন।
সংসদে বক্তব্য রাখার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, '১৯৯৯ সালের পর পাকিস্তানের আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে, দেশের স্থায়ী ক্ষতি করেছে। মার্কিন সমর্থনকে গুরুতর ভুল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার পরিণতি পাকিস্তানকে কয়েক দশক পরেও ভোগ করতে হচ্ছে।" আসিফ বলেন, ১৯৯৯ সালের পর, বিশেষ করে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ সালের হামলার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনর্মিলনের মূল্য ভয়াবহ ছিল। তিনি প্রয়াত সামরিক শাসক জিয়া-উল-হক এবং পারভেজ মোশারফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তাঁরা পাকিস্তানকে বহির্বিশ্বের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছিলেন, যার ফলে মিত্ররা দেশের কাছ থেকে সরে যাওয়ার অনেক পরেও তার প্রভাব রয়ে যায়। এরপরই রুক্ষ ভাষা ব্যবহার করে আসিফ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে "টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপ" আচরণ করা হয়েছে এবং একটা উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, তারপর ফেলে দেওয়া হয়েছে।
২০০১-পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধকে সমর্থন করার জন্য পাকিস্তান তালিবানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, ওয়াশিংটন অবশেষে প্রত্যাহার করে নেয়, তখন পাকিস্তান হিংসা, মৌলবাদ এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে আটকে যায়। আসিফের কথায়, "আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।"
সম্প্রতি আসিফ Geo TV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চারদিন ব্যাপী যে 'সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ' হয় তাঁদের, তার পর থেকেই তাঁদের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা একলাফে বেড়ে গিয়েছে। তাঁদের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম যে হারে বিকোচ্ছে, তাতে খুব শীঘ্রই আর আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
আসিফ বলেন, "আমাদের যুদ্ধবিমান পরীক্ষায় উতরে গিয়েছে। এত অর্ডার পাচ্ছি যে, ছ'মাস পর আর আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের ঋণের প্রয়োজন পড়বে না।"























