Uttar Pradesh News: দু’টাকা দরে মাটির ভাঁড় বেচে চলে সংসার, ১.২৫ কোটি টাকার GST নোটিস পেলেন প্রৌঢ়
Clay Potter gets GST Notice: মহম্মদ জানিয়েছেন, GST নোটিসে তাঁকে চার-চারটি সংস্থার মালিক বলে দেখানো হয়েছে।

নয়াদিল্লি: মাটির সামগ্রী তৈরি করে চলে সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। সেই ব্যক্তিকেই কি না ১.২৫ কোটি টাকার GST নোটিস ধরাল সরকার? উত্তরপ্রদেশ থেকে এমনই ঘটনা সামনে এসেছে। যে পরিমাণ টাকা মেটাতে বলা হয়েছে তাঁকে, তা গুনতে গিয়েও রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ওই ব্যক্তি। তিনি জালিয়াতির শিকার হয়েছেন কি না, প্রশ্ন উঠছে। (Clay Potter gets GST Notice)
উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলীর হরচন্দ্রপুরের বাসিন্দা মহম্মদ সইদ। মাটির ভাঁড় এবং অন্যান্য সামগ্রী তৈরি করে চালান অতি কষ্টে। পাঁচজনের সংসারে রোজগেরে বলতে তিনিই প্রধান রোজগেরে। হাতে ধরে তৈরি ভাঁড় পিছু হাতে পান দু’টাকা। সেই মহম্মদই সরকারের কাছ থেকে ১.২৫ কোটি টাকার GST নোটিস পেয়েছেন। অবিলম্বে বকেয়া GST মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে। (Uttar Pradesh News)
মহম্মদ জানিয়েছেন, GST নোটিসে তাঁকে চার-চারটি সংস্থার মালিক বলে দেখানো হয়েছে। পটনা থেকে তিনি ব্যবসা চালান বলে দাবি করা হয়েছে নোটিসে। অথচ তাঁর তেমন কোনও ব্যবসা-ই নেই। হাতের কাজ করে সামান্য টাকা আয় করেন। ১.২৫ কোটি টাকা কী করে মেটাবেন, ভেবে কূল পাচ্ছেন না মহম্মদ।
#रायबरेली| निरक्षर मुहम्मद शाहिद कुम्हार है. मिट्टी के बर्तन बनाकर रोजी-रोटी कमाते है. सेन्ट्रल GST ने उन्हें 1.25 करोड़ रूपये की GST चोरी का नोटिस भेजा है. पढ़े-लिखों से नोटिस पढ़वाया तो उनके पैरों तले जमीन खिसक गयी. pic.twitter.com/VbCEAny20Z
— Narendra Pratap (@hindipatrakar) February 20, 2026
মহম্মদের জালিয়াতির শিকার হয়েছেন, তাঁর PAN ও Aadhaar ব্যবহার করে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মহম্মদ জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে গ্রামেরই এক বাসিন্দা তাঁকে PAN ও Aadhaar কার্ড তৈরি করতে সাহায্য় করেন। ঋণের প্রয়োজন ছিল, তাই PAN ও Aadhaar তৈরি করান।
কিন্তু টাকার প্রয়োজন থাকলেও ব্যাঙ্ক থেকে শেষ পর্যন্ত ঋণ পাননি মহম্মদ। পরবর্তীতে PAN-Aadhaar হারিয়েও ফেলেন তিনি। এর পর বার বার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা চালান, ব্যবসা শুরুর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। এখন সটান GST নোটিস পেয়েছেন। মহম্মদের ধারণা, তাঁর হারানো PAN ও Aadhaar-এর অপব্যবহার হয়েছে, ভুয়ো সংস্থা খুলে তাঁকে ফাঁসিয়েছে কেউ।
সংবাদমাধ্যমে মহম্মদ বলেন, “আমার নামে পটনায় চারটি সংস্থা আছে বলে এই প্রথম শুনলাম। বড় জালিয়াতির শিকার আমরা।” জানা গিয়েছে, ছ’-সাত মাস আগেই ওই GSt নোটিস হাতে পান মহম্মদ ও তাঁর পরিবার। কিন্তু পরিবারের কেউ লেখাপড়া জানেন না। তাই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সম্প্রতি, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ফের নোটিস আসে। এর পর শিক্ষিত লোকজনের দ্বারস্থ হন তাঁরা। আর তাতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়।
মহম্মদ বলেন, “গোটা পরিবার স্তম্ভিত। যদি মনে হয় আমরা জালিয়াতি করেছি, চোরের মতো শাস্তি দিন। কিন্তু যদি মন হয় নয়, এটা ফিরিয়ে নিন।” মহম্মদের ছেলে ১০ বছর বয়সি ফরিদ এবং ১৮ বছর বয়সি মানা ভাঁড় তৈরিতে বাবাকে সাহায্য় করেন। মেয়ে সংসারের কাজে সাহায্য করে মাকে।
ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন মহম্মদ। জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে যদিও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
























