FIFA World Cup 2026: ফরোয়ার্ডে তারকার ছড়াছড়ি সত্ত্বেও, রেকর্ডগড়া রক্ষণভাগে ভর করেই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন
Spain Football Team: গোটা বিশ্বকাপে একমাত্র দল হিসাবে এখনও পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি স্পেন।

ডালাস: ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি ম্যানেজার স্যর অ্যালেক্স ফার্গুসনকে বলতে শোনা যেত, 'Attack wins you games, defence wins you titles' অর্থাৎ আক্রমণ বিভাগ ম্যাচ জেতাতে পারে কিন্তু খেতাব জেতায় দলের রক্ষণভাগ। চলতি বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) 'হট ফেভারিট' স্পেন যেন এই মন্ত্রটাই আত্মস্থ করে নিয়েছে। ফরোয়ার্ড লাইনে লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজ়াবাল, ফেরান তোরেস, ড্যানি ওলমোদের মতো তারকার ছড়াছড়ি, তাও চলতি বিশ্বকাপে সবথেকে বেশি নজর কাড়ছে স্পেনের (Spain Football Team) রক্ষণভাগ।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্য়াচেই লা রোহার বিশ্ববন্দিত আক্রমণভাগ যেখানে কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয়, সেখানে ব্লু শার্কদের আক্রমণভাগকেও শান্ত করে রাখেন স্পেনের ডিফেন্ডাররা। কেপ ভার্দে যে আক্রমণবিভাগে যথেষ্ট পটু এবং গোল করতে দক্ষ, তা নিজেদের পরবর্তী ম্যাচগুলিতেই প্রমাণ করে দিয়েছে তারা। এমনকী ভোজিনহার দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধেও রাউন্ড অফ ৩২-এ জোড়া গোল করেছিল। কিন্তু তারা স্পেনের রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি।
রাউন্ড ১৬-তে পর্তুগালের বিরুদ্ধে লামিন ইয়ামালরা যখন স্বভাবচিত স্প্যানিশ ঘরানার ফুটবল খেলেও গোলের দরজা খুলতে পারছেন না, তখন পাও কুবারসি, পেদ্রো পরো, আয়েমরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়ার জমাট রক্ষণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, ব্রুনো ফার্নান্ডেজ়, জাও ফেলিক্স, বার্নাডো সিলভাদের সামনেই কার্যত প্রাচীর তুলে দেন। সেই প্রাচীর ভেদ করে স্বয়ং 'সিআর ৭'-ও স্পেনের জালে বল জড়াতে পারেনি। যে উনাই সিমনের স্পেনের এক নম্বর হওয়া নিয়ে এত প্রশ্ন উঠছিল, সেই সিমনও কিন্তু প্রতি মুহূর্তে দলের প্রয়োজনে একের পর এক সেভ করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করছেন। এই জমাট রক্ষণে ভর করেই স্পেন ম্যাচে সমতা বজায় রাখে এবং শেষমেশ ইনজুরি টাইমে মিকেল মেরিনোর গোলে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে ১-০ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায়।
আরও পড়ুন:- মাঠে দুরমুশ তো করলই, শেষ আটে পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্রকে দুই শব্দে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ট্রোল করল বেলজিয়াম
শুধু কিন্তু পর্তুগাল বা কেপ ভার্দে নয়, এই বিশ্বকাপে কুবারসিদের টপকে কেউই স্পেনের জাল ভেদ করতে পারেনি। গত ম্যাচেই মিনিটের নিরিখে সর্বাধিক সময় গোল হজম না করার রেকর্ড গড়েছিলেন উনাই সিমন। এবার রাউন্ড ১৬-তে পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ফের এক বিশ্বরেকর্ড গড়ল লা রোহা। লুইস দে ফুয়েন্তের দলই বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসাবে নাগাড়ে ছয় ম্যাচে ক্লিনশিট রাখতে সক্ষম হল। এই বিশ্বকাপের পাঁচ ম্যাচের পাশাাপাশি গত বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচেও তারা মরক্কোর বিরুদ্ধে ক্লিনশিট রাখতে সক্ষম হয়েছিল, পরাজিত হয়েছিল পেনাল্টিতে। সেই ম্যাচ মিলিয়ে লা রোহা মোট ছয় ম্যাচ ও ১০ ঘণ্টা নয় মিনিট বিশ্বকাপে কোনও গোলই হজম করেনি।
ইউরো চ্যাম্পিয়নরা এই জমাট রক্ষণের সুবাদেই তড়তড়িয়ে খেতাবের দিকে এগোচ্ছে এবং প্রতি মুহূর্তে নিজেদের ফেভারিটের তকমা যে যথার্থই, তা প্রমাণ করছে। এবার দেখার দে লা ফুয়েন্তের দল ভিনসেন্ট দেল বস্কের দলের মতো টুর্নামেন্ট শেষে বিশ্বকাপ হাতে তুলতে পারে কি না।






















