T20 World Cup 2026: 'আপনিই শিখিয়েছিলেন কর্তব্য সবার আগে', সদ্য প্রয়াত বাবার উদ্দেশে আবেগঘন পোস্ট বিশ্বজয়ী রিঙ্কুর
Rinku Singh: বিশ্বকাপ চলাকালীন বাবা খাচন্দ্র সিংহের মৃত্যুর পরের দিনই রিঙ্কু সিংহ ভারতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেন।

নয়াদিল্লি: সপ্তাহান্তে নাগাড়ে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতীয় দল (Indian Cricket Team)। ইতিহাস ভেঙে, নতুন ইতিহাস গড়েছেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা। প্রথমবার বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে উঠেছে রিঙ্কু সিংহেরও (Rinku Singh)। তবে এই আনন্দের মুহূর্তেও রিঙ্কু বেশ খানিকটা দুঃখীও বটে। বিশ্বকাপের মাঝেই তাঁর অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। রিঙ্কুর বাবা খাচন্দ্র সিংহ ভারতের শেষ সুপার এইট ম্যাচের আগেরদিনই পরলোক গমন করেন।
রিঙ্কু অসাধারণ পেশাদারিত্ব দেখিয়ে সেই সময় কিছুই বলেননি, লেখেননি, বরং বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে সরাসরি দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তব এবার বিশ্বজয়ের পরে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বাবার উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তা লিখলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। রিঙ্কু নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'কখনও এতগুলি দিন আপনার সঙ্গে কথা না বলে থাকিনি। জানি না আপনাকে ছাড়া আমার জীবন কীভাবে কাটবে, তবে এটুকু জানি যে আমার প্রতি পদক্ষেপে আপনাকে প্রয়োজন।'
রিঙ্কু লেখেন তাঁর বাবাই তাঁকে শিখিয়েছেন যে কর্তব্য সবার আগে, আর সেই কারণেই তিনি মাঠে ফিরে নিজের কর্তব্য পালনে ব্রত হত। 'আপনিই শিখিয়েছিলেন যে কর্তব্য সবার আগে। তাই জন্যই মাঠে আপনার স্বপ্নপূরণ করার প্রচেষ্টা করছিলাম। এখন যখন আপনার স্বপ্ন পূরণ হয়ে গিয়েছে, তখন খালি মনে হচ্ছে যে আপনি যদি এই সময় আমার সঙ্গে থাকতেন। আপনাকে অনেক মিস করব বাবা। অনেক অনেকটা।' আবেগঘন বার্তায় লেখেন রিঙ্কু।
View this post on Instagram
রিঙ্কু সিংহের বাবা খাচন্দ্র সিংহ চতুর্থ পর্যায়ের লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। বাবার শেষ সময়ে তাঁকে দেখতে জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগেই বাড়ি উত্তরপ্রদেশে রওনা দিয়েছিলেন রিঙ্কু। গ্রেটার নয়ডার যথার্থ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রিঙ্কুর বাবা। সূত্রের খবর, বছর খানেক আগে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন রিঙ্কুর বাবা খাচন্দ্র সিংহ। গত এক বছরে বারবার অবস্থার অবনতি হয়েছে। সমস্যা বাড়তে বাড়তে স্টেজ ফোর-এ পৌঁছে যায়। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তাঁকে গ্রেটার নয়ডার এনসিআর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল।
মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ও কন্টিনিউয়াস রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিতে ছিলেন রিঙ্কুর বাবা। শুক্রবার সকালে ওই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় খানচন্দ্র সিংহের। রিঙ্কুর বাবা ভেন্টিলেটর সাপোর্টেই ছিলেন শেষ কয়েকদিন। রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিও দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু সেই চেষ্টাও সফল হয়নি। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রিঙ্কুর বাবা। সেই শোক বুকে নিয়েই দলে যোগ দিয়েছিলেন রিঙ্কু। বাবার স্বপ্নপূরণ করে অবশেষে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটল তাঁর।



















