Rinku Singh: গোটা দল রিঙ্কুর পাশে, পিতৃশোক ভুলে মাঠে নেমে পড়বেন? কী ইঙ্গিত দিলেন ভারতীয় দলের কোচ?
T20 World Cup 2026: বাবার অন্ত্যেষ্টি মিটিয়েই কলকাতায় দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে খেলতেও প্রস্তুত তিনি।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: পিতৃশোক ভুলে মাঠে নেমে দলের হয়ে লড়াই! ভারতীয় ক্রিকেটে এমন নজির একাধিক রয়েছে। বাবার শেষকৃত্য সেরে দলে ফিরে কিনিয়ার বিরুদ্ধে সচিন তেন্ডুলকরের সেঞ্চুরি ও আকাশের দিকে চেয়ে নীরব সেলিব্রেশন ভারতীয় ক্রিকেটে রূপকথা হয়ে রয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পরেও দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলেছিলেন বিরাট কোহলি। সেই কাহিনিও কম রোমাঞ্চকর নয়।
এবার কি সেই পথে হেঁটে বাবার মৃত্যুশোক কাটিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে মাঠে নেমে পড়বেন রিঙ্কু সিংহ?
মৃত্যুর সঙ্গে যখন পাঞ্জা লড়ছিলেন রিঙ্কুর বাবা খানচন্দ্র সিংহ, বিশ্বকাপের ফাঁকেই হাসপাতালে বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটার। গ্রেটার নয়ডার হাসপাতাল থেকে চেন্নাইয়ে ভারতীয় দলে যোগও দিয়েছিলেন। কিন্তু চেন্নাইয়ে ভারত বনাম জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচের পরই প্রবল ধাক্কা খান কলকাতা নাইট রাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএলে খেলা ক্রিকেটার। ক্যান্সারের সঙ্গে জীবনযুদ্ধে হার মানেন রিঙ্কুর বাবা। শেষকৃত্যের জন্য উত্তর প্রদেশে ফিরে গিয়েছিলেন রিঙ্কু।
বাবার অন্ত্যেষ্টি মিটিয়েই কলকাতায় দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে খেলতেও প্রস্তুত তিনি। রিঙ্কুর পারিবারিক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, হাসপাতালে যখন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন খানচন্দ্র, ছেলেকে দেখে শেষ ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন। কী ছিল সেই ইচ্ছে?
'তু যা, দেশকো পহলে দেখ।' বাংলা করলে দাঁড়ায়, 'তুই যা, দেশকে আগে দেখ।'
বাবার সেই ইচ্ছেপূরণের জন্যই সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচের আগে শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছে যাচ্ছেন রিঙ্কু। ভারতীয় দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে বলছিলেন, 'গোটা দল রিঙ্কুর পাশে রয়েছে। ওর খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। ও এখনও দলের সঙ্গে যোগ দেয়নি। আজ সন্ধেবেলা কলকাতায় পৌঁছনোর কথা। ওর জন্য ভালবাসা আর সমর্থন রয়েছে গোটা দলের।'
ম্যাচে কি খেলবেন রিঙ্কু? ইডেন যে তাঁর ঘরের মাঠ। কেকেআরের জার্সিতে বহু স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন এই মাঠে।
ভারতীয় দলের যা পূর্বাভাস, তাতে সেই সম্ভাবনা কম। জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচের দলই নামানো হতে পারে। বড় জোর একজন পেসার কমিয়ে কুলদীপ যাদবকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে, নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া রিঙ্কু। নিজেকে তৈরি রাখছেন। ম্যাচে নামিয়ে দিলেও নিজের সেরাটাই দেবেন। কে বলতে পারে বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণের জন্য নিজের সেরা ইনিংসটা ইডেনেই খেলবেন না রিঙ্কু? কে বলতে পারে, শেষ মুহূর্তের পারমুটেশন-কম্বিনেশন দেখে রিঙ্কুর জন্য জায়গা করে দেবেন না গুরু গম্ভীর?




















