Sanju Samson: সঞ্জুকে মাঠেই কুর্নিশ সূর্যকুমারের, জীবনের অন্যতম সেরা দিন, বলছেন ভারতের জয়ের নায়ক
India vs West Indies: ১২ চার ও চার ছক্কায় স্যামসন ইডেনে রোশনাই ছড়ালেন। কোনও সুযোগ দেননি প্রতিপক্ষ দলকে। উইনিং শট নেওয়ার পরই হেলমেট খুলে রেখে পিচে বসে পড়লেন হাঁটু গেড়ে।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: 'দুর্দান্ত ব্যাটার। বছরের পর বছর ধরে দারুণ খেলে আসছে। তবে আজ ওর ইনিংসটা না থাকলেই ভাল হতো।' বক্তার নাম শাই হোপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের অধিনায়ক দরাজ প্রশংসা করে গেলেন।
'ভাল মানুষের সঙ্গে ভাল জিনিসই হয়। যারা অপেক্ষা করে, যাদের প্রচুর ধৈর্য। যখন খেলছিল না, দরজার ওপারে যে কঠোর পরিশ্রম করেছে, তারই পুরস্কার পেল,' ম্যাচের শেষে বলছিলেন সূর্যকুমার যাদব। বিজয়ী ভারতীয় দলের অধিনায়ক।
'কখনও এরকম মানুষ দেখিনি। আমি ওকে নেটে আগে ব্যাট করতে পাঠালে বলত, কোটা ভাই, আমি তো খেলছি না, আমাকে আগে কেন!' ভারতীয় দলের সহকারী কোচ যখন ইডেন গার্ডেন্সের ক্লাব হাউসের তিন তলায় মিক্সড জোনে এসে কথাগুলো বলছিলেন, মুগ্ধতা মাখা ছিল চোখেমুখে।
যাঁকে নিয়ে এত কথা বলা হচ্ছে, তিনি, সঞ্জু স্যামসন। প্রায় ডুবতে থাকা ভারতের ইচ্ছাকে যিনি নতুন করে বাঁচিয়ে দিলেন শুধু তাই নয়, একেবারে কাপের স্বপ্ন বুনে দিলেন। চিপকে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ইনিংস ওপেন করে ঝোড়ো ২৪ রান। ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে রেকর্ড ১৯৬ রান তাড়া করতে নেমে ৫০ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। টি-২০ বিশ্বকাপের মরণ-বাঁচন ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁচে গেল ভারত। ইডেনে টিম ইন্ডিয়ার আশা, ভরসা হয়ে জ্বলজ্বল করলেন সঞ্জু। টি-২০ বিশ্বকাপে যিনি একাদশে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। রিঙ্কু সিংহের বাবা প্রয়াত না হলে জাতীয় দলে একাদশের দরজা বিশ্বকাপে খুলত কি না, সন্দেহ রয়েছে।
১২ চার ও চার ছক্কায় যিনি ইডেনে রোশনাই ছড়ালেন। কোনও সুযোগ দেননি প্রতিপক্ষ দলকে। উইনিং শট নেওয়ার পরই হেলমেট খুলে রেখে পিচে বসে পড়লেন হাঁটু গেড়ে। তারপর আকাশের দুকে দুহাত তুলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তাঁকে মাঠেই কুর্নিশ জানালেন সূর্যকুমার। টুপি খুলে, নতমস্তকে।
ম্যাচের সেরা আর কাউকে বাছা সম্ভব ছিল না। সঞ্জু পুরস্কার হাতে নিয়ে বললেন, 'আমার জীবনের অন্যতম সেরা দিন। গোটা জীবন এই দিনটির স্বপ্নই দেখেছি। এটাই আমার কাছে গোটা পৃথিবী। যেদিন থেকে খেলা শুরু করেছি, এই দিনটিরই অপেক্ষায় ছিলাম। আমি কৃতজ্ঞ।' আরও বললেন, 'বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মতো মহান ক্রিকেটারদের সামনে থেকে দেখেছি। ডাগ আউটে বসেও অনেক কিছু শিখেছি। তারই পুরস্কার পেলাম।'




















