Israel Iran War: হরমুজ প্রণালী বন্ধে অর্থনীতিতে আঘাত, "যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে.." ! কোন পথে ভারত ?
US Israel strikes on Iran Crude Oil Updates: পশ্চিম এশিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান, ভারতে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা

পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা: বিশ্বে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। যার জেরে প্রায় ৩০০ ট্যাঙ্কার থমকে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। যার প্রভাব পড়বে ভারতেও।
আরও পড়ুন, "সেনা পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়..", কার্যত যুদ্ধের বিরুদ্ধে বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির
পশ্চিম এশিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! ইরানের উপর মিসাইল, ড্রোন হামলা আরও তীব্র করেছে আমেরিকা! সঙ্গত দিয়ে চলেছে ইজরায়েলও। হামলার পাল্টা লাগাতার প্রত্যাঘাত করে চলেছে ইরানও!একদিকে ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা... আরেকদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে অর্থনীতিতে আঘাত!বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট এই 'হরমুজ প্রণালী'। তথ্য বলছে, বিশ্বের ৫ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ, ২০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। আর এই হরমুজ প্রণালীর সিংহভাগই রয়েছে ইরানের নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তারা হুমকি দিয়ে রেখেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও দেশের জাহাজ গেলেই হামলা চালাবে তারা।
শুধুমাত্র বন্ধু দেশ রাশিয়া ও চিনকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রেখেছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর দু'দিকে প্রায় ১ হাজার ট্যাঙ্কার দাঁড়িয়ে! যার মূল্য প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ইরাক, আরব আমিরশাহির মতো তেল সরবরাহকারী দেশগুলো বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশ্বে বাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়বে! বাড়বে দাম। যার প্রভাব সরাসরি এসে পড়বে ভারতেও। কারণ, ভারত তার প্রয়োজনের ৮৮ শতাংশ তেলই আমদানি করে। যার মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে। যুদ্ধ শুরুর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার।
দোসরা মার্চ সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭১ ডলারের কাছাকাছি। আর বৃহস্পতিবার সেটাই বেড়ে হয়েছে ৮৩.৪০ ডলার প্রতি ব্যারেল। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ সেক্ষেত্রেও ভারতেও দাম বাড়তে পারে তেলের! হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কাতার পৌঁছতে পারেনি দেশের বৃহত্তম LNG আমদানিকারক সংস্থা পেট্রোনেটের একাধিক জাহাজ। যার জেরে তারা ফোর্স ম্যাজর (Z উচ্চারণ) ঘোষণা করে দিয়েছে অর্থাৎ পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ সম্ভব নয়!ফলে ভারতে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারত বছরে প্রায় ৫৩ মিলিয়ন টন গ্যাস আমদানি করে,যার মধ্যে প্রায় ১৬ মিলিয়ন টন আসে কাতার থেকে। পেট্রোনেটের থেকে LNG কেনে গেল (GAIL), ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থা। ফলে ভারতের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে দাবি, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে।LPG, LNG বা অপরিশোধিত তেলের কোনও ঘাটতি নেই।ভারত বিকল্প উৎসও খুঁজছে।অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা, ভারতে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও আমেরিকার সঙ্গে নতুন চুক্তিও করেছে ভারত।পাশাপাশি, জাহাজের বিমা সংক্রান্ত বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলে খবর সূত্রের।ভারতের জলসীমার কাছেই রয়েছে রাশিয়ার প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল। দিল্লি চাইলে সেই সব তেলবাহী ট্যাঙ্কার ভারতে পাঠাতে রাজি রাশিয়া। তেলের দাম বাড়লে নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ার বাজারে!বৃহস্পতিবার দিনের শেষে নিফটি ও সেনসেক্স কিছুটা উঠলেও, সারাদিনই অস্থির ছিল সূচকের গতি। ডলারের তুলনায় টাকাও এখনও অত্য়ন্ত দুর্বল!যুদ্ধ এভাবেই চলতে থাকলে ভারতেও তার গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলেই বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা!























