Ishan Kishan: বোনকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে ফাইনাল খেলেছিলেন, বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে নজির ঈশানের
Indian Cricket Team: রাঁচির বাঁহাতি এই ব্যাটারই টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটে বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে পাঁচশো রানের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন ২০২৬ সালে।

রাঁচি: গত বছর ভারতীয় টি-টোয়েন্টি (T20 Cricket) স্কোয়াডের ভাবনাতেই ছিলেন না তিনি। অধিনায়ক হিসেবে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জয় ও সেই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পরই ছবিটা বদলে যায়। কিন্তু এই বছরের শুরু থেকেই প্রথমে কিউয়িদের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজে ও পরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। এবার নতুন এক রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়ে ফেললেন ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan)।
রাঁচির বাঁহাতি এই ব্যাটারই টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটে বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে পাঁচশো রানের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন ২০২৬ সালে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পারফরম্য়ান্সের পর ব্যাটারদের তালিকায় বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাটারও হয়ে গিয়েছেন ঈশান। চলতি বছরের শুরুতে কিউয়িদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল। সেই সিরিজে আমদাবাদেই ম্য়াচে ৪৩ বলে ঝোড়ো ১০৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ঈশান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দুশো রান করে ফেলেছিলেন এই বাঁহাতি। মেগা টুর্নামেন্টে বাকি তিনশো রানের গণ্ডি পেরিয়ে যান।
এরপর ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঈশান ৩১৭ রান ঝুলিতে পুরেছেন। টুর্নামেন্টে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক তিনিই। সঞ্জু স্যামসনের পরই। এখনো পর্যন্ত চলতি বছরে ১৩ ইনিংসে এই ফর্ম্য়াটে ৫৩২ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১৮৫-র ওপরে। ফাইনালে কিউয়িদের বিরুদ্দে ২৫ বলে ঝোড়ো ৫৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও তিনটি ক্যাচ লুফেছিলেন তিনি।
শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ঈশান কিষাণকে সেন্ট্রাল চুক্তি থেকেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি হারিয়ে যাননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর তিনি ভারতীয় দলে জায়গা ফিরে পান। এখন তিনি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। ঈশান নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ২৫ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৫৪ রান করেন। কিন্তু অনেকে জানেন না যে, এর মাত্র ২ দিন আগেই ঈশানের পরিবারে ২ জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল!
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে নামার আগের দিন এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঈশান কিষানের খুড়তুতো বোন এবং ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়। এই বড় দুর্ঘটনার পরেও ঈশান দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন । তিনি তাঁর খেলা দেখে বুঝতেই দেননি যে, তিনি এত বড় মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের জেদ চেপে মাঠে নেমেছিলেন ও দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন।



















