Bengal Cricket: দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সৌরাশিসের সঙ্গেই যোগাযোগ! প্রাক্তন ট্রেনারকে নিয়ে অস্বস্তিতে CAB
CAB News: বাংলার হয়ে একশো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পথে হাঁটতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেলেন সিএবি-র এক সময়ের ট্রেনার অঙ্কুর চট্টোপাধ্যায়।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: সৌরাশিস লাহিড়ী (Saurasish Lahiri) তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে মৌখিকভাবে অভিযোগ করছেন। এমনকী, সিএবি-তে লিখিতভাবে সৌরাশিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কথাও ভেবেছেন। অথচ তলায় তলায় তিনি কি না সৌরাশিসের সঙ্গেই যোগাযোগ করছেন! ক্ষমা চেয়েছেন!
বাংলার হয়ে একশো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পথে হাঁটতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেলেন সিএবি-র এক সময়ের ট্রেনার অঙ্কুর চট্টোপাধ্যায়। প্রশ্ন উঠে গেল, তিনি সিএবি-কে আত্মঘাতী গোল খাওয়াচ্ছেন না তো?
সৌরাশিসকে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচের পদ থেকে ছেঁটে ফেলেছে সিএবি। তাঁর পরিবর্তে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ করা হয়েছে মনোজ তিওয়ারিকে। তারপরই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন সৌরাশিস। জানিয়েছেন, দুর্নীতির প্রতিবাদ করার মাসুল দিতে হল তাঁকে। দলে ক্রিকেটার ঢোকানোর জন্য প্রভাবশালীদের চাপ থেকে শুরু করে জুনিয়র নির্বাচকদের সিন্ডিকেট, নানা বিষয়ে সোজাসাপ্টা কথাবার্তা বলেছেন বাংলার প্রাক্তন অফস্পিনার।
এরপরই শুক্রবার আচমকা সিএবি-তে হাজির হন অঙ্কুর। যেভাবে সৌরাশিসের অভিযোগের পাল্টা বিবৃতি দিতে এসেছিলেন জুনিয়র নির্বাচকেরা। সৌরাশিসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন নির্বাচকেরা। যদিও পাল্টা প্রশ্নে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে পড়েন। নির্বাচকেরা জানতেনই না যে, কোচ নিয়োগে তাঁদের মতামত দিতে হয়। যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সংশোধিত সিএবি-র গঠনতন্ত্রের অন্যতম শর্ত। মাঠে না যাওয়া থেকে শুরু করে ত্রৈমাসিক রিপোর্ট জমা না দেওয়া, একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নে রীতিমতো বিধ্বস্ত হতে হয় সুমিত্র মজুমদারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটিকে।
ট্রেনার অঙ্কুর চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের দায়িত্বে থাকাকালীন সৌরাশিস নাকি তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তিনি বললেন, '২০২৫ সালে পুঁদুচেরিতে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী দুর্ব্যবহার শুরু করেন। তারপর আমদাবাদে রিলায়েন্স জি ওয়ান টুর্নামেন্টেও আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। আপত্তিকর ভাষায় প্রকাশ্যে বকাঝকা করেন। আমি আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছিলাম। আত্মসম্মানে ধাক্কা লাগছিল। লক্ষ্মীরতন শুক্লর ছেলে অগ্যস্ত শুক্লকে আমি বাড়তি সময় দিচ্ছি বলেও বকাঝকা করেছিলেন। বাইরে সফরে গেলে আমার রুম পার্টনার হিসাবে এমন একজনকে দিতেন, সৌরাশিস ঘনিষ্ঠ সেই ব্যক্তি নানাভাবে বিব্রত করতেন আমাকে। রাত পর্যন্ত টিভি দেখতেন। এরপর এখানে একদিন প্র্যাক্টিসের সময় আমাকে সৌরাশিস বলেন, ছেলেদের ৩০ মিনিট জগিং করাতে। আমি সেটাই করাই। পরে রণদীপ মৈত্র (প্রাক্তন ক্রিকেটার ও নির্বাচক, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ) এসে জিজ্ঞেস করেন, কী ট্রেনিং করালি। আমি জগিং করিয়েছি বলাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সৌরাশিস একবারও বললেন না যে, উনি আমাকে এটা করাতে বলেছিলেন। উল্টে আমাকে অপমান করেন। সৌরাশিস মিথ্যুক। আমদাবাদ থেকে ফেরার পরই আমি ইস্তফা দিই। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।'
পদত্যাগপত্রে কি সৌরাশিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন? অঙ্কুর বললেন, 'না। সেখানে পেশাগত ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছিলাম।' তাহলে ঘটনার ৯ মাস পরে লিখিত অভিযোগ করছেন কেন? আরও আগে কেন সিএবি-তে অভিযোগ জানাননি? অঙ্কুর বললেন, 'সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আমার আদর্শ। কোচের পদ থেকে বাদ পড়ার পর সৌরভের বিরুদ্ধে সৌরাশিস কথা বলেছিলেন দেখে খারাপ লাগে। সিএবি-র বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। তারপরই আমি জ্যাকদার সঙ্গে (সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ী) যোগাযোগ করি। জ্যাকদা বিকেলে সিএবি-তে আসতে বলে। সেই মতো যাই।'
ঘটনা হচ্ছে, যে সৌরাশিসের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করছেন অঙ্কুর, তাঁর সঙ্গে সেই ঘটনার পর নিরন্তর যোগাযোগ রেখে গিয়েছেন। নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ করেছেন। শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সব তিক্ততা ভুলে যাওয়ার জন্য অনুরোধও করেছেন। ক্ষমা চেয়েছেন। যার প্রমাণ রয়েছে এবিপি লাইভ বাংলার হাতে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হতেই কথার খেই হারালেন অঙ্কুর। সদুত্তর দিতে পারলেন না। শোনা গেল, অঙ্কুর যে ভেতর ভেতর সৌরাশিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, সেটা সিএবি কর্তারাও জানেন। সিএবি-র শাসক গোষ্ঠীরই কেউ কেউ বলছেন, এ তো আত্মঘাতী গোল খাওয়ার সমান!
সৌরাশিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অঙ্কুরের অভিযোগ নিয়ে বললেন, 'হাস্যকর অভিযোগ। এটা নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভাল। ওর কাছে ইয়ো ইয়ো টেস্ট নিয়ে জানতে চাওয়ায় বলতেই পারেনি। ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে কিছুই জানত না। আমি ওকে শেখার সুযোগ দিয়েছিলাম। বাকিটা আর বলছি না। প্রয়োজন পড়লে বলব। ও যে ভুল করেছে, সেটা নিজেও জানে। আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে মেসেজ করেছিল। ফোন করেছিল। আমার হোয়াটসঅ্যাপে সব জ্বলজ্বল করছে। প্রয়োজন পড়লে সেগুলো প্রকাশ্যে আনব।'




















