নয়াদিল্লি: তথ্য জানার অধিকার আইনের (RTI) এক্তিয়ার নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিগ্রি নিয়ে আইনি টানাপোড়েনের দরুণ নিজের অবস্থান জানাল তারা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তৃতীয় পক্ষের কৌতূহল মেটানোর জন্য RTI-এর প্রবর্তন হয়নি। মোডির ডিগ্রি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন সেই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পক্ষে নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই RTI-এর এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। (Narendra Modi Degree Row)
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সচিন দত্তের এজলাসে মামলার শুনানি চলছিল। সেখানে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। অপরিচিত কারও কাছে তা প্রকাশ করা যায় না। আইনত এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। (Delhi University)
আদালতে সলিসিটর জেনারেল বলেন, "অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া রয়েছে, যা RTI-এর উদ্দেশ্যই। কিন্তু কারও কৌতূহল মেটানোর জন্য RTI-এর প্রবর্তন হয়নি।" সলিসিটর জেনারেল জানান, RTI-এর অপব্যবহার করা যায় না। এর সঙ্গে সরকারের কাজকর্মে স্বচ্ছতা এবং সরকারের জবাবদিহির দায়বদ্ধতা একেবারেই সংযুক্ত নয়। তাই তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়ে RTI-এর অপব্যবহার করা যাবে না।
মোদির ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন সমাজকর্মী নীরজ। সেই অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন ১৯৭৮ সালের স্নাতক পরীক্ষায় পাশ করা সমস্ত পড়ুয়ার রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখার অনুমতি দিয়েছিল। ১৯৭৮ সালে মোদিও স্নাতক পাশ করেন বলে দেখানো হয়েছে সরকারি নথিতে।
কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন জানিয়েছিল, ১৯৭৮ সালে যাঁরা স্নাতক পরীক্ষায় বসেছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা করে দেখা যাবে। তৃতীয় পক্ষকে তথ্য দেওয়া যাবে না বলে যে যুক্তি দিয়েছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, তা-ও খারিজ করে দেয় তথ্য কমিশন। এই যুক্তি আইনত গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়। ১৯৭৮ সালে পাশ করা পড়ুয়াদের নিয়ে রেজিস্টারে যত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, তা পরীক্ষা করে দেখা যাবে বলে জানিয়েছিল। পড়ুয়ার নাম, রোল নম্বর, বাবার নাম এবং কত নম্বর পেয়েছিলেন, তা জানা যাবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সংক্রান্ত একটি প্রতিলিপিও বিনামূল্যে দিতে বলেছিল তথ্য কমিশন। তাদের সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। জানুয়ারির শেষে ফের এ নিয়ে শুনানি রয়েছে।
২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি তথ্য কমিশনের ওই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য, "আইন অনুমোদন দিলে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের ডিগ্রি, মার্কশিট এবং পরীক্ষাপত্র চাইতে পারে। কিন্তু অনুচ্ছেদ ৮ (১) (ই) অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশ না করার আইনও রয়েছে, যা তৃতীয় পক্ষের ক্ষেত্রে কার্যকর। ১৯৭৮ সালে পাশ করা সকলের তথ্য চেয়েছেন উনি (নীরজ)। এর পর কেউ ১৯৭৯, ১৯৬৪ সালর তথ্যও চাইতে পারেন।"
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগেও তথ্য প্রকাশে আপত্তি জানিয়েছেন আদালতে। তাঁদের যুক্তি, তথ্য কমিশনের এই নির্দেশ দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিপদ দীর্ঘমেয়াদি, প্রতিকূল পরিস্থিতির উদ্রেক করতে পারে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কোটি কোটি পড়ুয়ার ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে রেখেছে। তথ্য কমিশনের নির্দেশকে তাঁরা 'স্বৈরাচারী', 'বেআইনি' এবং 'আইনত অসমর্থনযোগ্য' বলেও উল্লেখ করেন।