Ranji Trophy: এই হারের পর অজুহাত চলে না, নতুন প্লেয়ার উঠছে কই! রঞ্জিতে বাংলার বিপর্যয়ে ক্ষুব্ধ অরুণ লাল
Arun Lal: ক্রিকেটার তুলে আনার লক্ষ্যে সিএবি ভিশন ২০২০ প্রকল্প নিয়েছিল। পরে সেটা বর্ধিত হয়ে ভিশন ২০২৮ হয়েছে। তবে অরুণ লালের আক্ষেপ, 'এরপরেও বাংলা ক্রিকেটের সাপ্লাই লাইন সেভাবে তৈরি হয়নি।'

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা এবার ঘুচবে, স্বপ্ন দেখেছিল গোটা বাংলা। সুদূর কল্যাণীতে ম্যাচ দেখতে দূর দূরান্তর থেকে হাজির হরয়ে যেতেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু সকলকে এক রাশ হতাশা উপহার দিল বাংলা ক্রিকেট দল। রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) সেমিফাইনালে খাতায়-কলমে দুর্বল জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে নিজেদের ঘরের মাঠে ৬ উইকেটে সেমিফাইনাল ম্যাচ হেরে বিদায় নিল বাংলা।
যে পারফরম্য়ান্স দেখে হতবাক অরুণ লাল। ১৯৮৯-৯০ মরশুমে বাংলার শেষ রঞ্জিজয়ী দলের অন্যতম তারকা অরুণ খেলেছেন ভারতের হয়েও। বাংলা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে কোচিংও করান। সেমিফাইনালে বাংলা হেরে যাওয়ার পর অরুণ লাল বলছিলেন, 'খুব হতাশাজনক ফলাফল হল। এবার যেরকম গ্রুপ পেয়েছিল, বা নক আউটের প্রতিপক্ষ যারা ছিল, আমি বড় কিছুর আশা করেছিলাম।'
বারবার নক আউটে এসে স্বপ্নভঙ্গ, কোথায় পিছিয়ে পড়ছে বঙ্গ ক্রিকেট? অরুণ লাল বলছেন, 'আমি জানি না সমস্যা কোথায় হচ্ছে। প্রায় সাত বছর হয়ে গিয়েছে একই আছে এই দল। কোনও চেঞ্জ নেই। একটা সুদীপ কুমার ঘরামি ছাড়া নতুন কেউ আসেনি। সঙ্গে একটা অভিষেক পোড়েল ও একটা শাকির হাবিব গাঁধী। দলের সাপ্লাই লাইন ভাল নয়। ফিডার কমে গিয়েছে। বেঞ্চ স্টেংথ কমে গিয়েছে। নতুন ছেলে বেরচ্ছে না।'
ক্রিকেটার তুলে আনার লক্ষ্যে সিএবি ভিশন ২০২০ প্রকল্প নিয়েছিল। পরে সেটা বর্ধিত হয়ে ভিশন ২০২৮ হয়েছে। তবে অরুণ লালের আক্ষেপ, 'এরপরেও বাংলা ক্রিকেটের সাপ্লাই লাইন সেভাবে তৈরি হয়নি। ওই জায়গাটায় আরও মনোযোগ দিতে হবে। স্থানীয় লিগ কেমন চলছে, দ্বিতীয় ডিভিশনের খেলা কেমন চলছে, সেখানে গুরুত্ব দিতে হবে।'
অরুণ লাল আরও বলেছেন, '২-৩ বছর হয়ে গিয়েছে আমি দলের সঙ্গে যুক্ত নেই। আমি জানি না কী সমস্যা হচ্ছে। তবে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেটারেরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে। বাংলা সেখানে হোঁচট খাচ্ছে। আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি। তুমি হেরেছো মানে তুমি জেতার যোগ্য নও। আর কোনও অজুহাত চলে না। তুমি জেতার মতো ক্রিকেট খেলোনি। প্রাথমিক ব্যাপারগুলোয় জোর দিতে হবে।'
অন্ধকার কাটবে কবে? কীভাবে? অরুণ লালের পরামর্শ, 'ভারত যদি টেস্টে ভাল না করে, তাহলে রঞ্জি ট্রফির দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। সেভাবেই রঞ্জিতে বাংলা ভাল না করলে স্থানীয় লিগে আরও গুরুত্ব দিতে হবে সিএবিকে।'
বলা হচ্ছে, কল্যাণীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ভরাডুবিই বাংলার ব্যর্থতার কারণ। একটা খারাপ সেশনে ম্যাচ বেরিয়ে গিয়েছে, দাবি করছেন কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। রঞ্জি ট্রফি জয়ী অরুণ লাল মানছেন না। বলছেন, 'একটা সেশন খারাপ যায়নি, পুরো ম্যাচ খারাপ খেলেছে বাংলা। প্রথম ইনিংসে একজন দেড়শো করল আর বাকি দশজন মিলে করল দেড়শো রান! ভাল উইকেট, ব্যাটিং করা যেখানে কঠিন নয়, সেখানে দুবার ব্যর্থ হচ্ছো, এটা মানা যায় না। এরকম হলে তো ভাবতে হয়।'




















