Mohammed Shami: শামিকে ভারতীয় দলে ফেরাও, অজয়-শিবসুন্দরদের দেখে স্লোগান, কী জবাব দিলেন জাতীয় নির্বাচক?
BCCI: কল্যাণীতে বাংলা বনাম জম্মু ও কাশ্মীর সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখতে এসেছেন দুই জাতীয় নির্বাচক - অজয় রাত্রা ও শিবসুন্দর দাস।

সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: তিনি যখন বল করছিলেন, মনে হচ্ছিল বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে নয়, যেন পারথে খেলা হচ্ছে। বাকিরা বল করার সময় অবশ্য বাইশ গজের অন্য চেহারা।
তিনি, মহম্মদ শামি। জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের উপেক্ষার জবাব দিচ্ছেন বল হাতে। রঞ্জি ট্রফিতে ৭ ম্যাচে ৩৬ উইকেট। জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কেরিয়ারের সেরা বোলিংটা করলেন। ৯০ রানে ৮ উইকেট নিয়ে একাই ভাঙলেন জম্মু কাশ্মীরের প্রতিরোধ। প্রথম শ্রেণির কেরিয়ারে এর আগে তাঁর সেরা বোলিং ছিল ৭৯/৭। নিজের রেকর্ড নিজেই ছাপিয়ে গেলেন। একমাত্র তিনি বল করার সময়ই মনে হচ্ছিল, প্রত্যেক বলে উইকেট পেতে পারেন। ৩৫ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কেরিয়ারের সেরা বোলিং করলেন শামি।
সোমবার তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ১৩-২-৬০-৩। মঙ্গলবার তাঁর ফিগার ৯.১-১-৩০-৫। প্রথম স্পেলে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্পেলে নিলেন ২ উইকেট। সব মিলিয়ে তাঁর বোলিং ফিগার ২২.১-৩-৯০-৮। বাংলার বাকি বোলাররা ৫৪ ওভার বল করে তুলেছেন ২ উইকেট!
শামির আগুনে বল দেখে উচ্ছ্বসিত কল্যাণীতে ম্যাচ দেখতে আসা শ'চারেক ক্রিকেটপ্রেমী। সেমিফাইনালে শামির পারফরম্যান্স দেখে জাতীয় দলে তাঁকে ফেরানোর দাবি উঠল। দাবি উঠল জোরালভাবে। আর সেই দাবি তোলা হল খোদ জাতীয় দলের নির্বাচকদের সামনে! সরাসরি শোনানো হল, 'শামি ভাইকে জাতীয় দলে ফেরাও।' কেউ বললেন, 'ভারতীয় দলে ফিরতে আর কী করতে হবে!'
তাঁর ফিটনেস নিয়ে নাকি সংশয় রয়েছে। যে কারণে ভারতীয় দলে তাঁকে নেওয়া হচ্ছে না। অন্য কেউ নয়, খোদ জাতীয় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগরকর সেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। রঞ্জি ট্রফিতে নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন শামি। অজিত আগরকরের উদ্দেশে মরশুমের শুরুতে বার্তাও দিয়েছিলেন। শামি বলেছিলেন, 'আমি ফিট কি না সেটা দেখার জন্য লোক রয়েছে। আমি বলতে যাব নাকি!'
পরে জাতীয় নির্বাচক রুদ্রপ্রতাপ সিংহ বাংলা বনাম গুজরাত ম্যাচের সময় ইডেনে এসে শামির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে যান। মনে করা হয়েছিল, এবার হয়তো শিকে ছিঁড়বে। কিন্তু লাভ হয়নি। জাতীয় দলের দরজা খোলেনি।
কল্যাণীতে বাংলা বনাম জম্মু ও কাশ্মীর সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখতে এসেছেন দুই জাতীয় নির্বাচক - অজয় রাত্রা ও শিবসুন্দর দাস। জম্মু ও কাশ্মীর ইনিংস শেষ হওয়ার পর তখন জাতীয় নির্বাচকেরা মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন। কল্যাণীর জনতা তাঁদের সামনা সামনি দেখেই বলে উঠল, 'এবার শামিকে ভারতীয় দলে নিন। আর কত প্রমাণ করবে নিজেকে!'
জনতার সম্মিলিত দাবি শুনে কিছুটা থমকালেন দুই নির্বাচক। তারপর অজয় রাত্রা হাত জোড় করে ক্রিকেটপ্রেমীদের বললেন, 'প্রণাম।'
শামির ভাগ্যের চাকা কি ঘুরবে এবার?




















