US-Iran War: জাহাজ হামলায় বেঁচে যাওয়া কাউকে ইরানে ফেরানো যাবে না! শ্রীলঙ্কার উপর চাপ সৃষ্টি করছে আমেরিকা? নিহতদের কী হবে?
IRIS Dena Survivors: আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের ভীষণ যুদ্ধ ঘিরে এই মুহূর্তে তপ্ত পশ্চিম এশিয়া।

নয়াদিল্লি: ভারত মহাসাগরে ইরানের যাত্রীভর্তি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে আগেই। সেই নিয়ে এবার শ্রীলঙ্কার উপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে শুরু করল আমেরিকা। ইরানের জীবিত সৈনিকদের কাউকে প্রত্যর্পণ করা যাবে না বলে কলম্বোকে বার্তা দিয়েছে তারা এমনকি আর একটি জাহাজ থেকে যে ২০৮ জন ইরানি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদেরও ফেরানো যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। (IRIS Dena Survivors)
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের ভীষণ যুদ্ধ ঘিরে এই মুহূর্তে তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। সেই আবহেই গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার কাছে, ভারত মহাসাগরে ইরানের নৌবাহিনীর IRIS Dena জাহাজটিতে হামলা চালায় আমেরিকা। সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয় জাহাজটিকে। কোনও রকমে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও, কমপক্ষে ৮৭ জন মারা গিয়েছেন। ভারতে মহড়া সেরে ফেরার সময়ই হামলা হয় জাহাজটিতে। (US Iran War)
সেই নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই আমেরিকার তরফে শ্রীলঙ্কার উপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে বলে খবর। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। বলা হয়েছে IRIS Dena থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে যাঁদের, তাঁদের ইরানে প্রত্যর্পণ করা যাবে না। পাশাপাশি, ইরানের আর একটি জাহাজ, IRIS Booshehr থেকে যে ২০৮ জনকে উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কা, তাঁদেরও দেশে ফেরানো যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অচলাবস্থা কাটিয়ে সবে ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা। নতুন কের দেশের অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। সেই আবহেই আমেরিকার তরফে এমন চাপ আসায় কলম্বো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বলে খবর। শুক্রবার পার্লামেন্ট বক্তৃতায় শ্রীলঙ্কার জন নিরাপত্তা বিভাগের উপমন্ত্রী সুনীল ওয়াটাগলা জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে দেশকে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। ইরানের নিহত সৈনিকদের দেহ আপাতত কারাপিতিয়া হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সুনীল বলেন, “হঠাৎ করে যে দায়িত্ব চেপে গিয়েছে, তার দায় কে নেবে? একদিনে মৃতদেহে ভরে গিয়েছে হাসপাতাল।”
শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত ‘Heart of the Seas: The Future of the Indian Ocean’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, IRIS Dena থেকে যাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করেই চলবে শ্রীলঙ্কা। অন্য দেশ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন মেনেই যাবতীয় পদক্ষেপ করেছি আমরা। আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্য়বাধকতা অনুযায়ীই IRIS Dena থেকে উদ্ধার করে আনা ৩২ জনের দেখভাল করা হচ্ছে।”
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমার দিসনায়েক জানিয়েছেন, হেগ সম্মেলনের নীতি অনুযায়ীই চলবেন তাঁরা, যাতে বলা রয়েছে, যুদ্ধের সময় যুদ্ধরত দেশের যোদ্ধাদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আটকে রেখে দিতে পারে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে কোনও দেশ। ফলে শ্রীলঙ্কার উপর চাপ যে রয়েছে, তা স্পষ্ট। তবে কলম্বো সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রসের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। আহতরা দেশে ফিরে যেতে চাইলে আন্তর্জাতিক মানবিকতা আইন প্রযোজ্য হবে সেক্ষেত্রে। তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
ইরানের তরফে ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। নিহতদের দেহ ফের পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী অরুণ জয়শেখর শনিবার জানান, IRIS Dena থেকে উদ্ধার হওয়া দেহগুলি রেফ্রিজারেশনে রাখা হয়েছে। সেগুলিতে ইরানে ফেরত পাঠানো হবে। মোট ৮৪ জনের দেহ উদ্ধার করতে পেরেছে তারা। দেহগুলির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে আগেই। দেহগুলি জলপথে না আকাশপথে ইরানে পাঠানো হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি।
অন্য দিকে, শ্রীলঙ্কার ব্যবসায়ীদের তরফে ২ কোটি ২০ লক্ষ (শ্রীলঙ্কার মুদ্রায়) তুলে একটি চলমান কোল্ড স্টোরেজ দান করা হয়েছে, যাতে দেহগুলি সংরক্ষণ করা যায় ভাল ভাবে। হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক দেহ রাখতে সমস্যা হওয়াতেই ব্যবসায়ীরা ওই সিদ্ধান্ত নেন।
সেরা শিরোনাম
























