রাঁচি: মাঝরাতে উঠে চোখে কাজল  পরেন স্ত্রী। ঠোঁটে লিপস্টিকও লাগান। সেই নিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন একব্যক্তি। বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। মাঝরাতে উঠে লিপস্টিক বা কাজল পরা মোটেই মানসিক অসুস্থতার পরিচয় নয় বলে জানিয়ে দিলেন বিচারপতিরা। (Divorce Petition Rejected)

Continues below advertisement

ঝাড়খণ্ডের গিরিডি ফ্যামিলি কোর্টের একটি মামলা হাইকোর্টে পৌঁছেছিল। স্ত্রীকে মানসিক ভাবে অসুস্থ বলে দাবি করে বিচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি ছিল, রাত ২টোর সময় স্ত্রীকে চোখে কাজল পরেন স্ত্রী। ঠোঁটে লিপস্টিকও লাগাতে দেখেছেন স্ত্রীকে। তিনি নিশ্চিত যে স্ত্রী মানসিক ভাবে অসুস্থ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টি চেপে গিয়েছিলেন। (Viral News)

আরও পড়ুন: ফের দাম বাড়ছে একাধিক জিনিসের, অগাস্ট মাস থেকেই, উৎসবের আগে জোর ধাক্কা

Continues below advertisement

কিন্তু ওই ব্যক্তির যুক্তি গৃহীত হয়নি হাইকোর্টে। গিরিডি ফ্যামিলি কোর্টের রায়ই বহাল রাখে আদালত। বিচারপতি নারায়ণ প্রসাদ এবং বিচারপতি সঞ্জয় প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, নববিবাহিত বধূ স্বামীর নজর কাড়তে এমন আচরণ করতেই পারেন। তাঁর এমন আচরণ মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ নয় মোটেই। 

স্ত্রী মানসিক ভাবে অসুস্থ, একাধিক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু নিজের দাবির সপক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ বা নথি পেশ করতে পারেননি বলে জানায় আদালত। তাই শুধুমাত্র সন্দেহের বশে কাউকে মানসিক অসুস্থ বলে দাগিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। 

আরও পড়ুন: প্রয়াত অভিনেতা সুনীল আনন্দ, কিংবদন্তি দেব আনন্দের ছেলে, বিদেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন

শুধু তাই নয়, আদালত জানায়, দেখেশুনে বিয়ে হয় দু’জনের। দুই পরিবারের উপস্থিতিতে দেখা হয় তাঁদের এবং তার পর বিয়ে। আচরণ অস্বাভাবিক মনে হলে তখনই কেন প্রশ্ন তুললেন না ওই ব্যক্তি, এই প্রশ্নও তোলে আদালত। 

শুনানি চলাকালীন দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে প্রায় আড়াই বছর একসঙ্গে ছিলেন ওই দু’জন। ২০১০ সালের ১০ জুলাই স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে নামিয়ে দেন ওই ব্যক্তি এবং তার পর দিনই বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান। দাম্পত্যে ভাঙন ধরার জন্য ওই ব্যক্তিকেই দায়ী করেছে আদালত।

অন্য দিকে, আদালতে ওই মহিলা জানান, পণের দাবিদাওয়া মেটাতে পারেননি তাঁর পরিবারের লোকজন। সেই থেকেই তাঁকে মানসিক ভাবে অসুস্থ বলে দাগিয়ে দেওয়া শুরু হয়। স্বামীর অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। কিন্তু আরও ২ লক্ষ টাকা চাওয়া হলে দিতে পারেননি। এর পরই তাঁর উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে পরিত্যাগ করেন স্বামী। 

দুই পক্ষের কথা শুনে আদালত জানায়, স্ত্রী সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছেন প্রথম থেকেই। স্বামীই তাঁকে গ্রহণ করতে চাননি। মানসিক ভাবে কাউকে অসুস্থ বলার ক্ষেত্রে, তার সপক্ষে নথিপত্র পেশ করা জরুরি। কিন্তু তেমন কিছুই আদালতে পেশ করতে পারেননি স্বামী। শুধুমাত্র রাতে কাজল, লিপস্টিক লাগালেই কাউকে মানসিক ভাবে অসুস্থ বলা যায় না।