IND vs WI: চার-ছক্কার ঝড়, নাকি বোলারদের দাপট? কী রহস্য থাকছে ইডেনের বাইশ গজে?
T20 World Cup 2026: এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে যেন উলটপুরাণ! কোনও কোনও দিন ডেভিড মিলার, অভিষেক শর্মা, হার্দিক পাণ্ড্য, শিমরন হেটমায়াররা তাণ্ডব চালাচ্ছেন বটে, তবে ১৬০-১৮০ স্কোরও অনেক সময় ম্যাচ জেতাচ্ছে।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: টি-২০ মানেই ধুন্ধুমার ব্যাটিং। চার-ছক্কার বন্যা। শেষ ওভারে ২৯ রান চাই? কুছ পরোয়া নহী। পাঁচ বলে পাঁচ ছক্কা মেরে ম্যাচ খতম করে দেবেন রিঙ্কু সিংহ। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ ওভারে হাতে ১৯ রানের পুঁজি, বোলারের নাম আবার বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার বেন স্টোকস? ডরনা মানা হ্যায়। কোনও এক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট এসে পরপর চার ছক্কা মেরে ইংল্যান্ড শিবিরকে গুঁড়িয়ে দেবেন।
অথচ এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে যেন উলটপুরাণ! কোনও কোনও দিন ডেভিড মিলার, অভিষেক শর্মা, হার্দিক পাণ্ড্য, শিমরন হেটমায়াররা তাণ্ডব চালাচ্ছেন বটে, তবে ১৬০-১৮০ স্কোরও অনেক সময় ম্যাচ জেতাচ্ছে। স্পিনারদের বল ব্যাটে আসছে না। ঘুরছে। লাফাচ্ছে। এমনকী, যে ইডেন গার্ডেন্সে পিচের চরিত্র বদলে গিয়েছে, এখন দুশো রানও যেখানে জলভাত, সেই মাঠে চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে দশ ইনিংসে দুবার মোটে দুশো পেরিয়েছে স্কোর।
রবিবার এই ইডেনেই ভারতের ভাগ্যপরীক্ষা। টি-২০ বিশ্বকাপের ফর্ম্যাট বলছে, গ্রুপ পর্বের পর সুপার এইট। সেখান থেকে দুই গ্রুপের সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দুটি কর দল যাবে সেমিফাইনালে। রবিবার ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচকে অবশ্য ঠিক সুপার এইটের মাপকাঠিতে মাপা যাচ্ছে না। এই ম্যাচ কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। যারা জিতবে, শেষ চারের টিকিট পাকা। যারা হারবে, বিদায় নেবে বিশ্বকাপ থেকে।
আর এই মহারণের আগে চর্চায় ইডেন গার্ডেন্সের পিচ। টি-২০ বিশ্বকাপে ইডেনে কখনও হারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। ২০১৬ সালে সেই মায়াবী রাত। টি-২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এই মাঠেই। চলতি বিশ্বকাপের দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয়। রবিবার ইডেনের পিচ কেমন হবে? দেখে কী বুঝলেন?
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কোচ ড্যারেন স্যামি প্র্যাক্টিসের শেষে বললেন, 'আমরা উইকেট দেখেছি। কেমন আচরণ করতে পারে, তার ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে প্রথমে ব্যাটিং করব না বোলিং, সেটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। প্রথম কয়েকটা ওভার দেখে বোঝা যাবে পিচ কেমন আচরণ করবে, সেটা ব্যাটিংয়ে হোক কিংবা বোলিংয়ে। কত রান এই উইকেটে ভাল স্কোর হবে, সেটা শুরুর কয়েকটা ওভার দেখে বুঝতে পারব। পিচ বোঝা যায় ম্যাচ শুরু হলে তবেই। তার আগে পরিসংখ্যান, প্রত্যাশা যাই থাক না কেন।'
সূর্যাস্তের পর এখনও হাল্কা শীতের আমেজ থাকছে শহরে। সেই সঙ্গে থাকছে শিশির। নৈশালোকের ম্যাচ মানে শিশির সমস্যা সামলাতে হবে। বিশেষ করে পরে ফিল্ডিং করা দলকে। কোনও আলাদা প্রস্তুতি? স্যামি মজা করে বলছেন, 'আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে বল শুকনো থাকে। সেটাই আসল। টস ম্যাচে ৫০-৫০ প্রভাব ফেলতে পারে।'
ওয়েস্ট ইন্ডিজ় শিবির শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্র্যাক্টিস করল। স্যামি বললেন, 'যেভাবে ছেলেরা প্রস্তুতি নিয়েছে, আমি নিশ্চিত ওরা মাঠে নিজেদের উজার করে দেবে।'
ইডেনের পিচ থেকে স্পিনাররা যে সাহায্য পেতে পারেন, সেই ইঙ্গিত পেয়েছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় - দুই শিবিরই। উইকেট শুকনো। সঙ্গে কড়া রোদ পেয়েছে। তবে ভারতের হাতে বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর পটেলরা থাকলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় শিবিরেও রয়েছেন গুদাকেশ মোতি, আকিল হোসেনরা। আবার পিচে রয়েছে হাল্কা ঘাসও। পেসাররাও শুরুর দিকে বাউন্স পাবেন বলে দাবি কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের।
চার-ছক্কার খেলার লাগাম না বোলাররদের হাতে উঠে যায়।




















