SL vs PAK Match Highlights: জলে গেল শানাকার অনবদ্য ইনিংস, তবে ম্যাচ জিতেও বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান
SL vs PAK: টানটান ম্যাচে মাত্র পাঁচ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান।

পাল্লেকেল্লে: ম্যাচের ১৬তম ওভারের পরেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের বাকিটা কেবল নিয়মরক্ষার্থেই খেলা হবে। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে আজকের ম্যাচটা যে শ্রীলঙ্কার (SL vs PAK) জন্য সম্মানরক্ষারও লড়াই ছিল। আর শেষ বল পর্যন্ত সেই লড়াইটা দেখালেন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা (Dasun Shanaka)। দলকে কার্যত পরাজয়ের মুখ থেকে জয়ের দোরগোড়ায় এনে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শাহিবজাদা ফারহানের (Sahibzada Farhan) শতরানে ভর করে শ্রীলঙ্কাকে পাঁচ রানে হারাল পাকিস্তান।
অবশ্য এই ম্যাচ জিতেও বিশ্বকাপ থেকে ছিটকেই গেলেন সলমন আলি আঘারা। তৃতীয় দল হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) শেষ চারে পৌঁছে গেল নিউজ়িল্যান্ড। আর পাকিস্তান ছিটকে যাওয়াতেই ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচ আয়োজনও নিশ্চিত হয়ে গেল।
এদিন টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের আগেই এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল এই বিশ্বকাপের পরেই বাবর আজমকে টি-টোয়েন্টি দল থেকে ছেঁটে ফেলা হতে পারে। তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে দলের একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়। শুধু বাবর একা নন সাঈব আয়ুব এবং সলমন মির্জাকে দলের একাদশ থেকে বাদ দিয়েই মরণ-বাঁচন ম্য়াচে মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান।
বাবরদের বাদ দিলেও ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের অবশ্য এই ম্যাচে কোনও সমস্যাই হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বিরাট রান তোলে পাকিস্তান। সৌজন্যে শাহিবজাদা ফারহান এবং এই ম্যাচে তাঁর ওপেনিং পার্টনার ফখর জামান। দুই পাকিস্তান ওপেনার দলের হয়ে দুরন্ত ১৭৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। সেই সুবাদেই পাকিস্তান দু'শো রানের গণ্ডি পার করে। শাহিবজাদা ফারহান দুরন্ত শতরান হাঁকালেন। আর সেই ইনিংসের সুবাদেই গড়ে ফেলেন বিশ্বরেকর্ড।
ফারহানের ওপেনিং পার্টনার ফখর সেঞ্চুরি না হাঁকালেও ৮৪ রানের ইনিংস খেললেন। অবশ্য শেষের দিকে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে দলের লোয়ার মিডল অর্ডার একেবারে ব্যর্থ। ১৭৬ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৩৪ রানের ব্যবধানে পাকিস্তানের আরও সাত উইকেট পরে। শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলশান মধুশঙ্কা তিন উইকেট নেন। তা সত্ত্বেও পাকিস্তান ২১২ রান তোলে।
সামনে বিরাট রানের লক্ষ্য ছিল। শুরুটা ভাল করা অত্যন্ত জরুরি। তবে এই ম্য়াচেও বড় রান পেলেন না পাথুম নিসাঙ্কা। মাত্র তিন রানে তাঁকে আউট করেন নাসিম শাহ। তাঁর ওপেনিং পার্টনার কামিল মিশারা ভালই ব্যাট করছিলেন। তিনিও অবশ্য ২৬ রানে আবরারের শিকার হন। আবরারই চরিথ আসালঙ্কাকেও ২৫ রানে ফেরত পাঠান। লিয়ানাগে আউট হলে ১০১ রানে আধা লঙ্কান দল সাজঘরে ফিরে গিয়েছিল। তবে লঙ্কান দল হাল ছাড়েনি। দুরন্ত পাল্টা লড়াই শুরু করেন পবন রত্নায়েকে এবং শানাকা।
দুইজনে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ গড়েন। রত্নায়েকে ৩২ বলে ব্য়ক্তিহত হাফসেঞ্চুরিও পূরণ করেন। সেমিফাইনালে পৌঁছতে পাকিস্তানকে লঙ্কান দলকে ৬৫ রানে হারাতে হত। তবে রত্নায়েকে ও শানাকা সেই আশায় জল ঢেলে দেন। রত্নায়েকে ৫৮ রানে সাজঘরে ফিরলেও শানাকা লড়াই চালিয়ে যান। শেষ ওভারে ২৮ রান বাকি থাকলেও শানাকা হাল ছাড়েননি। ওভারে শাহিনের প্রথম চার বলে তিনটি ছক্কা এবং একটি চার মারেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার দর্শকরা অবিশ্বাস্য জয়ের আশা করছিলেন। তবে সেটা হল না।
শাহিনের দুই নিখুঁত ওয়াইড ইয়র্কারকে বাউন্ডারিতে পাঠাতে ব্যর্থ হন শানাকা। তিনি ৭৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে গেলেও পাঁচ রানে হারতে হয় তাঁর দলকে।




















