কলকাতা: ১৪৩২ কে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ১৪৩৩-এ পা দিল বাংলা ক্যালেন্ডার। বাঙালির বারো মাসে তের পার্বণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব হল নববর্ষ। আপামর বাঙালি এই উৎসবে মেতে থাকেন। সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, অসহায়তাকে দূরে সরিয়ে নতুনভাবে পথ চলায় অঙ্গীকারবদ্ধ হন আপামর বাঙালি। এই আনন্দের দিনে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিডিও বার্তাতে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি SIR নিয়ে বিজেপিকে আক্রম শানিয়েছেন তিনি। 

নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তায় বিজেপিকে SIR নিয়ে বিঁধলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, '' রাজ্যের সকল প্রান্তের মানুষকে হৃদয়ের অন্তর থেকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভনন্দন। এই নবীন ঊষালগ্নে আপনাদের প্রত্যেকের জীবন হয়ে উঠুক গ্লানিমুক্ত। নতুনের এই আবাহনে প্রতিটি প্রাণ পবিত্রতায় ভরে উঠুক।'' ''আমাদের বাংলা যেমন শিল্প-সংস্কৃতির পীঠস্থান, তেমনই সর্বধর্ম সমন্বয়ের পীঠস্থান। কিছু অশুভ শক্তি এই বাংলাকে কলুষিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে দিল্লির জমিদাররা। মনে রাখবেন, এদের গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দিতে হবে।''

তিনি আরও জানান, '' আজকের এই শুভ দিনে আসুন আমরা সমবেতভাবে শপথ নিই; সবরকম সংকীর্ণতার দেওয়াল ভেঙে আমরা বেরিয়ে আসব। কোনও বিভেদকামী-স্বৈরাচারী শক্তি যেন আমাদের চিরকালীন শান্তি, ঐতিহ্যগত সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের বন্ধন ছিন্ন করতে না পারে।'' 

নববর্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছেন, তখন বিজেপির সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানান, '' মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ইতিহাসটা ভুলে গেছেন। বাংলা ভাগ হয়েছে ১৯৪৭ সালে। সম্প্রীতি থাকলে কোনও দিন ভাগ হত না। সুতরাং এই সম্প্রীতির গালগপ্পো শোনাতে আসবেন না।'' অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নববর্ষ নিয়ে বাংলায় শুভেচ্ছা জানান। তিনি লেখেন, ''বিশেষ দিনে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। প্রার্থনা করি আগামী বছরে আপনার সব কামনা পূরণ হোক। আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা সদা বিরাজমান থাকুক। আপনার সুস্বাস্থ্য ও অনন্ত সুখ কামনা করি। ভারতের সভ্যতার চেতনাকে গড়ে তোলা পশ্চিমবঙ্গের কালজয়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উৎযাপনেরও এটি একটি উপলক্ষ।''