Ranji Trophy: কুৎসিত ব্যাটিংয়ে ৯৯ রানে শেষ দ্বিতীয় ইনিংস, হারের আতঙ্ক বাংলা শিবিরে, অলৌকিকের প্রার্থনা
Bengal Vs J&K: কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালের তৃতীয় দিনের শেষে হারের আতঙ্ক বাংলা শিবিরে। অলৌকিক কিছু না হলে লজ্জা এড়ানো যাবে না।

সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: হতে পারত উৎসব। তার বদলে দেখা গেল শ্মশানের নীরবতা। অষ্টমীর সকালের উন্মাদনা থাকতে পারত। পরিবর্তে দেখা গেল বিসর্জনের পরের বিষণ্ণতা।
কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) সেমিফাইনালের তৃতীয় দিনের শেষে হারের আতঙ্ক বাংলা শিবিরে। অলৌকিক কিছু না হলে লজ্জা এড়ানো যাবে না। খাতায় কলমে দুর্বল জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ধ্বংসের পথে বাংলার ফাইনালের স্বপ্ন।
একটা সেশনের জঘন্য ক্রিকেট খেলে গোটা মরশুমের পরিশ্রম আর সাফল্য জলাঞ্জলি দিল বাংলা। কল্যাণীতে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পরেও দ্বিতীয় ইনিংসে ফের বেরিয়ে পড়ল বঙ্গ ক্রিকেটের কঙ্কালসার চেহারা। মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে গেল বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। লাঞ্চের পর, বেলা ১২.০৬ মিনিটে শুরু হয়েছিল বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। ২৫.১ ওভারে যখন মহম্মদ শামি ফিরলেন, ঘড়িতে বাজে ৩.০৭। ২ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের হারাকিরিতে শেষ হতে চলেছে বাংলার সযত্নে লালিত ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন! জম্মু ও কাশ্মীরের সামনে ম্যাচ জেতার জন্য মাত্র ১২৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলা। তৃতীয় দিনের শেষে জম্মু ও কাশ্মীরের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর ৪৩/২। ফাইনাল থেকে আর ৮৩ রান দূরে তারা।
দিনের শুরুটা ভালভাবেই করেছিল বাংলা। শুরুতেই পরপর তিন উইকেট তুলে নেন শামি। তবে তার পরেও নবম উইকেটে ৬৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে বাংলা শিবিরে থরহরিকম্প বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন আকিব নবি ও যুদ্ধবীর সিংহ। শেষ পর্যন্ত তাঁদেরও ফেরান শামি। ৩২৮ রানের জবাবে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩০২ রানে। ২৬ রানের লিড পায় বাংলা। শামি ৯০ রানে আট উইকেট নিলেন। প্রথম শ্রেণির কেরিয়ারে প্রথমবার ইনিংসে আট শিকার ডানহাতি ফাস্টবোলারের। তাঁর স্ফূলিঙ্গ দেখে তখন ম্যাচ দেখতে আসা শ'পাঁচেক ক্রিকেটপ্রেমীও রোমাঞ্চিত।
কিন্তু সেই স্ফূলিঙ্গ দাবানলে পরিণত হল না। চূড়ান্ত ব্যর্থ বাংলার ব্যাটিং। দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়ে গেল মাত্র ২৫.১ ওভারে। ৯৯ রানে। কাকে ছেড়ে কার কথা লেখা হবে?
সুদীপ চট্টোপাধ্যায় একটা সময় জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়তেন। পরে হারিয়ে যান। রঞ্জি সেমিফাইনালের দুই ইনিংসেই করলেন ০! অভিমন্যু ঈশ্বরণ জাতীয় টেস্ট দলে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। জবাব দেওয়ার মঞ্চ ছিল রঞ্জি সেমিফাইনাল। যেখানে ম্যাচ দেখতে হাজির দুই জাতীয় নির্বাচক।
কিন্তু, বাংলার অধিনায়কের বিরুদ্ধে বরাবরের অভিযোগ, বড় ম্যাচের প্লেয়ার নন। সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে পারলেন না অভিমন্যু। প্রথম ইনিংসে ৪৯ করলেও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ রানে আউট। সুদীপ কুমার ঘরামিকে বাংলার নতুন ক্রাইসিস ম্যান বলা হচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ২৯৯ করেছিলেন। সেমিফাইনালের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় ইনিংসে খাতা খুলতে পারলেন না। অনুষ্টুপ মজুমদার ছন্দে নেই। সেমিফাইনালে দুই ইনিংসে করলেন ১৪ ও ১২। সূরয সিন্ধু জয়সওয়ালকে বাংলা পেসার অলরাউন্ডার হিসাবে তৈরি করতে চাইছে। বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৮ ওভারে ৩৯ রান দিয়েছেন। ব্যাটে করলেন ০ ও ১৪। শাকির হাবিব গাঁধী উইকেটকিপার হলেও পারফরম্যান্স গোলকিপারের চেয়েও খারাপ। বল ধরেন কম, ফেলেন বেশি। ব্যাটে? প্রথম ইনিংসে ৪, দ্বিতীয় ইনিংসে ১০। সুমন্ত গুপ্ত প্রথম ইনিংসে লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ। শাহবাজ আমেদও পারলেন না।
জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার আকিব নবি প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে নিলেন ৪টি। তাঁকে যেভাবে সামলালেন বাংলার ব্যাটাররা, মনে হল জিমি অ্যান্ডারসনকে খেলছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে জম্মু-কাশ্মীরের পেসার সুনীল কুমার নিলেন ৪ উইকেট। আলাদা কী করলেন নবি? বাংলার এক ক্রিকেটার বললেন, 'বল দুদিকে স্যুইং করাচ্ছিল। জায়গায় বল করছিল। আমাদের শামি ছাড়া কেউই সেটা পারেনি।' দলের সঙ্গে যুক্ত আর একজনের আক্ষেপ, 'আমাদের ব্যাটাররা সোজা ব্যাটে খেলতে না পারলে আর কী হবে!'
বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল কোনও মন্তব্য করেননি। বললেন, 'যা বলার কাল বলব।' তবে দিনের খেলার শেষে বাংলার ড্রেসিংরুমে যেরকম থমথমে ছবি, যেন প্রিয়জন হারানোর শোক। কেউ কেউ তো বলাবলি শুরু করলেন, ১২৬ রান হাতে নিয়েও ফিল্ডিং করতে নামার সময় বাংলার ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষাতেই যেন হার লেখা ছিল। এত আতঙ্ক কীসের? কেন মরিয়া ভাব থাকবে না যে, আ দেখে জ়ারা, কিসমে কিতনা হ্যায় দম?
কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হল আকাশ দীপ জম্মু-কাশ্মীরের দুই ওপেনারকে দ্রুত ফেরানোয়। ১২/২ স্কোর থেকে অবিচ্ছেদ্য তৃতীয় উইকেটে ৩১ রান যোগ করেছেন শুভম পুণ্ডির ও বংশজ শর্মা। বাংলা শিবিরের কেউ কেউ বলছিলেন, ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা। কে বলতে পারে বুধবার প্রথম সেশনে শামি-আকাশরা ম্যাজিক করবেন না!
জম্মু-কাশ্মীর শিবির যা শুনে হাসছে। প্রতিপক্ষকে ভুল প্রমাণ করতে পারবে বাংলা? কল্যাণীতে থ্রিলার উপহার দিয়ে বদলে দেবে পুরো চিত্রনাট্য? বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রার্থনা শুরু করেছেন।




















